somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চেতনা উম্মাদনায় আর কত কাল !

২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
চেতনা উম্মাদনায় আর কত কাল !
জাহাঙ্গীর বাবু


Does Success Without A Successor Sound Right to You.
ইংরেজি এই বাক্যটা ,বাস স্টপের বিজ্ঞাপন বোর্ডে লেখা।ছবিটার থিমটা কি?বিজ্ঞাপন বোর্ডে এই রকম ছবি সহ ! এখানে একটা বিজ্ঞাপন বেশি দিন থাকেনা। বেশির ভাগ কসমেটিক আর লন্জিরিস (লিঙড়ি ,আন্ডার ওয়্যার ) এর বিজ্ঞাপন। মাঝে মাঝে দু একটা থিম এতো ভালো লাগে, দাঁড়িয়ে দেখি যতক্ষন বাস না আসে।
আমাদের দেশে সম্ভবত ২০০০ সল্ এর পর ব্যাক্তিগত আর দলীয় বিলবোর্ড, ব্যানার বেড়ে গেছে। বিদেশে একটা এলাকার নির্দিষ্ট স্থানে একটা কিংবা দুইটা ব্যানার দেখা যায়। এরা আকাশ দেখতে পারে নির্ধিদ্বায়।এদের মাথার উপর ডিশের তার,বিদ্যুতের তার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনা।এরা মিছিল,মিটিং রাস্তায় করেনা।এদের দেশের গনতন্ত্র ও স্বৈরতার আধারে কিন্তু জনগন এতে নাখোশ নয়।এরা নির্বাচনের সময় ভোট দেয়,ব্যাস।এদের চায়ের আড্ডায় নির্বাচন নিয়ে ঝগড়া হয়না।এদের কলেজে রাজনীতির মারামারি নেই। কলেজ ভার্সিটিতে রাজনীতির উত্তেজনা নেই।যে, যে বিষয়ে পড়ছে তাই নিয়ে ভাবছে।
স্বাধীনতার চেতনা আর ধর্মীয় উম্মাদনা নিয়ে আমাদের দেশের যে হাল করে রাখছে কতিপয় স্বার্থান্বেষী, ভুগতে হবে আজীবন।অবশ্য ভারত,পাকিস্তান , মায়ানমার যে আমাদের চেয়ে খুব উন্নত রাজনীতির অধিকারী তা কিন্তু নয়।ভোটের বিষয়ে ভারত একটু এগিয়ে,এই আর কি।
বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতির মানুষ গুলি বিদেশে গিয়ে সে দেশের সব কিছু দেখেও দেশের মতো চেতনা আর উম্মাদনার ব্যাবসা করে।নয়তো ভলান্টিয়ারি করে।বাংলাদেশের রাজনীতির যতগুলি গোপন বৈঠক,কিংবা পূর্ণমিলনী এমনকি দলীয় ব্যানারে অনুষ্ঠান হয় বিদেশে ,ততগুলি অনুষ্ঠান সে দেশের রাজীনীতি নিয়ে হয়না। আমাদের জাতীয় দিবস -স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবস,একুশে ফেব্রুয়ারী ,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না হয় মেনে নিতে পারে বিদেশের সরকার।কিন্তু রাজনীতি বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের সরকারকে গোলক ধাঁধায় ফেলেই করে .গেদারিং এর নাম দিয়ে চোখে ধুলা দিচ্ছে বলা যায় সিঙ্গাপুর সরকারকে।
মনে পড়ে সৌদি আরবে যখন ছিলাম নব্বই এর দশকে, তখন বি এন পির তিনটা কমিটি ছিলো।( মানু,শহিল্লাহ,শহীদ উদ্দিন গ্রূপ) বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী তখন ক্ষমতায়,তিনি সম্ভবত ওমরার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। তখন তিন গ্রূপের লোক এয়ার পোর্ট ভরে গিয়েছিলো ।পুলিশ লাঠি চার্জ করেছিল।পুলিশরা বলেছিলো।বাঞ্জালাদেশ (বাংলাদেশ) মাফি রিজ্জাল,কুল্লু হাহুরমা।লাশ ওয়াহেদ হুরমা ইজি কুল্লু রেজ্জাল ইজি হেনাক।মানেটা এ রকম বাংলাদেশে কোন পুরুষ নেই,একজন মহিলার জন্য এত পুরুষ এখানে! অনেক দিনের পুরানো স্মৃতি থেকে নেয়া।আরবিতে আমার শুদ্ধ নাও হতে পারে। কোন দেশ আমাদের নোংরা রাজনীতি থেকে মুক্ত নয়!চেতনা আর উম্মাদনা যেন বানে ভেসে যাওয়া কম্বলের মতো ,কম্বল ছাড়তে চাইলেও কম্বল ছাড়েনা।
