somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাইফাই স্বপ্ন

০২ রা নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমাদের স্পেশশীপটা একটা অদ্ভুত গ্রহে এসে পৌঁছিয়েছে। চারদিকে কি সব অদ্ভুত প্রাণী। আচ্ছা, এদেরকে তো প্রাণীই বলে? নাকি অন্য কিছু।। সৃষ্টি কর্তাই ভালো জানে।

চারদিকে তাকিয়ে দেখলাম কেউ নেই। আমার সাথে যারা আসছে তারা কোথায়? রিনি, ইরা তোমরা কোথায়... হ্যালো... হ্যালো...

দড়াম করে স্পেশশীপের দরজার ঐ অদ্ভুত প্রাণীরা আগাত করল। দরজা ভেঙ্গে আমাকে নিয়ে চলল।
বাঁচাও ... বাঁচাও... কিন্তু কেই নেই... আমি একা।

আমাকে এক জাগায় নিয়ে আসল। প্রাণীগুলো সমাবেশ এর মত বসে আছে। তবে নিশ্চুপ। আমার মনে পড়ে গেলো পৃথিবীতে মানুষের সমাবেশ এর কথা। সমাবেশ মানেই কাটাকাটি, মারা মারি, কটুক্তি, আরো কত কিছু।

হঠাৎ করে একজন বলে উঠল। দেখ বালক, তুমি আমাদের গ্রহতে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করেছ। এটা অন্যায়। বিশাল অন্যায়। আর এ জন্য তোমাকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হবে।

আমার মুখ দিয়ে কথা বেরুচ্ছিল না। আমি তারপর ও বলার চেষ্টা করলাম, আমি ইচ্ছে করে প্রবেশ করি নি। আমার স্পেশশীপ ক্র্যাস করছিল। তাই আপনাদের গ্রহতে জরুরী ল্যান্ড নিতে হয়েছে।

দেখ বাকল, অন্যায় অন্যায়ই। তুমি যেভাবেই ল্যান্ড কর না কেন। তুমি অন্যায় করেছ। যাই হোক, তোমাকে আমরা একটি সুযোগ দিতে পারি। তোমার যদি শেষ কোন ইচ্ছে থাকে, আমরা তা পূরন করতে পারি।

আমি চিন্তা করলাম আমি তো মারাই যাচ্ছি, শেষ সুযোগ দিয়ে লাভ কি হবে। তারপর হঠাৎ মনে পড়ল পৃথিবীর কথা। পৃথিবীর খারাপ মানুষের কথা। যারা পৃথিবীর মানুষদের দেখাশুনা করার নাম করে তাদের নিয়মিত ধংশ করে চলছে। আমি বললাম, দেখ আমার শেষ ইচ্ছে তোমরা পূরন করতে পারবে না। তাই আমার বলেও লাভ নেই।

প্রাণীটা বলে উঠল, তুমি বলেই দেখ। এ মহাবিশ্বে আমরা পারিনা এমন কোন কাজ নেই।

মনে মনে একটু সাহস পেলাম। বললাম দেখ, আমাদের গ্রহে অনেক গুলো দুষ্ট প্রজাতির মানুষ রয়েছে। যারা নিজেদের একটু উপকারের জন্য অন্যের ক্ষতি করে বেড়ায়। তাদের পৃথিবী থেকে বের করে অন্য কোন গ্রহে রেখে আসতে পারবে? আর হ্যা, এটাই আমার শেষ ইচ্ছে।

পুরো নিশ্চুপ সমাবেশে তখন গুঞ্জন উঠল। হয়তো তারা এমন অদ্ভুত শেষ ইচ্ছে এবারই প্রথম শুনল। যে লোকটি কথা বলছিল, সে হয়তো সবার রাজা। সে বলে উঠল, চুপ করো তোমরা...

