somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ানোর প্রস্তুুতি কি আছে?

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দীর্ঘমেয়াদি একটি রূপরেখা নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে মহাজোট সরকার। নির্বাচনী ইশতেহারেও বেশ কিছু আশাব্যাঞ্জক তথ্য ছিল। যেগুলোর বাস্তবায়নের জন্য তিন বছর কম সময় নয়। কিংবা রূপরেখা যাকে আমরা ভিশন ২০২১ বলি, সে লক্ষ্য অর্জনের পথে হাঁটার ভিত্তি তৈরির জন্যও তিন বছর যথেষ্ট সময়। যদিও এক-এগারোর একটি অগণতান্ত্রিক ও অনির্বাচিত সরকার দেশকে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার পথে এগিয়ে দিয়েছিল। তথাপি মহাজোট সরকারের তিন বছরের অর্জন যা হবার কথা ছিল তা হয়নি। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে আগের চেয়ে নেতিবাচকই হয়েছে।
গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করতে দেখা যাবে, এবারে ব্যবস্থাপনা সংকট ছিল প্রকট। অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করার মত পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হয়নি। বরং কিছু পদক্ষেপ সার্বিকভাবে ভারসাম্যহীন করে তোলে অর্থনীতিকে। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলো কেমন যাবে, অন্তত ২০১২ সাল কেমন যাবে এমন প্রশ্ন অবান্তর নয়। বর্তমান তৈরি করে দেয় আগামীর ভিত। দেশের অর্থনীতির সেই ভিত কি মজবুত আছে? উত্তর হ্যাঁ কিংবা না, কোনটাই না দিয়ে আমরা প্রেক্ষাপটটা বোঝার চেষ্টা করি।
দেশের ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট চাপের মুখে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে। বেড়েছে আমদানি। উচ্চ হারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির রেশ থামছে না। বৈদেশিক ঋণ সহায়তাও বন্ধ। এ অবস্থায় ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ না নিয়ে বিকল্প ছিল না সরকারের সামনে। টাকা ছাপিয়ে কিংবা ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি না হয় সামাল দেয়া গেল। কিন্তুু ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট ভারসাম্য হবে কিভাবে?
বাধ্য হয়ে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে একশ’ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দাবি করে। আইএমএফও এই সহায়তা করতে সম্মতি দিয়েছে। আইএমএফের প্রতিনিধিরা কয়েক দফায় বাংলাদেশে এসে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে বেশ কিছু শর্ত,-সংস্কারের কথাও তারা বলেছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। ব্যাংক ঋণের সুদের হারের নির্ধারিত সীমা প্রত্যাহার করা।
দুটি কাজ সরকার করেছে। এতে করে একশ’ কোটি ডলারের ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তুু অভ্যন্তরীণভাবে এর নেতিবাচক দিগুলো কি বিবেচনা করা হয়েছে? যেমন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে পরিবহন ভাড়া থেকে শুরু করে সর্বস্তরে এ ধরণের প্রভাব পড়ে। বেড়ে যায় ব্যয়ভার। ফলে, উৎপাদিত পণ্য কিংবা সেবার মূল্যও বেড়ে যায়। যা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ত, ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানো। সুদের হার সিঙ্গল ডিজিটে নিয়ে আসার বহু চেষ্টা হয়েছে। এসব চেষ্টা যখনি সফলকাম হতে চলেছে, তখনি উল্টো বাধা এসে হাজির। ফলে, ব্যাংক ঋণের সিঙ্গল ডিজিটে নিয়ে আসার স্বপ্ন আপাতত আরো বেশি দুরূহ হয়ে পড়েছে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে। ১৩ শতাংশের মধ্যে ব্যাংক ঋণ দেয়ার সীমা প্রত্যাহার করার ফলে এখন ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হারে কোন নিয়ন্ত্রণ থাকলো না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলো প্রায় ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ হার সুদে আমানত নিয়ে তা ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ কিংবা তারও বেশি হারে লগ্নি করবে। ব্যাংক ঋণের উপর সুদের সর্বোচ্চ সীমা বা ল্যান্ডিং ক্যাপ (খবহফরহম পধঢ়) প্রত্যাহার করে নেয়ায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলতঃ সুদ ব্যবসায়ের দিকেই ঝুঁকবে বেশি। সেক্ষেত্রে বেশি হারে সুদ দিয়ে শিল্প খাতে বিনিয়োগের সাহস পাবেন না বিনিয়োগকারীরা। যেখানে গ্যাস-বিদ্যুত সংকট বিদ্যমান। উৎপাদনশীল খাতে না গিয়ে অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ চলে যেতে পারে। যার প্রভাব আগামীতে ব্যাংকগুলোর মুনাফার উপরও পড়বে। ফলে সেখান থেকে সরকারও রাজস্ব হারাবে। তাহলে সরকার কেন এটি করলো?
আমরা প্রায় খবর শুনি, ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি ২০১১-১২ অথবছরের বাজেটে সরকারের ব্যাংক ঋণের প্রাক্কলন ছিল ১৮ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমান দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। দেখা যাচ্ছে ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণের সীমা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তারপরও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাচ্ছে না বিধায় সরকার বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবাহ কমানোর কৌশল গ্রহণ করে। সেই কৌশলের অংশ হিসাবেই সুদের হার বাড়ানো হয়। এতে করে বেসরকারি খাতে অর্থায়ন দূর্বল হয়ে পড়বে, শিল্পায়ন হবে না যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাছাড়া দেশে বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান বাড়বে না । শুধু সুবিধা হবে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেশি পরিমানে টাকা ধার করতে পারবে। এই সুবিধার বিপরীতে মূল্যস্ফীতিও বাড়বে। জানা কথা যে, সরকারের অতিমাত্রায় ঋণ নিলে তা মূল্যস্ফীতিকে বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এমনিতেই মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে অতিষ্ট দেশের জনগণ। গত বছর (২০১১) এর মার্চে প্রথম বারের মত বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয় ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরো সর্বশেষ গত নভেম্বরে যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতেও গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বর্তমানে কেউ কেউ বলছেন মূল্যস্ফীতি ১৩ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এতে করে থমকে গেছে অর্থনীতির অন্যান্য সূচক। বাংলাদেশ আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় এ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় আসতে পারে। সে পরিস্থিতি এড়ানোর প্রস্তুুতি কি আমাদের আছে?
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×