আমার দেখা এই সিঙ্গাপুরের সরকারী বেসরকারী নেতাদের এতো ফুলের শুভেচ্ছা, নিজের শ্রম আর অর্থের আয় করা টাকা দিয়ে জানায় না।যেই হারে মেম্বার চ্যেয়ারম্যান কাউন্সিলর পুলিশ ভ্রূক্রেট নেতা মন্ত্রীদের ফুলের মালয় বরণ করা হয়. সব জায়গায় তোয়াজ নীতি,তেলবাজি ।আরে যেই সব নেতারা লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করে এ দেশে বিনোদনে কিংবা চিকিৎসায় আসে তাদের জন্য নিজের আয় করা এক পয়সা ব্যয় করার মুল্য কি? সরকারী আমলা,রাজনৈতিক নেতা, এমনকি আইন শৃঙখলা বাহিনীর লোকদের ফুলের বরন মালা উপহার।কেন দেশে গেলে সুবিধা দেবে! ক'জন পেয়েছে কে জানে।
সাহিত্য,সাংস্কৃতিক, সাংবাদিকতার কেউ নির্দলীয়,বিদেশে এলে এই সব লোক গুলিকে ফুলের মালা দুরের এক বেলা নিমন্ত্রনের কথা মনে করেন না। তবে দলীয় লেবেল থাকলে নো প্রব্লেম।তেমনি দেশেও।আপনার গ্রামে গঞ্জে লেখক,সাহিত্যিক,সাংবাদিক ,সামাজিক কর্মীর কোন মূল্য নেই.সেখানকার সংগঠন গুলিকে আপনাকে কোন অনুষ্ঠানের সপূর্ন্য খরচের উপর কিছু দিতে হবে ,অনেক সময় ের সাহিত্য,সংস্কৃতির মূল্য কি তও জানেনা।ের এক ধরনের নীরব চাঁদাবাজ। দল করেন,দলের লোকের কাছে কদর পাবেন ।তবে সে ক্ষেত্রেও আপনার পকেটে থাকতে হবে কচ কচে নোট।
আর একটা কথা, রোহিঙ্গা সমস্যা এ বছর ভিন্ন মাত্রায়। আমি এখন বৌদ্ধদের দেশে। এদের মুখে কোনদিন কিছুই শোনতে পাইনি।ভালো আর মন্দ। এরা বোঝে কাজ করে খেতে হবে। মাস শেষে সরকার কেটে নেবে আবাসন,শিক্ষা,চিকিৎসার টাকা।নিজের ও চলতে হবে।ব্যাস, সিস্টেমের মাঝে চলছে তাদের জীবন। আমাদের মতো তেলবাজি আর দলবাজি নেই।চেতনা আর উম্মাদনা থেকে বেরিয়ে এসে দেশ জাতি এমনকি নিজের জন্য ভাবার অবকাশ কি কখনো হবেনা।ধর্র্মে টেনে আনছি রাজনীতিতে। সময়ে অসময়ে উস্কে দিচ্ছি।আবার কট্টর হয়ে যাচ্ছি। মাজহাবের নাম বিভক্ত হচ্ছি।পীর মুর্শিদ কম যায়না।আবার লঘু নির্যাতন ,বা পাহাড়ি সম্প্রদায় এমনকি রোহিঙ্গাইস্যুতে ও ভুখন্ড নয় ধর্মকেই দেখছি।অথচ আরব বিশ্ব নীরব দর্শক।
এমন কিছু লিখলেই,বন্ধুরা বলে, এটা বাংলাদেশ, প্রেক্ষাপট ভিন্ন।কেন? এরা এমন কেন?
চেতনা উম্মাদনায় আর কত কাল !
২১-১১-২০১৭ ইং
সিঙ্গাপুর

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:২৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাধু সাবধান!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১

রোমান সাম্রাজ্যের পম্পেই এবং বর্তমান বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও সময়কাল সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও, মানুষের সামাজিক আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের কিছু ক্ষেত্রে আশ্চর্যজনক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। নিচে পম্পেইয়ের সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেম....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১০



সরকারের ছয় মাসের পোস্টমর্টেমঃ সমর্থনের জায়গা থেকেই কিছু কঠিন কথা.....

ছয় মাস খুব দীর্ঘ সময় নয়- কিন্তু একটি সরকারের দিকনির্দেশনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কিছুটা ধারণা পাওয়ার জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পাঠের সওয়াব

লিখেছেন শিমুল মামুন, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬


লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। এর ফজিলত ও সওয়াব অনেক বেশি। আমলটি করার ব্যাপারে হাদিসে অনেক বর্ণনা এসেছে।

সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ হয়
আবদুল্লাহ ইবনে আমর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×