সতেরো শো চৌষট্টি সাল।
মীর কাসিমকে পরাজিত করলো ইংরেজরা।
এরপর থেকে তারা মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিলো অনেকগুণে।
ইংরেজরা মুসলমানদেরকে সকল দিক দিয়ে ধ্বংস এবং নির্মূল করার
জন্যে নানা ধরনের অপকৌশলের আশ্রয় নিলো!
মেতে উঠলো তারা ঘৃণ্য-কুটিল ষড়যন্ত্রে।
ইংরেজরা আক্রমণ করলো মুসলমানদের ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর। তাদের অর্থনীতির ওপর।
মুসলমানদের আয়মা, লাখেরাজ বাজেয়াপ্ত হলো।
তাদের হাত থেকে খাজনা আদায়ের ভার ছিনিয়ে নিয়ে তা দিয়ে দিলো অনুগত হিন্দুদের হাতে।
আর এই সুযোগ পেয়ে চরম সাম্প্রদায়িক হিন্দুরা আনন্দে লাফিয়ে উঠলো।
বহুদিন যাবত তারাও ওঁৎ পেতে ছিলো সুযোগের অপেক্ষায়।
এমনি একটি মোক্ষম অস্ত্রের খোঁজ করছিলো তারা বহুদিন থেকে -যা দিয়ে বহুকালের শত্রু মুসলমানদেরকে তারা আরো বেশি করে শায়েস্তা করতে পারে।
খাজনা আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে হিন্দুরা বিপুল বেগে চড়াও হলো মুসলমানদের ওপর। ইংরেজদের সরাসরি মদদ পেয়ে তাদের সাহসের মাত্রা বেড়ে গেলো হাজার গুণে।
খাজনা আদায়ের অজুহাতে কারণে-অকারণে তারা মুসলমানদের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন চালাতে থাকলো অত্যন্ত নির্মমভাবে।
কি ভয়ানক ছিল তাদের সেই অত্যাচার আর নিপীড়ন!
তাদের সেই নির্মম নিষ্ঠুরতার ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে এখনো শরীর শিউরে ওঠে!
ভয়ে এবং আতংক কেঁপে ওঠে বুক।
মুসলমানদের অর্থ-সম্পদ, জমি জায়গা ছলে বলে দখল করেও তৃপ্ত হতো না হিন্দুরা।
শারীরিকভাবেও তারা নির্যাতন চালাতো তাদের ওপর।
আর মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে বাধা সৃষ্টি করা ছিলো তাদের অন্যতম প্রধান কাজ।
অত্যাচারী হিন্দু জমিদারদের এলাকায় কোনো মুসলমান গরু কিংবা পশু কুরবানী দিতে পারতো না।
দিতে পারতো না মসজিদে আযান।
এমনকি ইসলামের অন্যান্য হুকুম-আহকামও পালন করতে পারতো না স্বাধীনভাবে।
মুসলমানদের সকল ক্ষেত্রেই বাধা দিতো হিন্দু জমিদাররা।
জমিদারদের সাথে থাকতো পশুস্বভাবের হিংস্র লাঠিয়াল বাহিনী।
তারা মুসলমানদের ওপর যখন তখন ঝাঁপিয়ে পড়তো বাঘের মতো।
কি জঘন্য এবং মর্মান্তিক বিষয়!
হিন্দু জমিদাররা এ সময়ে মুসলমানদের দাড়ির ওপরও ট্যাক্স বসিয়ে দিলো!
তাদেরকে ধূতি পরতে বাধ্য করা হতো!
দাড়ি কেটে গোঁফ রাখতে নির্দেশ দিতো!
আর পূজার সময়ে মুসলমানদের কাছ থেকে জোরপূর্বক আদায় করতো চাঁদা, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ পূজার আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র!
এছাড়াও তারা গরীব মুসলমানদেরকে পূজার সময়ে খাটিয়ে নিতো
বিনা পারিশ্রমিকে।
যারা তাদের অবাধ্য হতো তাদের ওপর চালাতো নির্মম নির্যাতন।
এভাবেই মুসলমানরা অর্থ এবং ধর্ম হারিয়ে হিন্দুদের হাতে জিম্মি
হয়ে পড়েছিলো।
মুসলমানদের ঠিক এই চরম দুঃসময়ে মক্কা থেকে ফিরে এলেন আপন স্বদেশে হাজী শরীয়তুল্লাহ।
তিনি স্বদেশের বুকে পা রেখেই আঁতকে উঠলেন!
***** আগামী পর্ব - ফরায়েজী আন্দোলন-২
***** গত পর্ব - গর্জে উঠলেন সাহসী সৈনিক
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


