somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাদিদ
তুমি আমার রাতবন্দিনী। ধূসর স্বপ্নের অমসৃণ সুউচ্চ দেয়াল তুলে তোমাকে আমি বন্দী করেছি আমার প্রিয় কালোর রাজত্বে। ঘুটঘুটে কালোর এই রাজত্বে কোন আলো নেই। তোমার চোখ থেকে বের হওয়া তীব্র আলো, আমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব জ্যোৎস্না।

ফিচার: 'সোর্ন ভার্জিন' - নারী হিসাবে অধিকার রক্ষার কলংকজনক অধ্যায়।

১৩ ই নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মুখবন্ধ:
এই পোস্টটি প্রতিযোগিতার জন্য নয় বরং সহব্লগারদেরকে ফিচার পোস্ট সম্পর্কে কিছুটা ধারনা দেয়ার জন্য প্রকাশিত। প্রবন্ধ বা আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতার চর্চা যেমন করা যায় তেমনি পড়াশোনা করার কারণে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। বর্তমান সময়ে কন্টেন্ট রাইটিং, কপি-রাইটিং খুবই চাহিদা সম্পন্ন একটি পেশা এবং ভবিষ্যতে যার চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। ভালো প্রবন্ধ বা আর্টিকেল লেখা একটি চর্চার বিষয়। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে সাধারন ব্লগারদের জন্য বেশ কিছু আর্টিকেল বা প্রবন্ধ প্রকাশ করব, যা দেখে নতুন ব্লগাররা কিছুটা হয়ত ধারনা পেতে পারেন যে ফিচার কিভাবে লেখা যায় বা লিখতে হয়।

বেশ কয়েক ধরনের ফিচার হতে পারে। যেমন তথ্য ভিত্তিক, অনুসন্ধানমুলক বা প্রতিবেদন, সমস্যা বা সমাধান ভিত্তিক ইত্যাদি। আজকে আপনাদের সামনে যে ফিচারটি উপস্থাপন করতে যাচ্ছি তা তথ্য ভিত্তিক একটি ফিচার। অনলাইন ও অফলাইন থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে সাজিয়ে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। লক্ষ্য করবেন, এই ফিচারে প্রয়োজনীয় ছবি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যঋণ ও রেফারেন্স যুক্ত করা হয়েছে। রেফারেন্স যুক্ত করাটা একটি পদ্ধতিগত ব্যাপার। যে কোন সঠিক রেফারেন্স লেখাকে শক্তিশালী করে এবং পাঠকদের আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস দেয় যে - এটা ভালো পোস্ট বা ভালো লেখা। আপনি কোন কোন সুত্র থেকে যদি হুবহু কিছু অংশ প্রকাশ করেন, তাহলে সেটা কোট করে এবং উল্লেখ্য করে দিয়ে হয়। যদি আপনি কোন প্রকাশিত আর্টিকেল বা ডকুমেন্টারী বা কোন বইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে নিজের মত করে লিখেন, সেই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য করতে হবে, 'এই লেখাটি উক্ত আর্টিকেল বা বই বা ডকুমেন্টারীর আলোকে লেখা হয়েছে। যদি কেউ হুবহু অনুবাদ করেন, তাহলে সেটা উল্লেখ করতে হবে, যে অনুবাদ করা হয়েছে। কোন ভিডিও ডকুমেন্টারী বা ভিডিও এর ভিত্তিতে লেখা হলে, সেটাও উল্লেখ্য করতে হয় যে 'উক্ত ভিডিও বা ডকুমেন্টারী থেকে ভাষান্তর বা ভাষায় রুপান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই তথ্যঋণ যুক্ত করায় লেখকের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এতে সামগ্রিক লেখাটি লিখতে লেখকের আন্তরিকতা, মেধা এবং গবেষনা করার যে সক্ষমতা তার প্রমান দেয়। ফলে তিনি পাঠকের কাছে সম্মান লাভ করেন এবং উক্ত লেখাটির স্বত্ব দাবি করতে পারেন। বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ব্লগে চোখ রাখেন এবং বাংলা ভাষার এই বিশাল তথ্য ভান্ডার ও সৃজনশীল লেখকদের আড্ডাখানা থেকে ভালো লেখক বা কপিরাইটার বা কন্টেন্ট রাইটার খুঁজেন। বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন নির্মানকারী অনেক বিখ্যাত এজেন্সী সহ অনেক নামকরা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সামহোয়্যারইন ব্লগের ব্লগাররা কন্টেন্ট রাইটার, কপি রাইটাররা মাসিক ৪০,০০০/- টাকা থেকে শুরু করে ১,৫০,০০০ টাকার বেতনে পর্যন্ত কাজ করছেন।

