
এই লেখা কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই লিখা কিংবা এই ব্লগের কোনো লেখা অনুমতি ছাড়া কেউ কপি করলে তাকে কপিরাইট লঙ্ঘন আইনের আওতায় এনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওঁরা সন্ত্রাসবাদী,ওঁরা জঙ্গি, ওরা খুনী, ওঁরা সবাই অদেখা সৃষ্টিকর্তার মানুষ।
জানি সম্পূর্ণ লিখা বাক স্বাধীনতা ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও আমার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াবে ,অতীতের ঘটে যাওয়া হুমকির অনুসারে।

আধুনিকতার ছুয়া আমরা মন ভরে উপভোগ করছি প্রযুক্তির স্বাদ কেউ-ই ত্যাগ করছে না।তবু্ও আমারা অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার এবং কাল্পনিকতা থেকে কতটুকু বের হতে পেরেছি??এটা বলাবাহুল্য যে প্রাণীজগতের মধ্যে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী। এই পৃথিবীতে মানবজাতির মধ্যে ৮৫% মানুষই তাদের পূর্ব পুরুষ অনুসারে ভিন্ন-ভিন্ন ধর্মের অনুসারী।আমার যারা পড়ালেখা করেছি সবার জানা আছে ছয় মিলিয়ন বছরের পূর্বপুরুষদের বিবর্তন ও আজকের মানবসভ্যতার ইতিহাস।

প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে,এখানে আমারা মানবসৃষ্টি বা পৃথিবীসৃষ্টিকে কেন্দ্র করে আলোচনা করবো না।প্রতিবেদনটি সাজানো হয়েছে, সন্ত্রাসবাদী,জঙ্গি, খুনী, অন্ধবিশ্বাসী এবং মানবতাবিরোধীদের কঠিন জবাব দেওয়ার জন্য।ধর্মীয় বই কিভাবে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা এ সম্পর্কে কয়েকটি ধর্মীয় বইয়ের লেখার ব্যখ্যা নিচে আলোচনা করা হয়েছে তাছাড়া বিশেষভাবে এশিয়াতে মুক্তমনা বিজ্ঞানমনস্কদের কিভাবে হত্যা ও দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয় এসব উপস্তাপন করা হয়েছে।

আরবীয়যোগ ও আদি-মানবেদের ধর্ম নিয়ে হানাহানির ইতিহাস আমাদের সবার ধারণা আছে।আমি এখানে কোনো ধর্মকে ছোট করতে আসিনি, আমি কোনোভাবেই ধর্ম প্রাণদের অসম্মান বা আঘাত করতেছি না।প্রতিটি ধর্ম সৃষ্টি করা হয়েছিল মানবতার কল্যাণের জন্য। যদিও এটি সম্পূর্ণ অন্ধবিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত।তবুও ধর্ম সৃষ্টিকারী নেতারা মানবতার পক্ষে ছিলেন, খুন,সন্ত্রাসী এমনকি পাপ কাজ থেকে বিরতি থাকার জন্য অনুসারীদের উপদেশ দিয়েছিলেন।তাহলে এখানে প্রশ্ন থেকে যায় উগ্রপন্থী মৌলবাদীরা কিভাবে সৃষ্টি হয়?এখানে মুহাম্মদের প্রতিস্থাপিত কোরাণের সূরাহ আল বাকারাহ'র ২৪৪ নাম্বার আয়াতে লেখা আছে যে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে । তাই
যেহেতু সন্ত্রাসবাদী, জঙ্গি ও খুনিদের নিয়ে আমাদের আলোচনা। তাই এসবের বিস্তারিত প্রমাণ সাপেক্ষে নিচে উপস্তাপন করা হল।

যাহা সম্পূর্ণ একটি অন্ধবিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এই আয়াত এটা প্রমাণ করে যে আল্লাহর জন্য অন্যকে হত্যা করা কিংবা,নিজেকে যুদ্ধ থেকে সরিয়ে নিলে আল্লাহ কখনো তার দলের লোকদের সাথে নেই।এবং এই আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে উস্কানীমূলক।যাহা মানবতার পক্ষে কাজ করে না।


উদাহরণ নীচে দেওয়া হয়েছে। এশিয়া থেকে শুরু করা যাক ,এশিয়ার ইসলামধর্মের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গুলোর অন্যতম মদদদাতা দেশগুলোর মধ্যে প্রাণ কেন্দ্র হচ্ছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ প্রদান। যেখান থেকে প্রতি বছর হাজার -হাজার ইসলামী জিহাদি জঙ্গি তথা সন্ত্রাসী তৈরী হয়।এই তিনটি দেশে মুক্তমনা এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখকদের অবস্থা সূচনীয়! বাক স্বাধীনতার পক্ষে অথবা বিজ্ঞানের আলোকে যদি কেউ এইসমস্ত দেশে পৃথিবী ও সৃষ্টিকর্তার ব্যাখ্যা দেয়,তবে ইসলামপন্থী উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী মৌলবাদীরা সেই বিজ্ঞানমনস্কদের কুপিয়ে হত্যা করে আল্লাহুয়াকবার বলে আনন্দ উপভোগ করে।

13 Muslim countries officially punish atheism or apostasy by death, while “the overwhelming majority” of the 193 member states of the United Nations “at best discriminate against citizens who have no belief in a god and at worst can jail them for offences dubbed blasphemy.


