somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রচলিত ছয় উছূল ভিত্তিক চিল্লাওয়ালা তাবলীগ জামাতীদের কথিত শায়খুল হাদীছ মাওলানা যাকারিয়ার ‘আলিমদের বর্তমানে জাহিলদের আমীর নিযুক্তকরণ” এই ভ্রান্ত আক্বীদা জায়িযকরণের মিথ্যা অপচেষ্টার শরীয়তসম্মত সঠিক জবাব (১)

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘আলিমদের বর্তমানে জাহিলদের আমীর নিযুক্তকরণ’ প্রচলিত ছয় উছূল ভিত্তিক চিল্লাওয়ালা তাবলীগ জামাতীদের কথিত শায়খুল হাদীছ মাওলানা যাকারিয়ার এই আক্বীদা সঠিক কিনা এবং এই আক্বীদাকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য যে দলীল পেশ করেছে তা বিশ্বাস করলে কোন মুসলমানের ঈমান ঠিক থাকবে কিনা অথবা মুরতাদ হয়ে যাবে কিনা তা প্রত্যেক মুসলমানের গভীরভাবে চিন্তা-ফিকির করা অবশ্যই অবশ্যই ফরযের অন্তর্ভুক্ত। স্মরণীয় যে, হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট কুরআন শরীফ-এ বর্ণিত ‘একমাত্র আলিমগণই আল্লাহ পাককে ভয় করেন’ এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যাঁর যত বেশি আল্লাহ পাক-এর প্রতি ভীতি রয়েছে, তিনি তত বড় আলিম।’ হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি একজন আলিমকে সম্মান করলো সে যেন ৭০ জন হযরত নবী আলাইহিমুস্ সালামকে সম্মান করলো।” (সুবহানাল্লাহ) আরো ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি কোন হক্কানী আলিম তথা আল্লাহ পাক-এর ওলীকে দেখল, সে যেন হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখল। আর যে হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখল সে যেন আল্লাহ পাককে দেখলো। আর যে আল্লাহ পাককে দেখলো, আল্লাহ পাক তার সমস্ত গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! যাঁকে দেখলে গুনাহখতা ক্ষমা হয়, তাঁর মর্তবা-মর্যাদা কত তা বর্ণনা করা কঠিন ব্যাপার।
একজন সাধারণ মুসলমানও খুব ভালভাবেই জানেন যে, একজন আলিম (জ্ঞানী)-এর সম্পূর্ণ বিপরীত হচ্ছে একজন জাহিল (মূর্খ)। আলিমদের শূন্য স্থান কখনো কোন অবস্থাতেই জাহিলদের দ্বারা পূরণ করা সম্ভব নয়, এ কথাও একজন সাধারণ মুসলমানের খুব ভালভাবেই জানা আছে। অথচ প্রচলিত ছয় উছূল ভিত্তিক চিল্লাওয়ালা তাবলীগ জামাতীদের কথিত শাইখুল হাদীছ মাওলানা যাকারিয়া ‘আলিমদের বর্তমানে জাহিলদের আমীর নিযুক্তকরণ’ এই ভ্রান্ত আক্বীদাটি সঠিক প্রমাণ করার জন্য তার লিখিত ‘তাবলীগ জামাতের সমালোচনা ও জবাব’ (অনুবাদ: মাওলানা সাঈদ আল মিসবাহ: পৃষ্ঠা- ৪৭, ৪৯) বইতে যে যুক্তির অবতারণা করেছে তা সম্পূর্ণরূপেই হারাম-নাজায়িয। মাওলানা যাকারিয়ার লিখিত ভাষ্যানুযায়ী যে বিষয়গুলো প্রকাশিত হয়েছে তা হলো- ১. আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুত্তম কাজ করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ! কেননা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উসামা বিন যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বিভিন্ন বাহিনীর আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। মাওলানা যাকারিয়ার লিখিত ভাষ্যানুযায়ী হযরত উসামা বিন যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অনুত্তম (জাহিল) ছাহাবী ছিলেন। নাঊযুবিল্লাহ! যেমন, হযরত উসামা বিন যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবু উবায়দাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ বিন জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত কায়েস বিন সা’আদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা অনুত্তম (জাহিল) ছিলেন। নাঊযুবিল্লাহ! ৩. হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের ভিতরে কতক ছাহাবী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সমালোচক ছিলেন। নাঊযুবিল্লাহ! ৪. এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক হযরত উসামা বিন যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে আমীর নিযুক্তকরণের বিষয়ে কতক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আপত্তি করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ!
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান- ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০৪



অসুস্থ মানুষের সেবা করা, অবশ্যই মহৎ একটি কাজ।
বয়স হয়ে গেলে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। আসলে মানুষ অসুস্থ হয়ে গেলেই অসহায় হয়ে যায়। অবচেতন মন বারবার বলে- এবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ অভিন্ন ফিকাহ মানার কথা বললে রাসূল (সা.) কোরআন ও হাদিসের মানার কথা কিভাবে বললেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১



সূরাঃ ৫৫ রাহমান, ১ নং থেকে ৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। আর রাহমান (পরম মেহেরবান)।
২। তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন।
৩। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন।
৪। তিনিই তাকে শিখিয়েছেন বাইয়ান (ভাব প্রকাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভয়ের সংস্কৃতি নয়, চাই জবাবদিহিমূলক রাজনীতির বাংলাদেশ

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ছিল না, এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান। পনের বছরের দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসন যেভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী বা দীর্ঘস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিছু অনুভূতি

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৪

" কিছু অনুভূতি "

অনেক দিন থেকেই অসুস্থ ছিলাম , তারপরও এখন সবার দোয়ায় আস্তে আস্তে ভালো হয়ে উঠছি আলহামদুলিল্লাহ। মাঝেমধ্যে ব্লগে এসে সবার সুন্দর সুন্দর লেখাগুলো পড়ে আমার মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পারমাণবিক বিস্ফোরণের আগে সন্তানের সাথে আমি যে কথাগুলো বলবো

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১০


যদি শুনি আজ রাত আটটায় পারমাণবিক বোমা হামলা হবে আমাদের এই শহরে, যেমন ইরানে সভ্যতা মুছে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দিলেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মহামান্য ট্রাম্প, তাহলে আমি আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×