somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সত্যপথিক শাইয়্যান
অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে তাঁকে মারও খেতে হয়েছিলো। তিনি মানুষকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে এমন জ্বালাতন করতেন যে, মাঝে মাঝে তাঁকে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হতো। কিন্তু, লোকের বিদ্রূপ বা লাঞ্ছনার ভয়ে তিনি তাঁর ঈশ্বর প্রদত্ত দায়িত্ব থেকে একটুও পিছপা হোন নাই। তাই, তিনি বলেছিলেন - "আমি বুঝছিলাম ও বিশ্বাস করেছিলাম যে, ঈশ্বর আমাকে জ্ঞান অন্বেষণে এবং নিজের ও ওপরের পরীক্ষায় জীবন যাপন করতে নিয়োগ করেছেন।" (অ্যাপোলজি, ১৭)

জানা যায়, সক্রেটিস সব সময়েই দৈব বাণী শুনতেন। কখন কি করতে হবে, কোন কথা বলতে হবে, কোন কাজটা শুভ আর কোনটা অশুভ তা তিনি দৈব বাণীর ইঙ্গিতে জেনে ফেলতেন। এই দৈব বাণী শোনার ব্যাপারটা তিনি গোপন না করে মানুষকে জানিয়ে দিতেন। এমনকি দৈব বাণী দিয়ে বন্ধুদের সাহায্যও করতেন। সেজন্যেই হয়তো, ফরাসী লেখক লেলু সক্রেটিসকে পাগল বলে অভিহিত করেছেন। যে সে পাগল নয়! সক্রেটিস ছিলেন লুথার, পাস্কাল, রুশোর মতো মানুষদের দলের পাগল!

তবে, সক্রেটিস বলতেন - "মানুষ নিজের বুদ্ধিবৃত্তি পরিচালনা করে নিজেই যে বিষয়ের মীমাংসা করতে পারে, তার জন্য দৈবাদেশের অপেক্ষা করা উচিৎ নয়।" অর্থাৎ, নিজের কাজের দায়ভাগ তিনি নিজেই নিয়েছেন, ঈশ্বরের উপর চাপিয়ে দেন নাই। উচিৎ কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি ঈশ্বরের আদেশের অপেক্ষা করতেন না।

আসলে, সক্রেটিস এমন এক সমাজে বড় হয়েছিলেন, যেখানে বহু দেব-দেবীর প্রচলন ছিলো। এথেন্স এতও বেশি জ্ঞানী মানুষে পরিপূর্ণ ছিলো যে, সক্রেটিস যখন নিজেকে দৈব বাণী দ্বারা পরিচালিত বলে ঘোষণা করে কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই জ্ঞান প্রচার করতে লাগলেন, তাঁকে নিয়ে মানুষ উপহাস করা শুরু করলো। আমাদের ভারতবর্ষ বা আরবে দৈব বাণী শোনার বিষয়টি খুব একটা অবাক করা বিষয় নয়। কিন্তু, ইউরোপের সেই সময়কার জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজে একজন নিজেকে দৈব বাণী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন বলে প্রচার করবেন, তা বিশ্বাস করার মতো মানুষ খুব কমই পাওয়ার কথা।

কিন্তু, সক্রেটিস দমে যান নাই। বর্ণিত আছে, সক্রেটিসকে যখন বিচারালয়ে নিয়ে আসা হয়, তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন - "হে আথীনীয়গণ, আমি তোমাদেরকে শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি, কিন্তু, আমি তোমাদের চেয়ে ঈশ্বরের দিকেই বেশি ধাবিত হবো। যতদিন আমার দেহে নিঃশ্বাস বইবে ও দেশে সামর্থ্য থাকবে, ততদিন আমি জ্ঞান অন্বেষণে এবং তোমাদেরকে শিক্ষাদান ও সৎ পথ প্রদর্শন করতে পিছপা হবো না।"

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৭
৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×