ফলে, আশা করি এই ফিচার প্রতিযোগিতায় ব্লগাররা অংশগ্রহন করবেন, শিখবেন এবং নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যাবেন। নিজস্ব সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবেন। সবার জন্য রইল শুভ কামনা।

চলুন এখন মুল পোস্টে যাই।


সম্পদ, নিরাপত্তা এবং প্রতিপত্তির জন্য মানুষ কত কিছুই না করে- হানাহানি, মারামারি, সমাজে উঁচু নিচু দ্বন্দ্ব আরও কত কি? কিন্তু আপনাকে যদি বলি, সম্পদ, প্রতিপত্তি, নিরাপত্তা বিশেষ করে নিজের অধিকার পাবার জন্য মানুষ তার লিঙ্গ পরিবর্তন করে? যদি সম্ভব না হয় তাহলে তারা মিথ্যে লৈঙ্গিক পরিচয় দিয়ে আজীবন বেঁচে থাকে? কিছুটা অদ্ভুত এবং অবিশ্বাস্য শোনালেও পৃথিবীতে এর নজির এখনও বিদ্যমান। আলবেনিয়া, বসনিয়া, সার্বিয়া এবং মন্টেনিয়াগো হলো তেমন কয়েকটি দেশ, যেখানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা এবং সম্পত্তির অংশিদারিত্ব পাওয়ার জন্য মিথ্যে লৈঙ্গিক পরিচয় নিয়ে আজীবন বেঁচে থাকে। এটা তাদের দেশের একটি প্রচলিত সামাজিক রীতিও বটে। একজন পুরুষ বা ছেলে সন্তান না হবার কারনে নিজের পারিবারিক সম্পত্তি, সম্মান ও অধিকার রক্ষার জন্য এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত নির্মম এবং কষ্টদায়ক। যারা দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ধরনের জীবন ব্যবস্থা বেছে নিয়ে বেঁচে আছেন, তাদেরকে বলা হয় সোর্ন ভার্জিন।

অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুসারে সোর্ন (sworn) শব্দটি মূলত ইংরেজি ‘swear’ শব্দ থেকে এসেছে। সহজ বাংলায় এর অর্থ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যখন কেউ কোন বিষয়ে শপথ গ্রহণ করে বা এমন এক প্রতিজ্ঞা যার কোন পরিবর্তন হয় না, তখন সোর্ন শব্দটা ব্যবহার করা যায়। যেমন চিরশত্রু শব্দটার ক্ষেত্রে চাইলে কেউ লিখতে পারেন - "they were sworn enemies"।

সোর্ন ভার্জিনরা মূলত নারী। তারা তাদের পরিবারের অধিকার, অংশিদারিত্ব এবং মূলত নিরাপত্তার জন্য নারী হয়েও পুরুষের জীবন ধারণ করেন। তারা কখনই কারো সাথে কোন প্রকার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করবেন না- এই মর্মে চার্চে গ্রামবাসীদের সামনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন এবং পুরুষদের মত পোশাক ধারণ করেন। সেদিন থেকে তাকে একজন পুরুষ হিসেবে মানুষ বিবেচনা করেন এবং পুরুষ হিসেবেই সম্মান প্রদান করেন। তার মাধ্যমে তার পরিবারের বাকি সদস্যদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত হয়। দেখা গিয়েছে যে সকল পরিবারে বা এলাকায় মূলত নারীর সংখ্যা বেশি সেখানে নারীদের নিরাপত্তার জন্য এই সোর্ন ভার্জিন প্রথার প্রচলন আছে। একজন নারী তাঁর জীবনের যে কোন পর্যায়ে গিয়ে শপথ নেয়ার মাধ্যমে এই দুঃখজনক জীবন বেছে নিতে পারেন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলের সুত্র অনুসারে বর্তমানে ১০২ জন সোর্ন ভার্জিনের পরিচয় পাওয়া গেলেও, তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন আরো বহু নারী। শুধু সম্পত্তির উত্তরাধিকার পেতে নয় বরং সামাজিক সহিংসতা, যৌণ নিপীড়ন, বাল্য বিবাহ ইত্যাদি ঠেকাতে অনেক নারী সোর্ন ভার্জিন হিসাবে শপথ গ্রহন করেছেন। নানান সুত্র মতে, বর্তমানে প্রায় দেড়শ থেকে দুইশ জন সোর্ন ভার্জিন বেঁচে আছেন যাদের অধিকাংশই পৌঢ় বা জীবনের শেষপ্রান্ত এ উপস্থিত।

