কবিতা পাঠের আসর বলতে বেশীর ভাগই বোঝায় একটা ঘরের ভিতর অনেকগুলা কবি এক সাথে বসে,তারা মুড়ি চানাচুড় খায়,চা টা পান করে আর একজন একজন কইরা কবিতা পড়ে। কবির কবিতা কবিরাই বইসা বইসা শুনে।ঐখানে কোনো সাধারন শ্রোতা থাকেনা,ঐখানে কোনো সাধারন পাঠক থাকেনা।সেইখানে কবিরাই শ্রোতা,কবিরাই পাঠক,কবিরাই কবিতা পড়ে,কবিরাই তালি দেয়।সবই কবিময়।কেমুন অইলো?লাভ অইলো কি তাইলে?
কবির কবিতাতো সাধারনের কান পর্যন্ত গেলানা।কবির কবিতাতো জানি পাঠকের জন্য,আপামর মানুষের জন্য।সাধারন মানুষ শুনলো কই আর?কবির কবিতাতো কবিগোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাইকা গেলো।কেমুন অইলো তাইলে?লাভ অইলো কি?
আরও কাহিনী আছে,খাড়ান। সেইখানে এক মুরুব্বী কবিলোক থাকে।হে বড় বড় বয়ান দেয়।হে অমুক আন্দোলন করছে,তমুক বিপ্লব করছে,অমুক কবি তার পরাণের ভাই আছিলো,তমুক কবি তার জানের দোস্ত আছিলো,গুন্টার গ্রাসের সাথে সে কতা কইছে,অরুন্ধুতি রায়ের সাথে তার ছবি আছে।সে যাই কয় তা শুনবার মন না চাইলেও শুনা লাগে।না শুনলে হে আবার ধমক দেয়,মাইন্ডও খায়।ব্যাবহারডা স্বৈরাচারী শাসকের মতো।সেইখানে তার কথা না শুনার কোনো স্বাধীনতা নাই।কিন্তু আমিতো জানি কবিতায় স্বাধীনতার একটা ব্যাপার স্যাপার আছে।কিন্তু মনের বিরুদ্ধে পরাধীনের মতো যদি তার কথাই শুনা লাগে তাইলে কেমুন অইলো!লাভ অইলো কি তাইলে?
আমি এমুন আসরে একবার গেছিলাম।আর যাই নাই।আমার ভাল্লাগেনাইরে ভাই।আমি বুঝি কবিতা ঘরের মধ্যে পড়লে কবিতা ঐ ঘরের মধ্যেই পর্দনশীন মহিলার মতো থাকে।হে আর বাইরে বাইরায় না।কিন্তু কবিতাতো ঘরের ভিতরে রাহার জিনিস না।কবিতাতো ছড়াইয়া দেয়ার জিনিস।ঠিক কবুতররে যেমুন কইরা ছুলা,বুট ছিটাইয়া দিললে আর কবুতররা কামড়া কামড়ি কইরা বাক বাকুম করতে করতে খায় ঠিক তেমন কইরা কবিতারেওতো ছড়াইয়া দেওন লাগে মাইনষের মইদ্যে।মাইনষে যদি বাকবাকুম কইরা কইরা খায় তবেইতো ঐডা কবিতা।কিন্তু তা না কইরা ঘরের মইদ্যেই যদি কবিতা রাইখা দেওয়া অয় তাইলে কেমুন অইলো?লাভ অইলো কি তাইলে?
কবিতা পড়ার আসর যদি এতই করবার ইচ্ছা করে তাইলে বাইরে আহো,কতা আছে।বাইরে মাইক লাগাইয়া মন্চ বানাইয়া (মন্চ না অইলেও চলবো) কবিতা পড়ার আসরের আয়োজন করেন।সারা শহরের মানুষগো ঢোল পিটাইয়া জানাইয়া দেন।তারপর আসেন,দেহি কার কতো কুলায়।
মাইকের সামনে খাড়াইয়া হাজার না হোক শত শত মাইনষের সামনে কবিতা পড়েন।সাধারন মাইনষের ভাল্লাগলে তালি পাইবেন,নাইলে নাই।বুঝেন নাই ব্যাপারটা?বুঝেন নাই?
তা বাদ দিয়া কুনিব্যাঙের মতো খোপের ভিতরে হান্দাইয়া কতোডি আটা ময়দা মাহা গয়না পড়া তামশা নিয়া,কতডি সাবেক আমলা টামলা নিয়া,দু একজন প্রায় পাগল বুইড়া নিয়া,কতডি তামশাগো লগে ছোক ছোক করা ছ্যাবলা নিয়া আর মাত্র দুই একজন কবি নিয়া কুলু কুচকুচি করেন।
শুনেন, এগুনিরে কবিতা পাঠের আসর কয়না।এগুনিরে আমাশা কয়,আমাশা।আমি একবার গেছিলাম এই আমাশায়।আর যাইনা।ভাল্লাগেনা।
এহনো সময় আছে।এইসব আমাশা তামাশা বাদ দেন।
কইলজা থাকলে বাইরে আসেন,খেলা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




