নির্বাহী সারসংক্ষেপ: কৌশলগত পরিকল্পনা মুলতঃ একটি ব্যবসহাপনা হাতিয়ার যা একটি প্রতিষ্ঠানকে তার সমপদের আলোকে সংশ্লিষ্ট সদস্য সহযোগে একই লক্ষ্যে কাজ করার মাধ্যমে উন্নততর ও অত্যন্ত ভাল কর্ম সমপাদনে সামর্থ যোগায়। কৌশলগত পরিকল্পনা একটি শৃঙ্খলিত উদ্যোগ যা মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহন ও বাসতবায়নে একটি প্রতিষ্ঠানকে পথ দেখায় এবং এলাকার বর্তমান অবসহা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা-সমস্যার আলোকে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নির্ধারন করা যায় আর সে কারনেই এসডিএস কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়নের উদ্যোগ গ্রহন করে।
পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সমপন্ন ব্যক্তির (ষ্টাফ, সাধারন পরিষদ সদস্য, নির্বাহী পরিচালক, সেবা গ্রহনকারী ও অন্যান্য ষ্টেকহোল্ডার ব্যক্তিবর্গকে সমপৃক্ত করে প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয় এবং মাঠ পর্যায় থেকে চাহিদা, সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়। সকলের অংশগ্রহন ও মতামতের ভিত্তিতে সংসহার ভিশন, মিশন, মূল্যবোধ, নীতি ঠিক করা হয়।
SWOT এনালাইসিস এর মাধ্যমে সংসহার অভ্যন্তরীন সবলতা দূর্বলতা এবং বাহ্যিক অবসহা অর্থাৎ সুযোগ ও বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। অতঃপর সংসহার বিভিন্ন কর্মসূচীর কৌশল, উদ্দেশ্য, প্রত্যাশিত ফলাফল ও কর্মকানড ঠিক করা হয়। এ ছাড়া ভিশন ও মিশনে বর্নিত বিষয় সমূহের আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও সহানীয় অবসহা বিশ্লেষন করা হয়েছে। এবং কৌশলগত বিষয়ে ভোটিং এর মাধ্যমে অগ্রাধিকার নির্নয় করা হয়েছে যা স্মারণী-৩- এ বিকল্প মেট্রিক্ম্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। এখানে দেখা যায় প্রথম হয়েছে দূর্যোেগ ব্যবসহাপনা কর্মসূচী, দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী ২য় এবং যৌথভাবে ৩য় অবসহানে রয়েছে কৃষি ও অধিকার এর পরে রয়েছে যথাক্রমে শিক্ষা, স্বাসহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কর্মসূচী। সংসহা সমপর্কে স্বচছ ধারনার জন্য সংসহার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, রিপোর্টিং, মনিটরিং ও সুপারভিশন, মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক ব্যবসহাপনা সমপর্কে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। সংসহার কর্ম এলাকা সমপর্কে ধারনা প্রদানের জন্য বাংলাদেশের ম্যাপের মধ্যে এসডিএস কর্ম এলাকা দেখানো হয়েছে। এছাড়া সংসহার চলমান কার্যক্রম এবং আগামী ৫বছরের একটি সম্ভাব্য কর্ম- পরিকল্পনা কৌশলগত পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্বায়ন এবং পরিবর্তনের এযুগে এসডিএস এর পঞ্চবার্ষিকী কৌশলগত পরিকল্পনাটি সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমরা দৃঢ় আশাবাদী। সংসহার ভবিষ্যৎ পথ নির্দেশক হিসেবে পরিকল্পনাটি নিঃসন্দেহে অগ্রনী ভূমিকা রাখবে।
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ-
১৯৯১ সনে এসডিএস প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সংসহা বিভিন্ন কর্মসূচী সফলতার সাথে বাসতবায়ন করে আসছে। কিন্তু আজ অবধি সংসহার কোন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ন করা হয়নি। কিন্তু একবিংশ শতাব্দির এ প্রতিযোগীতার সন্ধিক্ষনে কৌশলগত পরিকল্পনা ছাড়া লক্ষ্য অর্জন করা খুবই দুরুহ বিষয়। আর এ উপলব্ধি থেকে সংস্থার কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরিকল্পনা প্রনয়নে আমরা যাদের সহযোগীতা পেয়েছি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে গনসাক্ষরতা অভিযান, ঢাকা এবং পার্টিসিপেটরি ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট, ঢাকা নামক বে-সরকারী সংগঠন এ কাজে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করেছেন। এছাড়া সংসহার সাধারণ পরিষদ, নির্বাহী পরিষদ, কর্মীবৃন্দ সর্বোপরি কর্ম এলাকার প্রত্যক্ষ উপকারভোগী এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সরাসরি অংশগ্রহন ও সহযোগীতার ফলে আমাদের এ পরিকল্পনা প্রনয়ন বাসতব ভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সূচী পত্র
১. ভুমিকাঃ
২. সংগঠনের পরিচিতিঃ
৩. বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষনঃ
