somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাদিদ
তুমি আমার রাতবন্দিনী। ধূসর স্বপ্নের অমসৃণ সুউচ্চ দেয়াল তুলে তোমাকে আমি বন্দী করেছি আমার প্রিয় কালোর রাজত্বে। ঘুটঘুটে কালোর এই রাজত্বে কোন আলো নেই। তোমার চোখ থেকে বের হওয়া তীব্র আলো, আমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব জ্যোৎস্না।

মানসিক অস্থিরতা কি ব্লগীয় আচরণে প্রভাব ফেলে?

০৮ ই নভেম্বর, ২০২৩ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্লগার সোনাগাজীকে পর্যবেক্ষণ করে আসছি একজন সহ ব্লগার হিসাবে। একটা সময় উনি যখন তুলনামূলক স্বাভাবিক ব্লগিং করতেন, তখন অনেকেই তাঁর সূক্ষ্ম হিউমারের বেশ ভক্ত ছিলো। কিন্তু একটা সময় লক্ষ্য করলাম, তাঁর মধ্যে এক ধরনের স্বৈরাচারী মনোভাব বা 'আমিই সেরা' টাইপের একটি মানসিকতার জন্ম হলো। ব্যাস - সেই থেকে শুরু। এই অহংকার উনার ধ্বংসের মুল।

একটা সময় ব্লগে কিছু সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পোষ্টে ব্লগাররা তুলনামূলক বেশ কঠোর ভাষায় সমালোচনা করতেন। কিন্তু ২০১৬ এর পরে এই ধারা একেবারেই 'নিহত' হয়েছে। যৌক্তিক আলোচনা বা সমালোচনা বা গঠনমূলক সমালোচনা এখন দেখা যায় না। সমালোচনার জায়গায়, ছোট ভাই, বড় ভাই বা বোন ইত্যাদির হবার একটি ট্রেন্ড চলছে। মাঝে মাঝে সকাল বেলা খালি পেটে যখন ব্লগে বসি আর সমালোচনার নামে মিষ্টি ভাষায় 'কান মলে দাও' টাইপের আবদার দেখি - তখন ডায়াবেটিকসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এই ধারার মধ্যে এক সময় ব্লগার চাঁদগাজী ছিলেন যিনি মাঝে মাঝে যৌক্তিক কিছু চাছাছৌলা এবং তুলনামূলক কঠোর প্রশ্ন করে পোস্টদাতাকে বোঝাতেন - ভাই আপনি ব্লগে লিখতে এসেছেন, এটা কোন ফোরাম বা ফেসবুক না।

যেমন একবার মায়ানমার আর বাংলাদেশের মধ্যে যখন উত্তেজনা চলছে, প্রায় যুদ্ধ শুরু হবার উস্কানি দিচ্ছিলও মায়ানমার, তখন একজন ব্লগার বিশাল এক পোস্ট লিখেছিলেন, যে কিভাবে মায়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যায় বা এই ধরনের কোন একটা বিষয় নিয়ে।

ব্লগার চাঁদগাজী তাঁকে মন্তব্য করেছিলেন, আপনার পোস্টটি বার্মিজ ভাষায় লিখে, মায়ানমার এমবাসিতে পাঠিয়ে দিন। দেখবেন কিছুক্ষণ পর হাজার হাজার বার্মিজ সৈন্য সারেন্ডার করার কান্নাকাটি করছে।

আমাদের ব্লগে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ টিমের নজর প্রায় থাকে। এখন তারা পোস্ট দেন না কিন্তু তারা সবাইকেই নজরে রাখেন। একটা সময় তারা সরকারের পক্ষে প্রচুর পোস্ট দিতো। পোস্টগুলো বেশ হাস্যকর টাইপের হতো এবং সেখানে নানা ধরনের উন্নয়নের গল্প শোনানো হতো।

এমন একটি পোস্টে ব্লগার চাঁদ-গাজী গিয়ে প্রশ্ন করলেন - বুঝলাম দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। খুব ভালো কথা। দেশ উত্তরে আগাক, পশ্চিমে আগাক, পূর্বে আগাক শুধু দক্ষিণে না এগোলেই হলো কারণ দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।