চলুন কয়েকন সোর্ন ভার্জিনের বর্তমান ছবি দেখে আসি।




কেন সোর্ন ভার্জিন রীতি চালু হলো এবং কিভাবে একটি সমাজ সেই রীতিকে রীতিমত আইন করে বৈধতাও দিলো - এই প্রশ্নের জবাব জানতে গিয়ে বেশ কিছুটা কৌতুহলদীপ্তক তথ্য সামনে এসেছে। এই সংক্রান্ত প্রচুর ইউটিউব ভিডিও, উইকিপিডিয়ার আর্টিকেল এবং সেখানে বর্নিত বিভিন্ন সুত্র পড়ে যা বুঝলাম পুরো বিষয়টির মুলে রয়েছে নারীকে সম্পত্তি হিসাবে দেখার প্রবনতা এবং এই প্রতিষ্ঠিত সামাজিক রীতি রেওয়াজের পিছনে রয়েছে মূলত মধ্যযুগীয় গ্রিকভাষী রোমান বা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য এর প্রভাব। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও আরবের তৎকালীন সমাজে প্রচলিত কিছু রীতি রেওয়াজের প্রভাব এখানে বিদ্যমান। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রীতিনীতিগুলো ভৌগলিক দুরত্ব এর প্রভাবে ও মৌখিকভাবে সংরক্ষন করার কারনে মুল রীতি থেকে বিকৃত হয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ও সমাজে হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পাঠকদের সুবিধার্থে বিষয়টি সংক্ষিপ্ত আকারে বলছি।

আলবেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এই 'সোর্ন ভার্জিন' রীতির রেওয়াজ ছিলো। এই অঞ্চলগুলো বলকান হাইল্যান্ড হিসাবেও পরিচিত। এখানে বসবাসরত বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে অনেক নিজস্ব আইন ও রীতিনীতি ছিলো। যুগের পর যুগ ধরে বিভিন্ন গোত্র প্রধান বা বয়স্ক ব্যক্তিরা এই সকল আইনকে মুখস্ত করে টিকিয়ে রাখতেন বা অবিকৃত অবস্থায় সংরক্ষন করতেন। বিশেষ করে প্যাগানদের বিভিন্ন রীতি রেওয়াজের সাথে এই সকল ট্র্যাডিশনাল রীতি রেওয়াজের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই সব রীতিনীতি বা আইনগুলো ছিলো মুলত - বিশ্বাস, সম্মান, রক্ত, প্রতিশোধ, খাবার এবং অতিথি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের উপর। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে - নানা গোত্রের মধ্যে প্রচলিত বিভিন্ন আইন সংরক্ষন করার এই প্রক্রিয়ার সাথে ইসলামিক হাদীস সংরক্ষনের প্রাথমিক প্রক্রিয়ার সাথে বেশ মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যদি কেউ যদি ধর্মীয় প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে ইতিহাসের প্রেক্ষাপট থেকে বিষয়টি ভেবে দেখেন, তাহলে বুঝা যায়, মহানবী সাঃ এর মৃত্যূর পর বহু বছর অলিখিত থাকার ফলেও পরবর্তীতে কিভাবে হাদীস লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষন করা হয়েছে। এখানে হাদীসের বইকে একটি ঐতিহাসিক বা ইতিহাসের বই হিসাবে বিবেচনা করলে নির্মোহভাবে বিশ্লেষন বা চিন্তা করা সম্ভব।

যেহেতু এইভাবে মৌখিকভাবে সংরক্ষিত যে কোন তথ্যের বিকৃতি বা পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না, তাই এই সকল রীতিনীতিকে মোটামুটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি লিখিত ভার্সন থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই সকল রীতিনীতিকে মুলত সংরক্ষন করার কাজ শুরু করেন পাদ্রী স্টিফেন জ্যাকব (Shtjefën Gjeçovi)। (ভাষাগত কারনে যদি উচ্চারনের ভুল হয়, তাহলে অগ্রিম দুঃখ প্রকাশ করছি)।