দেখ বালক, তোমার শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে হলে আমাদের নিয়ম ভঙ্গ করে পৃথিবীতে প্রবেশ করতে হবে। আমরা নিয়ম ভঙ্গ করতে পারি না।

আমি বললাম, আপনি আমার শেষ ইচ্ছে জানতে চেয়েছেন, আমি জানিয়েছি। আর তাছাড়া ঐসব মানুষকে যদি আপনারা পৃথিবী থেকে বের করতে পারেন, তাহলে পৃথিবীর মানুষ খুশি হবে। আপনাদের কথা সারা জীবন মনে রাখবে।

দেখ বালক, যদি তাই হয়। তাহলে আমরা তা করার চেষ্টা করব। তবে তা করতে সময় লাগবে। তত দিন আমরা তোমাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারব না। কারন আমাদের অক্সিজেনের অপচয় হবে, আমরা তা চাই না। তবে তোমাকে কথা দিচ্ছি, আমরা তোমার শেষ ইচ্ছে পূরণ করবই।

অদ্ভুত ঐ প্রাণীদের মধ্যে তখন একটি প্রাণী বিশাল একটা কাচের বক্সে নিয়ে আসল। আরেকটা প্রাণী নিয়ে আসল একটা ক্যাপসুল। তাদের মতে প্রাণ বিশর্জন ক্যাপসুল। কাচের বক্সে আমাকে ঢুকে দেওয়া হলো। এবার একজন আমার মুখ হা করে খুলে ধরল আরেকজন ক্যাপসুলটা আমার মুখে প্রবেশ করিয়ে দিল। আমার চোখ বন্ধ হয়ে আসতে লাগল। আমি আস্তে আস্তে ঘুমের রাজ্যে প্রবেশ করতে লাগলাম।

কানের পাশে হঠাৎ একটা ভয়ঙ্কর শব্দ হলো। চিন্তা করলাম আমি মারা যাওয়ার পর আবার কিভাবে শব্দ শুনি। চোখ আসতে আস্তে খুলতে দিয়ে দেখি আমি দেখতে ও পাচ্ছি। অর্থাৎ আমি এতক্ষন স্বপ্ন দেখলাম। হঠাৎ মনে হলো আরে, আজ তো আমার এক্সাম। লাপ দিয়ে উঠলাম। আরেকটি ভয়ঙ্কর শব্দ হলো। বুঝতে পারলাম আশে পাশে কেউ ককটেল বোমা পুটিয়েছে। তারপর মনে পড়ল আজ হরতাল। তার মানে আমার পরীক্ষা দিতে হবে না। তার মানে আমি আরেকটু ঘুমুতে পারব...


বিদ্রঃ ভয়ঙ্কর মানুষ গুলোকে সত্যি যদি পৃথিবী থেকে সরানো যেত, ভালো লাগত। এটা সত্যি সত্যি আমার ইচ্ছে। কেউ যদি সত্যিকারে আমাকে এসে জিজ্ঞেস করে কি চাও, আমি বলল পৃথিবী থেকে হাঙ্গামাকারীদের সরিয়ে দাও। মানুষের শান্তি পিরিয়ে দাও। হরতাল, মৃত্যু এসব থেকে মানুষকে মুক্তি দাও।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বৃষ্টি দিনের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৫



টিভি বা পত্রপত্রিকায় আবহাওয়া'র খবর নিয়ে নিউজ হয়-
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের পূর্বাভাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন দ্যা শ্যাডোস অব ইল্যুশন

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৮



রাজধানীর নিঝুম আবাসিক এলাকার তিনতলা ফ্ল্যাটের শোবার ঘরটি তখন ক্রাইম সিন টেপে ঘেরা। ধুলো জমে থাকা এয়ার কন্ডিশনারের শব্দের মাঝে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে রক্তের হালকা সোঁদা গন্ধ।

পিবিআই ইনভেস্টিগেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১০


‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭


মস্তিষ্ক কাজ করার আগেই যখন উত্তর চলে আসে

একসময় কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানুষকে ভাবতে হতো। বই খুলতে হতো, লাইব্রেরিতে যেতে হতো, কারও সঙ্গে আলোচনা করতে হতো, ভুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্বাবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ৪

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৬


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।
একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/3039397|১ম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×