আরেকবার এক ভদ্রলোক বিশাল খেঁটে খুটে পোষ্ট দিলেন যে মোনালিনার বাড়ি কোথায় আসলে? পোস্টটা আসলেই হাস্যকর ছিলো।
ব্লগার চাঁদ গাজী মন্তব্য করলেন - মোনালিসার আসল বাড়ি হলো আমাদের কুমিল্লায়। আপনি এটা বের করতে পারেন নি।


এই যে মন্তব্যগুলো - এই গুলো কি ব্যক্তি আক্রমন? এই গুলো কি কাউকে আঘাত করা? কারো পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করা? এই ধরনের অভিযোগ করলে সেটা ওভার রুলড হবে। কিন্তু কোথায় এখন এ ধরনের মন্তব্যগুলো? ব্লগার সোনাগাজীর এখনকার মন্তব্যগুলো দেখলে গা রিরি করে উঠে। মনে হচ্ছে আমি কুরিল বস্তির বাইরে টঙের দোকানে বসা কিছু অর্ধ শিক্ষিত মানুষের অশ্লীল বিতর্ক বা যুক্তি শুনছি। বা যে মানুষটা নিজের মতের বাইরে ভিন্ন কোন মতকে গ্রহণ করতে জানেন না। অধিকাংশ পোস্টে গিয়ে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া, ক্যাচাল।

কিছুক্ষণ আগে মনে হলো, একটা মানুষ শুধু শুধু এই ধরনের আচরণ করতে পারেন না। এখানে নিশ্চয় কোন কিন্তু আছে। পরে মনে হলো, আচ্ছা তিনি কি মানসিকভাবে অসুস্থ? কোন কারণে মানসিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছেন? রোগটা কি? গভীরতা কেমন?

আরো কঠোর সমালোচনা করতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু পরে ভাবলাম, একজন মানসিক অসুস্থ লোকের সমালোচনা করা যায় না। এটা উচিতও না। আমরা তাঁর মানসিক সুস্থতা কামনা করছি। আমি আশা করব, মানসিকভাবে অসুস্থ কাউকে আমরা গালমন্দ করতে পারি না।

আমার মনে হয়, উনার নিজের গণ্ডি বা ব্লগে ব্লগিং করাই সবচেয়ে শ্রেয় ও নিরাপদ। প্রথম পাতা এবং সকল ব্লগে তাঁর মন্তব্যে সুবিধার বিষয়টি আশা করি ব্লগ টিম পূর্ণ বিবেচনা করবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০২৩ রাত ১:২৯
৩৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হেদায়াত পেতে আলেম বাদ দিয়ে ওলামাকে মানুন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ সকাল ৯:১৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সহিহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্নিল

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:২৪

বালকটি একা একাই খেলতো। একদিন একটা সাইকেলের চাকার রিমের পেছনে এক টুকরো লাঠি দিয়ে ঠেলে ঠেলে মনের আনন্দে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের কাঁচা রাস্তা ধরে সে দৌড়ে বেড়াচ্ছিল। দৌড়াতে দৌড়াতে মফস্বলের রেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিক দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ুক বর্ষবরণের সৌন্ধর্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা

লিখেছেন মিশু মিলন, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ২:২৭

এই দেশ থেকে উপমহাদেশ, তার বাইরে ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা সর্বত্র আজ বাঙ্গালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব হয়ে দাঁড়াচ্ছে নববর্ষ- পয়লা বৈশাখ। বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের মাস খানেক আগে থেকে ঢাকার ছায়ানট সংস্কৃতি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:১৩



সবাই কে ঈদের সুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক। দীর্ঘ এক মাস রোযা রাখলাম। তারাবী পড়লাম। শেষ তারাবির সময় কেমন যেন মনটা খারাপ হয়ে গেলো। মনে হচ্ছিলো যেমন রোযা তাড়াতাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। গুলশানের হাই রাইজ বিল্ডিং

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১২ ই এপ্রিল, ২০২৪ রাত ৯:২৬

নিকেতন থেকে ভর সন্ধ্যায় রূপনগর ফিরছি উবের চড়ে । আজকের ফাকা শুনশান রাস্তায় গুলশান দেখা শুরু করলাম । বাহ অনেক দালান উঠেছে দুপাশে । সন্ধ্যার আলো জালানো দালানগুলো খুব চমৎকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×