তাঁকে আলবেনিয়ার পাহাড়ী অঞ্চলের সংস্কতি ও নৃতত্ত্বের অন্যতম সেরা গবেষক হিসাবে মনে করা হয়। পরবর্তীতে এই আলবেনিয়ার দুকাগচিনি নামক অভিজাত শাসক পরিবারের সন্তান তৃতীয় লেকে দুকাগচিনি এই নিয়ে কাজ করেন। বিভিন্ন গোত্রে প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে পুঁজি করে প্রচলিত বিভিন্ন রীতি রেওয়াজের উপর একটি তালিকা এবং কিছু নীতিমালা তৈরী করেন যা 'দ্য কানুন অফ লেকে দুকাগচিনি' হিসাবে অটোম্যান শাসক গোষ্ঠি প্রকাশ করে।


ছবিঃ লেকে দুকাগচিনি


ছবিঃ দ্য কানুন অফ লেকে দুকাগচিনি বইয়ের প্রচ্ছদ।

উল্লেখ্য, অটোম্যান সাম্রাজ্য এই আলবেনিয়া পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিলো। অটোম্যান শাসকরা তথাকথিত শরিয়া আইনের বিপরীতে বা আদলে স্থানীয় এই সকল ট্র্যাডিশনকে 'কানুন' নামে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং সর্বপ্রথম জনসমুক্ষে প্রকাশ করে। বলাবাহুল্য যে, এই দুকাগচিনি পরিবার ১৪শ এবং ১৫শ শতাব্দী জুড়ে আলবেনিয়ার উত্তরাঞ্চল শাসন করেছিলো এবং এই তৃতীয় লেকে দুকাগচিনি উত্তর আলবেনিয়ার আধুনিকায়নের কাজ করলেও তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত সামাজিক ট্র্যাডিশনকে বিলুপ্ত করেন নি বরং সেগুলোকে আইনগত ভিত্তি দিয়েছিলেন। 'সোর্ন ভার্জিন' বিষয়টিকেও তিনি বৈধতা প্রদান করেন এবং সামাজিক একটি রীতি হিসাবে স্বীকৃতি দেন তাঁর 'কানুন' নাম আইনের বইয়ের ব্যাপারে।

শুরুতে বলেছিলাম, আলবেনিয়ার এই সকল পাহাড়ি গোত্র এবং উপজাতিদের মধ্যে যে সকল রীতি রেওয়াজ প্রচলিত ছিলো তা মুলত প্রভাবিত হয়েছে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও আরবের তৎকালীন সমাজে প্রচলিত কিছু রীতি রেওয়াজ থেকে। বিশেষ করে, 'কানুন' নামক বিতর্কিত আইন বইটি পড়লে এই ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায়। যেমন কিছু আইন হচ্ছে এমন যে, নারীদের নামে কোন সম্পত্তি কেনা যাবে না। সকল সম্পত্তির মালিকানা থাকবে পুরুষদের নামে, বিয়ের পর নারীদেরকে পরিবারের সম্পত্তি হিসাবে বিবেচনা করা হবে। মুলত যুগে যুগে নারীদেরকে সম্পত্তি হিসাবে বিবেচনা করার কারনেই এই উপমহাদেশে নারীদেরকে ‘মাল’ বলা হয়। এই কানুন অনুসারে, মেয়েরা ধুমপান করতে পারবে না, ঘড়ি পড়তে পারবে না এমন কি কোন প্রকার নির্বাচন বা ভোট বা পক্ষান্তরে নিজেদের মতামত দেয়ার সুযোগ পাবে না, কিছু নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ করতে পারবে না, কিছু নির্দিষ্ট পোষাক সমাজে চলাফেরা করতে হবে সহ আরো অনেক কিছু। ধারনা করা যায় যে, এই 'কানুন' বিতর্কিত শরিয়া আইন দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে। যদিও শরিয়া আইন এবং ইসলামিক আইন একই বিষয় নয় বরং ইতিহাসের প্রেক্ষাপট থেকে বিবেচনা করে অনেক গবেষক মনে করেন, শরিয়া আইন একটি রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা যা ইসলামের নামে বৈধ করা হয়েছে।

