somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

শিরোনামহীন দুটি গল্প

০৭ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৫:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গল্প ১।
এখন আর দুপুরে দামী হোটেলে খাই না, দাম এবং খাদ্যমানের জন্য। মোটামুটি এক/দেড়শ টাকা প্লাস বয়দের কিছু টিপস (এটা আমার জন্য ফিক্সড হয়েছে ১০টাকা, ঈদ চাদে বেশি হয়, যে খাবার এনে দিবে সেই পাবে) দিয়ে বের হতে পারলেই খুশি। কাকরাইল, বিজয়নগর, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, মতিঝিল এলাকার অনেক হোটেলে খেয়েছি গত ১২ বছরে, ইদানিং নয়াপল্টনে একটা ভালরান্নার গরীব হোটেল পাইছি, এখানেই খাই। যে কোন দুই পদের ভর্তা, পাতলা ডাল দিয়ে ৬০/৬৫ টাকা দিয়েও খেয়ে উঠা যায়, এখানে খুব ভাল গরুর গোস্তও পাওয়া যায়, মাঝে মাঝে খাই, আবার এদের একটা মুগ ডাল ভুনা রান্না হয় সেটাও আমার পছন্দ, তবে এদের মাছ রান্না মুখে দেয়া যায় না! ওরা আমাকে ভাল চিনে, সম্পর্ক এমন হয়েছে যে, টাকা না থাকলেও বাকীতে খেয়ে আসতে পারবো বলে মনে করি।

আজ খেতে বসেছি, আমার সামনে এক যুবকও বসেছে। আমার কিছু বলার দরকার নেই, ওরাই নিয়ে আসে, আমার পছন্দ করতে হয় বা বলতে হয় কি খাব, আর জানতে হয় কি কি আছে! বিপরীতে বসা যুবক ভাইটিকে দেখলাম ভাতের কথা বলে বলল বেগুন ভর্তা দিতে, ওরা তাই দিলো। যুবক ভাইটি এই এক ভর্তা দিয়ে খেতে লাগলো, আর এক প্লেট ভাত দিতে বলল। আমিও তখন ডাল ভর্তা দিয়ে শুরু করছি, ওরা আমাকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো, আর কি কি দিবে। আমি আরেক পদের ভর্তার কথা বলে খেতে লাগলাম। যুবক ভাইটা একই বেগুন ভর্তা দিয়ে দুই প্লেট ভাত খেয়ে উঠে গেল। আমিও দুই পদের ভর্তা দিয়ে খেয়ে উঠে গেলাম। ঘটনা খুব সাধারন, এমন প্রায় দেখে থাকবেন আপনারা।

কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, এই যুবকের সামনে বসে আমি মাছ গোস্ত কিছুই বলতে পারছিলাম না, আমার বার বার মনে হচ্ছিলো, এর সামনে মাছ গোস্ত খাওয়া যদিও সহজ ছিলো কিন্তু বিবেকের কাছে আমি বাঁধা ছিলাম, আমার বিবেক আমাকে বার বার বাঁধা দিচ্ছিলো, এটা অন্যায় হবে। এদিকে অন্য মনে চিন্তা করছিলাম, তাকেও অফার করি, যুবকের চেহারা দেখে সেটাও সাহসে কুলায় নাই। যাই হোক ওর বিল ছিলো ৩৫টাকা, আমার হয়েছিল ৪৫টাকা!


গল্প ২।
ভাত খাবার পরে অহেতুক চা পানেও আমার অভ্যাস আছে, দুনিয়ার সব বিশ্রী অভ্যাসের একটা। এখানেও আমি একটা নিদিষ্ট দোকানে যাই, দোকানের পিছনে বসার ব্যবস্থা আমাকে টানে, বেঞ্চে বসে মোবাইল টেপা যায়! রামগতির যে ছেলেটা চা বানায় সে আমার টেষ্ট বুঝে গেছে, বলতে হয় না, চিনি ছাড়া কন্ডেন্সমিল্ক দিয়ে কড়া করে ভরে চা বানিয়ে দেয়, দাম ১০টাকা! কেনা কাটায় আমার অভ্যাস এক দোকান সিলেক্ট করে সেখানেই যাওয়া, অনেক দোকান থাকলেও যাই না, যেখানে সামান্য সন্মান পাই সেখানেই বার বার যাই!

এই দোকানে এসে দেখি সেই চা বানানো ছেলের সাথে আরেক যুবকের বিরাট ঝগড়া। সেই যুবকটা বলছে ফ্রীজে সব কোক/ফান্টা কেন, আমাদের দেশীয় মজো নাই কেন? এই ঝগড়া দেখে হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছিলাম না। এই যুবকটা বার বার বলছিলো, দোকানে কোন ই/স্রা/য়ে/লী/ই/ন্ডি/য়া/র প্রোডাক্ট রাখবি না! সব দেশি মালামাল বিক্রি করবি, নাইলে এলাকায় দোকান করতে দিবো না, যেন আশির দশকের কোন মাস্তান!

হ্যাঁ, আসল কথা হচ্ছে, দোকানপাটে আজকাল এমন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যারা বিদেশী পণ্য কিনতে চাইছে না, সব কিছুতেই দেশী প্রোডাক্ট খুঁজে, দোকানে পাশের দেশের প্রোডাক্ট পেলে বলা চলে রাগ করেই ফেলছে! বার বার মনে হচ্ছিলো, এই দেশ একদিন এগিয়ে যাবেই, এই যুবক তরুণেরা এখন কিছুটা বুঝতে পারছে, পুরা বুঝে গেলেই হয়ে যাবে! আমরা বুড়োরা একটা অপেক্ষা করি, হয়ত দেখে যেতে পারবো নুতন বাংলাদেশ!

নয়াপল্টন ৭ই মে ২০২৪ইং (গল্প দুটোর নাম দিতে চাইছিলাম, পারি নাই, চিন্তায় কুলালো না! হত্যভাগ্য লেখক বলেই হয়ত।)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০২৪ বিকাল ৫:৫৭
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপির মূল্যায়নে বঙ্গবন্ধু কিংবা আওয়ামিলীগের অবদান শূণ্য। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অবদান জামাতের॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:০৬



বিএনপি করার পূর্ব শর্ত কি? ইতিহাস বিচারে দেখা যায়, পার্ক মার্কিন প্রেসক্রিপশনে সর্বোচ্চ পর্যায়ের মিথ্যুক হতে হবে। আর সাথে রাজাকার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড হলে তো কথাই নাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণতন্ত্রের অধিকার : ২৫ কিমি: মধ্যে ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২১

গণতন্ত্রের অধিকার : ২৫ কিমি: মধ্যে ?



জাতিসংঘে বিশ্বের সকল দেশের অংশগ্রহনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান হয়ে গেল ।
সেখানে শাসক, স্বৈর-শাসক ও গনতন্ত্রর বক্ততারা এক হয়েছিলেন । কিন্ত কোন ভালো সিদ্বান্ত
নিতে পেরেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×