ইসলামপন্থী উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী মৌলবাদীরা বর্তমানে ইউরোপ, আমেরিকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। According to the latest Special Eurobarometer 493(2019) the Muslim population in France is estimated to be 5% or 3.350. 000 million. Pew Research Center predicts the Muslim population would rise to 8.6 million or 12.7 percent of the country in 2050.তারা ইউরোপ,আমেরিকা এসে নিজেদের সাবলম্বী করছে এবং একটা সময় প্রকাশ্যে তথাকথিত জিহাদের ঘোষণা দিয়ে ,এমনকি স্থানীয় ইউরোপীয়ান নাগরিকদেরকে ও তাদের জিহাদের শিকার হিসাবে আমলে নিয়ে হত্যা করছে।

কয়েকদিন পূর্বে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিলো সাবাই হয়তো সেটি দেখেছেন। যেখানে একটি মহিলা তার শিশু বাচ্চাকে নিয়ে খ্রিস্টানের ধর্মের গির্জায় গিয়েছিলেন, শিশু বাচ্চাটি কোনো কারণে কান্না করছিল। গির্জার রক্ষককে বলা হয় ফাদার যিনি গির্জার দেখাশোনা করেন এবং খ্রিস্টানের ধর্মে তাকে একজন পবিত্র বা সম্মানিত ব্যক্তি ধরা হয়।শিশু বাচ্চাটির কান্না এই ফাদার সহ্য না করতে পেরে বাচ্চাটিকে মারধর করা শুরু করলেন, তখন বাচ্চাটির মা ফাদারের সাথে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। এটা কি কোনোভাবে একজন ফাদারের কাছ থেকে কাম্য ছিল?এরকম হাজারো ইতিহাস আছে যাহা বলতে গেলে উপন্যাস হয়ে যাবে।


আমার জন্মের পর হতে এখন পর্যন্ত কোনোদিন শুনিনি যে একজন নাস্তিক বা ধর্মে অবিশ্বাসী ব্যাক্তি কোনো ধার্মিককে হত্যা করেছে। না আমি আজও শুনিনি একজন নাস্তিক ধার্মিককে হত্যা করেছে। হলেও সেটা হতে পারে তবে আমার জানা নেই!তাহলে আমার কি বলতে পারিনা ধার্মিকরাই খুনি ওঁরা সন্ত্রাসবাদী?
“For those who believe in God, most of the big questions are answered. But for those of us who can’t readily accept the God formula, the big answers don’t remain stone-written. We adjust to new conditions and discoveries. We are pliable. Love need not be a command nor faith a dictum. I am my own god. We are here to unlearn the teachings of the church, state, and our educational system. We are here to drink beer. We are here to kill war. We are here to laugh at the odds and live our lives so well that Death will tremble to take us.”
― Charles Bukowski

To God, I’m the loyal opposition.”
― Woody Allen
যদিও বিভিন্ন ধর্মের প্রাধান ধর্মগ্রন্থ গুলো কখনো,কখনো শিকার করে না যে । তুমি এই ধর্ম অবলম্বন করে খুনী হও বা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন তৈরী কর।প্রতিটি ধর্মের প্রাধান গ্রন্থ গুলো ও প্রধান নেতারা ধর্ম তৈরী করেছিলেন শান্তি প্রতিস্থাপন করার জন্য।ধর্মগ্রন্থ গুলোর অপব্যাখ্যা ও অস্পষ্টতা এবং ধর্মীয় নেতাদের পূর্ব উস্কানিমূলক নীতি উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয় । বিভিন্ন জংগী সংগঠন এবং তাদের পূর্ব পুরুষদের রীতি বা বাংশ টিকিয়ে রাখার জন্য হত্যা করা হয় মুক্তমনাদের।
()এখন চলেন কয়েকটি ধর্মের সমাজ রক্ষার শান্তির বাণী দেখি।তা না হলে অন্ধবিশ্বাসীরা আমাকে বলে উঠবে আমি তাদের ধর্মগ্রন্ত্রের ভালো দিক গুলো উপস্থাপন কেন করলাম না।

তোমাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে এক জ্যোতি ও স্পষ্ট কিতাব। যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি পেতে চায় এ দ্বারা তিনি তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং অন্ধকারসমূহ থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন নিজ ইচ্ছায়। আর তাদের পথ দেখান সরল পথ। -সূরা মাইদা (৫) : ১৫-১৬
এ আয়াতে ‘সালাম’ শব্দ আছে। সাধারণত ‘সালাম’ শব্দের অর্থ করা হয় ‘শান্তি’। এ অর্থ ভুল নয়, তবে সূক্ষ্ম অর্থ হচ্ছে ‘মুক্তি’। বিপদ ও অশান্তি থেকে মুক্তিই তো শান্তির বড় উপায়।

the Lord says
In the Scriptures, the Lord says, “I am the one who punishes; I will pay people back.” To have peace, we must put on an attitude of peace in our relationships with others. An attitude of peace is one that does not seek revenge. It does not seek to hurt those who have hurt them or punish those who do them wrong.( gossip4jesus / February 20, 2018).

৩১. ঈর্ষা থেকে হৃদয়কে মুক্ত করো । সহিংসতা থেকে বিরত থাকো ।
[সামবেদ-২৭৪]
২৪. সমাজকে ভালোবাসো । ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও । দুর্গতকে সাহায্য করো । সত্য ন্যায়ের সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রাখার শক্তি অর্জন করো । [ঋগবেদঃ ৬.৭৫.৯]
উপরন্তু:
যদিও বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ সমূহ আংশিক শান্তি ও মানবতার ব্যাখ্যা দেয় তারপর ও বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ থেকেই ধার্মিকরা উস্কানীমূলক শিক্ষা একটু বেশি পায়।এসবের উদাহরণ আমরা উপরে খুব পরিস্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি।ধর্ম গ্রন্থ সমূহে যেসব মানবাধিকার ও শান্তির পথের কথা বলা হয়েছে ধার্মিকরা তার সামান্য পরিমাণ ও বাস্তব করছে বলে আমার মনে হয় না বরং ধর্মের নামে দালালী, সন্ত্রাসবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, খুন, হত্যা প্রতিনিয়ত চলছেই।
পাশাপাশি, এশিয়াতে ধার্মিকরা যে হারে মুক্তমনাদের হত্যা করছে এমনটি চলতে থাকলে এশিয়াতে বাক স্বাধীনতা বলতে কোনো কিছু ভবিষ্যতে থাকবে বলে আমার মনে হয় না।

মজার বিষয় হল যে,জংগী জিহাদিরা শুধু মাত্র খুন/ মানুষ হত্যা করে পরকালের জান্নাত লাভ করতে চায়।আর এসব হত্যার তালিকায় মুক্তচিন্তার মানুষদের রাখা হয়।যেখানে মুক্তচিন্তার মানুষ গুলো সব সময় মানুষের জন্য কাজ করে এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলে।আর এটাই বুজি ধার্মিকদের গায়ে আঘাত দেয় যার জন্য তারা নাস্তিকদের হত্যা ফাসি ছাড়া আর কিচ্ছু বুজে না।
তাছাড়া, পৃথিবীতে এখনো মানবতা ঠিকে আছে একমাত্র মুক্তমনাদের ও ধার্মে অবিশ্বাসীদের কারণে। আমর ধারণা মতে যদি বর্তমান সময় ধার্মিকরা যেভাবে উগ্র হয়ে উঠছে, এমনকি তারা তাদের নিজেদের গোত্রে হানাহানী করছে এক পর্যায়ে তারা মুক্তচিন্তার পক্ষে কাজ করা মানবাধিকারের দলগুলোর সহায়তা নিয়ে নিজেদের রক্ষা করছে।
আমার অনুসন্ধানে অনুসারে ধার্মিকদের চেয়ে অধার্মিকরাই জীবে প্রেমি ও মানবতাবাদী।
অন্ধবিশ্বাসী হয়ে অদেখা আল্লাহকে খুশি করতে যাকে ইচ্ছে তাকেই আল্লাহুয়াকবার বলে খুন করে উল্লাস করা বন্ধ করুণ।
বন্ধ করুণ ধর্মের নামে ব্যাবসা, বন্ধ করুণ ধর্মের নামে রাজনীতি। ধর্মের দোহাই দিয়ে আপনারা জয়ী হতে পারবেন না।
জয় হবে মানবতার জায় তাদেরই হবে যারা পৃথিবীটাকে প্রযুক্তির ছুয়া দিয়েছে। জয় হবে মুক্তমনাদের, জয় নাস্তিকদের হবে কারণ নাস্তিকরা খুনি না।
জয় আমারও হবে কারণ আমি মানবতার কথা বলি আমি বাক স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলি।
এই পৃথিবী অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্তি হবে,এই পৃথিবী কোনো সৃষ্টিকর্তা চায় না। আমরা সবাই মানুষ এটা হোক আমাদের পরিচয়। প্রতিটি প্রাণীই হচ্ছে তার প্রতিটি নিঃশ্বাসের এক একটি সৃষ্টিকর্তা।
জয় হোক মানবধর্মের।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