ফলে উত্তর আলবেনিয়ার নারীদেরকে নিজেদের সম্পত্তি রক্ষা, নিজেদের জোর পূর্ব বিবাহ, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি কারনে এই সোর্ন ভার্জিনের জীবন বেছে নিতে হয়েছে। এই প্রথাটি প্রমান করে বিশ্বজুড়ে নারীদেরকে নিজেদের অধিকার রক্ষায় কতটা কষ্ট করতে হয়েছে।পৃথিবীর বহু দেশ থেকে এই বর্বর প্রথাটি প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে তবে নর্দান আলবেনিয়ায় এখনও এই চর্চাটি অল্পমাত্রায় বিদ্যমান। আনন্দের বিষয় এই অঞ্চলের নারীরা এখন আগের চাইতে নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে অনেক সচেতন এবং এই ব্যাপারটি বন্ধের জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগে প্রচারনা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, এই 'কানুন' এ বর্নিত সকল সকল আইন, আলবেনিয়ার কমিউনিস্ট নেতা এনভার হোক্সা (Enver Hoxha) কঠোর সমালোচনা এবং রাষ্ট্রিয় পুলিশ বাহিনীর সহায়তায় বন্ধ করা হয়েছে।


রেফারেন্সঃ
এই পোস্টটি লিখতে বেশ কিছু লেখা পড়তে হয়েছে। হয়ত একটি রেফারেন্স থেকে মাত্র একটি লাইন ব্যবহার করেছি। তবে সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা ইউটিউব, উইকিপিডিয়া এবং গুগল বুক কে।

১। 'কানুন' Kanun
২। দ্য কানুন অফ লেকে দুকাগচিনি - THE CODE OF LEKE DUKAGJINI বই
৩। 'লেকে দুকাগচিনি' - Lekë Dukagjini
৪। The Irish Times - sworn-virgins the fraternity women who earn male privileges in return for lifelong celibacy।
৫। দি হেরিটেইজ ডেইলি
৬। বলকান সোর্ন ভার্জিন।
৭। Qanun - কানুন।
৮। Memory and Nation Building: From Ancient Times to the Islamic State
৯। ন্যাট জিও চ্যানেল
১০। স্টোরিজ - Why These Virgin Women Live As Men
১১। এপি আর্কাইভ। ALBANIA: "AVOWED VIRGINS" WOMEN GIVEN THE PRIVILEGES OF MEN
১২। নিউইয়র্ক টাইমস
১৩। রেডিও ফ্রি ইউরোপ, রিডিও লিবার্টি।


সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০২৩ রাত ১:৫৬
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

---অভিনন্দন চট্টগ্রামের বাবর আলী পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয়ী---

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৯ শে মে, ২০২৪ দুপুর ২:৫৫





পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন বাবর আলী। আজ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন তিনি।

রোববার বেসক্যাম্প টিমের বরাতে এ তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

সকাতরে ঐ কাঁদিছে সকলে

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ১৯ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৩:২৯

সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে, শোনো শোনো পিতা।

কহো কানে কানে, শুনাও প্রাণে প্রাণে মঙ্গলবারতা।।

ক্ষুদ্র আশা নিয়ে রয়েছে বাঁচিয়ে, সদাই ভাবনা।

যা-কিছু পায় হারায়ে যায়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বসন্ত বিলাসিতা! ফুল বিলাসিতা! ঘ্রাণ বিলাসিতা!

লিখেছেন নাজনীন১, ১৯ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৪:০৯


যদিও আমাদের দেশে বসন্ত এর বর্ণ হলুদ! হলুদ গাঁদা দেখেই পহেলা ফাল্গুন পালন করা হয়।

কিন্তু প্রকৃতিতে বসন্ত আসে আরো পরে! রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া এদের হাত ধরে রক্তিম বসন্ত এই বাংলার!

ঠান্ডার দেশগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। সমাধান দিন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১৯ শে মে, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৩১




সকালে কন্যা বলল তার কলিগরা ছবি দিচ্ছে রিকশাবিহীন রাস্তায় শিশু আর গার্জেনরা পায়ে হেটে যাচ্ছে । একটু বাদেই আবাসিক মোড় থেকে মিছিলের আওয়াজ । আজ রিকশাযাত্রীদের বেশ দুর্ভোগ পোয়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে গরু দুধ দেয় সেই গরু লাথি মারলেও ভাল।

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২০ শে মে, ২০২৪ রাত ১২:১৮


০,০,০,২,৩,৫,১৬, ৭,৮,৮,০,৩,৭,৮ কি ভাবছেন? এগুলো কিসের সংখ্যা জানেন কি? দু:খজনক হলেও সত্য যে, এগুলো আজকে ব্লগে আসা প্রথম পাতার ১৪ টি পোস্টের মন্তব্য। ৮,২৭,৯,১২,২২,৪০,৭১,৭১,১২১,৬৭,৯৪,১৯,৬৮, ৯৫,৯৯ এগুলো বিগত ২৪ ঘণ্টায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×