আন্তর্জাতিক অবস্থা
জাতীয় অবস্থা
স্থানীয় অবস্থা
৪. ভিশন ও মিশন ঘোষণা, মুল্যবোধ ও নীতি
৫. কর্মসূচী প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পন্থা
৫.১ কৌশলগত ইস্যু, উদ্দেশ্য, আউটকাম, কার্যাবলী
৬. সাংগঠনিক কৌশল
৭. সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক কর্ম এলাকা:
বাংলাদেশের মানচিত্রে কর্মসূচীর ভৌগোলিক এলাকা সমূহ
৮. কর্মসূচীর অংশীদার এবং তাদের ভুমিকা
৯. বাস্তবায়ন অ্যাপ্রোচ
স্মারনীঃ
স্মারনী-১ঃ কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনয়ন প্রক্রিয়া
স্মারনী-২ঃ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহনকারীদের তালিকা এবং সংগঠনের পরামর্শক
স্মারনী-৩ঃ SWOT বিশ্লেষন
স্মারনী-৪ঃ বিকল্প ম্যাট্রিক্স
স্মারনী-৫ঃ কার্যক্রম GANT chart
১. ভুমিকাঃ দারিদ্র দুরীকরন সার্বজনীন লক্ষ্য হলেও তা আজ এক বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। দুস্থ্য, অসহায় ও সম্পদহীন মানুষের সংখ্যা ক্রমান্নয়ে বৃদ্বি পাচ্ছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য এখন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আরও বিপদাপন্ন করে তুলেছে। দরিদ্র, দুস্থ ও দুর্যোগ কবলিত মানুষের জীবিকার মান উন্নয়ন টেকসই ও কার্যকর করার জন্য দরকার সাংগঠনিক পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডের কর্মকৌশল ও প্রকৃতিতে পরিবর্তন এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। সেই প্রযোজনীয় পরিবর্তন আনয়ন প্রক্রিযাকে সঠিক এবং সবল গতিতে পরিচালনার জন্য যে নির্দেশিকা দরকার তা হলো দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা। এমনই একটি পরিকল্পনা প্রনয়নের লক্ষ্যে এসডিএস ২০০৮ সালে যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহন করেন। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংগঠনকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এমনই কার্যকর করা এবং নির্দেশনা দেয়া যার ফলে সংগঠনের সার্বিক কর্মকান্ড দরিদ্র মানুষের জন্য আরোা সময়োপযোগী করে তুলে। এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তথা কর্মএলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা ও সাংগঠনিক অবস্থার নিরিখে কৌশলগত পরিকল্পনার মুল বিষয়গুলি ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।
বর্তমানে আন্তজার্তিক উন্নয়ন পরিমন্ডলে যে পরিবর্তন ঘটে চলেছে এবং আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক তথা সার্বিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন ও অবশ্যম্ভাবী সেটা আমাদের কর্মকান্ডে চিন্তা-চেতনা এবং কৌশল নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে পরিবর্তনগুলোকে মোকাবেলা করে সংস্থার লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করা, কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম সঞ্চারিত করা, উপকারভোগী এবং ষ্টেকহোল্ডারদের সক্ষমতা বৃদ্বির প্রত্যয়ে এ কৌশলগত পরিকল্পনা প্রনীত হয়েছে ।
২. সাংগঠনিক পরিচিতি:
এসডিএস শরীয়তপুর জেলায় কর্মরত বেসরকারী সংস্থাসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম বেসরকারী সংস্থা। যা ১৯৯১ সালের ১ লা †m‡Þ¤^i আত্ন প্রকাশ করে। যুগ-যুগান্তরের নদীভাঙ্গা শরীয়তপুর জেলাবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, অপরিকল্পিত পরিবার ব্যবস্থাপনা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব ইত্যাদি কারণে অভাব গ্রস্থ শরীয়তপুরবাসীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, মানবিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দুস্থ্য মানুষের পুনবার্সনের মাঙ্গলিক চিন্তা চেতনা থেকে শরীয়তপুরের খ্যাতনামা সাংবাদিক ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, শরীয়তপুর ইউনিটের সম্পাদক জনাব মজিবুর রহমান স্থানীয় কিছু সাংবাদিক, রেডক্রিসেন্ট কর্মী, ব্যবসায়ী, আইনজীবি ও চিকিৎসকদের নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে শরীয়তপুর পৌরসভা ও সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নে উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজ শুরু করেন। পরের বছর ১৯৯২ সালে এসডিএস সমাজ সেবা অধিদপ্তর এবং ১৯৯৩ সালে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে নিবন্ধন লাভ করেন। এবং ১৯৯৩ সাল থেকে দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম- জিবি এর আর্থিক সহায়তায নারীর ক্ষমতায়ন নামক প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দাতা সংস্থার সাথে লিংকেজ শুরু হয়। পরবর্তীতে পল্লী কর্মসহায়ক ফাইন্ডেশনের অর্থায়নে এসডিএস শুরু করে দরিদ্র নারীদের নিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প। পাশাপাশি শিক্ষা, ¯^v¯’¨, পরিবার পরিকল্পনা, পারিবারিক আইন সহায়তা, ওয়াটার এ্যান্ড স্যানিটেশন ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
১৯৯৮ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে cÖjw¤^Z বন্যায় এসডিএস শরীয়তপুরের অগনিত জনসাধরনের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও পুর্নবাসন সহায়তা প্রদান করেছে। ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যা, ২০০৭ সালের স্মরনকালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভয়াবহ বন্যা এবং ঘুর্িনঝড় সিড়রে ক্ষতিগ্রস্ত দূর্গত মানুষের ব্যপক ত্রান ও পূনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এসডিএস বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পর্যবেক্ষণ ও গনসচেতনতামুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। গ্রামীন সড়ক অবকাঠামোগত সংস্কার, মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন প্রকল্প বাস্তাবায়ন করছে। নদীভাঙ্গনের শিকার ও বন্যাকালীন সময়ে আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে। পিকেএসএফ এর সহায়তায় ঋন কার্যক্রম ছাড়া অক্সফ্যাম-জিবি, অক্সফ্যাম-নভিব, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউএনডিপি, ডব্লিওএফপি, ইউনিসেফ, কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াাইড-বাংলাদেশ, সেভ দ্যা চিলড্রেন অষ্ট্রেলিয়া, এসিএফ, বাংলাদেশ ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়মিতভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
এসডিএস বর্তমানে ৭ টি জেলা যথাক্রমে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলার ২০ টি উপজেলায় দারিদ্র বিমোচন, ন্যায্য সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মসূচী পরিচালনা করছেন।
৩. বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষন
আন্তর্জাতিক অবস্থা
জাতীয় অবস্থা
স্থানীয় অবস্থা
আন্তর্জাতিক অবস্থাঃ
বিশ্বায়নের ফলে যে সকল সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধা জনক অবস্থানে নেই। ফলে বিশ্বায়নের এ যুগে আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছি। বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে বিনিয়োগ আর্কষনীয় হয়ে উঠেছে। অথচ পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে রয়েছে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মধ্যে বৈষম্য আর এই মজুরী বৈষম্যের ফলে নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে দক্ষিন এশিয়ায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির সুফলভোগ করছে ধনীক শ্রেনী ফলে সম্পদ ও অর্থনৈতিক সুবিধার ক্ষেত্রে সমাজে অসমতা আরও বৃদ্বি পাচেছ। ধনী আরও ধনী হচ্ছে এবং গরিব ক্রমশ: সমাজের মেইন স্তর থেকে ছিটকে পড়ছে। সবশেষে বলা যায় বিশ্বায়নের ফলশ্রুতিতে আজ তথ্য ও সম্পদের যে আর্ন্তজাতিক প্রবাহ প্রচন্ড গতিতে বহমান, তা ধনীক শ্রেনীকে আরও অধিক ক্ষমতাশালী করে তুলতে পারে। আর তারফলে সমাজে অস্থিতিশীলতা আরও বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে ভোগ্য পন্যে দাম আর্ন্তজাতিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সমাজে দরিদ্রশ্রেনীর অস্থিরতা অনেকাংশ বেড়ে গেছে।
উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ ভুমির উপর নির্ভরশীল তাই পৃথিবীর জলবায়ুতে সম্ভাব্য যে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়, তাতে বাংলাদেশের বিশেষ বিপদাপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতামত অনুযায়ী ভু-মন্ডলের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ার ফলে বরফ গলা সহ অন্যান্য আরও কিছু কারনে সমুদ্রপৃষ্টের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, ©খড়া, ঘুর্নিঝড়, জলোচ্ছাস লেগেই থাকে। দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ঘন ঘন সংঘটিত হতে পারে এবং তাতে করে কৃষি ও অন্যান্য উৎপাদন খাত উপর্যুপরি ক্ষতি গ্রস্থ হতে থাকবে। এর উপর জনসংখ্যার বৃদ্ধির চাপ ও জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধির ফলে দেশটির অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আর mgwš^Zfv‡e এই ধরনের ঘটনা সমুহের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে পরিত্রান পাওয়া গ্রামীন ও শহুরে জনগোষ্টির পক্ষে µgvš^‡q আরও কঠিন হয়ে দাড়াবে।
জাতীয় অবস্থাঃ
বিগত এক দশকে বাংলাদেশে দারিদ্রের হার্র কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন ঘটেছে তা দৃশ্যমান এবং ঊর্ধ্বমুখী বলা চলে। আরও কিছু বিষয় দেখে এই উন্নয়ন চোখে পড়ে। যেমন- জন্ম হার হ্রাস, মাতৃ মৃত্যু হ্রাস, স্কুল গামী মেয়েদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অতি সমপ্রতি আমাদের দেশ খাদ্যে ¯^qsm¤ú~b© হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, গতবছর বন্যা, ঘুর্নিঝড় সিডরের পরে নিত্যপ্রয়োজনী খাদ্য শস্যের ও অন্যান্য পন্যের দাম যে হারে বেড়েছে তাতে সে ঘোষনা ম্লান হয়ে গেছে। আর যে সমস্ত পজিটিভ উন্নয়ন হয়েছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে এর সুফল সমানভাবে সকল জনগনের কাছে পৌছায়নি। এক্ষেত্রে দেখা গেছে ব্যাপক বৈষম্য। ফলে দারিদ্র এবং সামাজিক অবিচার এখন ও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অবস্থান করছে। বাড়ছে ধনী দরিদ্রের ব্যবধান । ব্যাপারটি নিয়ে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিত সকলের মধ্যে চলছে বিচার-বিশ্লেষন ও চিন্তা-ভাবনা।
মানবাধিকার লঙ্গন এবং বৈষম্যমুলক আচরন বাংলাদেশে একটি নিত্য নৈমিত্তক ব্যাপার। এ বৈষম্য আমাদের জাতীয় জীবনের এক অভিশাপ, চরম এক সংক্রামক ব্যাধি, যা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে। মানবাধিকার লঙ্গন আজ চরমভাবে বিঘ্নিত করছে মানুষের বিশেষ করে নারী সমাজের জীবন-মানের নিরাপত্তাকে।
সুশাসন ব্যাপারটি যদিও ব্যাপক তথাপি কয়েকটি মূল বিষয় দিয়ে এটি m¤^‡Ü মোাটামুটি একটি ধারনা পাওয়া যেতে পারে: সেগুলো হলো জবাবদিহিতা ও ¯^”QZv এবং একটি গনতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়া যেখানের জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহন ও অংশিদারিত্ব শীর্ষে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অধিকাংশ দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা সংস্থা সচেতনভাবে এড়িয়ে যান। অথবা ভাবেন না। যার ফলে দুনর্ীতি এবং অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয় সমাজের সকল স্তরে ।
বাংলাদেশে সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থার সকল স্তরে সুশাসন অত্যন্ত দুর্বল এবং এই অবস্থা দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। যদি এই অব্যবস্থা থেকে ফিরে আসা m¤¢^e না হয় তাহলে বাংলাদেশে উন্নয়নের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে তা ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে যাবে। উদাহরন ¯^i“c টিআইবি এক গবেষনায় দেখিয়েছে যে, দুর্নীতির কারনে প্রতিবছর এই দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) শতকরা প্রায় ২-৩ ভাগ কমে চলেছে, যা একটি বিরাট উদ্বেগের ব্যাপার। সরকারী পর্যায়ে বস্তুগত, মানব ও আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় পরিলক্ষিত হচ্ছে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং A¯^”QZv| জবাবদিহিতা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে সম্পদের অপচয় যেমন বেড়ে চলেছে তেমনি দুর্নীতি প্রকট আকার ধারন করায় কাংখিত উন্নয়ন বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বর্তমান কালে ব্যাপক পর্যালোচনা চলছে।
নগরায়ন দ্রুত বিস্তার ঘটে চলেছে। মুল বিষয় হচ্ছে এই নগরায়নের বিস্তৃতি এমন এক সমাজ ব্যবস্থায় ঘটে চলেছে, যেখানে নগর পরিকল্পনাকারিদের সামঞ্চস্যপুর্ন শহর গড়ার সদিচ্ছা ও অভিজ্ঞতা একেবারে নেই বললেই চলে। ফলে শহরে আসা মানুষের জীবিকার উপায় হিসাবে নেই কোন পরিকল্পিত ব্যবস্থা, নেই আবাসন স্থাপনের প্রচেষ্টা। জীবিকার %
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


