ঘটনার বিবরন:
ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন বন্ধ।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেন্জ কমিশন (এসইসি) অনির্দিষ্ঠ কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করেছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই পুঁজিবাজারের লেনদেন কার্যক্রম।
পুঁজিবাজারে দরপতনে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে।
আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন শুরুর ১ ঘন্টার মধ্যেই অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে মূল্যসূচক ৬৬০ পয়েন্টের মত কমে যায়। গতকাল একদিনেই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচকের পতন হয়েছে ৬০০ পয়েন্ট।
লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বিনিয়োগকারীদের বোবাকান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে শেয়ারবাজারের বাতাস। সব হারানোর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন তারা। মুনাফার আশায় যেসব সাধারণ বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন, এখন তা পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।
১৯৯৬ সালের বিপর্যয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছিল। এখন অব্যাহত দরপতনে ’৯৬ সালের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
শেয়ারবাজারের ইতিহাসে ভয়াবহ বিপর্যয় হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করতে পারছে না। বিনিয়োগকারীরা হয়ে পড়েছেন অবরুদ্ধ।
সকাল থেকেই মতিঝিলে ডিএসই ভবন এবং তার আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক রাব-পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনো অবস্থায় বিক্ষোভ করতে না পারে সেজন্য রাস্তায় কয়েকজন একসঙ্গে জড়ো হওয়া মাত্রই তাদেরকে সরিয়ে দিচ্ছিল তারা। কিন্তু তার পরও বিক্ষোভ ঠেকানো যায়নি।
শেয়ারবাজারে দরপতনের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ, ভাংচুর করেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিভিন্ন রাস্তা অবরোধ করে এবং শেয়ারবাজারের দরপতনের কারণে এসইসি চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বছরের প্রথম লেনদেন দিবস ছাড়া বাকি ৫ লেনদেন দিবসে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। বছরের শুরুতে ডিএসই’র বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। গতকাল লেনদেন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাত্ এ বছরের মাত্র ৬ লেনদেন কার্যদিবসে বাজার মূলধন কমেছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অপরদিকে ডিএসই সাধারণ সূচক কমেছে ১ হাজার ১৫৫ পয়েন্ট। বছরের শুরুতে ডিএসই সাধারণ সূচক ছিল ৮ হাজার ২৯০ পয়েন্ট, যা গতকাল দিনশেষে ৭ হাজার ১৩৫ পয়েন্টে নেমে আসে। এর মধ্যে গতকাল একদিনেই সাধারণ সূচক কমেছে সর্বোচ্চ ৬০০ পয়েন্ট। বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। দরপতনের এ ঘটনায় ভাগ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী। তাদের অধিকাংশের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারসাজি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও সরকারের অদূরদর্শিতায় শেয়ারবাজারে এ বিপর্যয় ঘটেছে।
বাজারে অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার। তিনি বিনিয়োগকারীদের সহনশীল আচরণ ও ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেন, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতার স্বার্থে এসইসি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেবে।
শেয়ারবাজারে অব্যাহত দরপতনের কারণে কয়েক লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। ব্যাংকের আমানত, সঞ্চয়পত্র ভেঙে, পেনশনের টাকা নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা শেয়ারবাজারে মুনাফা লাভের আশায় বিনিয়োগ করেছিলেন। ব্যাংকের আমানত ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমে যাওয়ায় বাড়তি লাভের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন তারা।
ফলাফল: আমি নি:স্ব। আমার সব শেষ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


