somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন বাংলাদেশের কিছু মাছ চিনি (তৃতীয় পর্ব)

০২ রা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা বাঙালি। আমাদেরকে এক সময় বলা হত, 'মাছে ভাতে বাঙালি'। কিন্তু এই দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির বাজারে মাছের মূল্যেরও উর্ধ্বগতি আজ আমাদের এই বৈশিষ্ট্যকে ইতিহাসে পরিণত করেছে। এক সময় মাছ ছিলো বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্য। কিন্তু আজ অনেকে আমাদের দেশী অনেক মাছই চেনে না। বাংলাদেশের মাছ নিয়ে তাই লিখতে বসেছি এই ব্লগ। দ্বিতীয় পর্বের পর আজ তৃতীয় পর্ব দিলাম। যদি পাঠকের ভালো লাগে তাহলে আরও কিছু মাছের নাম, বৈশিষ্ট্য ও ছবি নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে। যারা সরাসরি দেখতে চান তাহলে বাজারে গিয়ে ছবি দেখে মিলিয়ে নিবেন। কিনতে না পারলে কি আর করা!! আজকের পর্বে নয়টা মাছের নাম, বৈশিষ্ট্য ও ছবি দিলাম।

মোলা, মোয়া, মলা, মরারু, মৌচি, মোওয়া বা মওয়ালীঃ এই অতি পরিচিত ছোট মাছটি নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর ডোবা সর্বত্র পাওয়া যায়। ইহা ২-৪ ইঞ্চি দীর্ঘ; পানির উপরের স্তরের বাসিন্দা এবং উপরের এলাকার খাদ্যের খাদক। স্থানান্তর দ্বারা এই মাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। এতে উচ্চ পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে।
ছবিঃ


ঢেলা, মাউয়া, কোটি বা গুনতাঃ এটি নদী-নালা, ও বিল-ঝিলের মাছ। বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়। এদের আকৃতি চৌকনা ধরনের, মাথা চাপা, মুখ ছোট, ঠোঁট পাতলা, পিঠের দিকে উঁচু। দেহ রূপালী কিন্তু পৃষ্ঠভাগ কালো এবং ডানা বা পাখনা সবুজাভ। এই মাছটিও মলার মত ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ বলে কথিত।
ছবিঃ


চেলা, বনস্পতি বা কাটারিঃ এটি ছোট, দীর্ঘাকৃতি ২-৪ ইঞ্চি দীর্ঘ মাছ। এগুলো উপরের স্তরের খাদক এবং শুককীট নাশক হিসেবে পরিগণিত। এগুলো নদী, বিল ও বন্যা প্লাবিত খালে পাওয়া যায়।
ছবিঃ


বাইলা, বেলে, বেলিয়া, ভালিয়াঃ এই ছোট হতে মাঝারী আকারের মাছ কিছুটা চোংগা আকৃতির। মাথার প্রায় পিছন দিকের কাছাকাছি চক্ষুযুক্ত মাছটি হলুদাভ-ধূসর বর্ণবিশিষ্ট ও প্রায় হাড় বিহীন ও মোলায়েম। এটি বিভিন্ন শ্রেণীর শৈবাল থেকে শুরু করে ছোট পোকা মাকড় ও মাছকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এগুলো সাদু ও লোনা উভয় প্রকার পানিতেই পাওয়া যায়। এই মাছ সাদু পানি থেকে লোনা পানিতে গিয়ে ডিম পাড়ে। এই মাছ বড়শি দ্বারা ধৃত হয় এবং ছোট চিংড়িকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ছবিঃ


বাইমঃ এই মাছ দীর্ঘ ও খানিকটা চোংগাকৃতি, ১০-১৫ ইঞ্চি লম্বা, সবুজাভ দেহ-বর্নযুক্ত ও সুস্বাদু। পিঠের দিকে জলপাই-সবুজাভ ও নিচের দিকে সাদাটে। দেহের পাশে বহু ধূসরাভ সাদা স্পট দেখা যায়। এটি নদী-নালা ও খালের পরিষ্কার ও ঘোলাটে উভয় প্রকার পানিতেই বাস করে। এরা শ্যাওলা, মাটি, ছোট মাছ ও উদ্ভিদ ইত্যাদী খেয়ে জীবন ধারন করে। এদের দিম আঠার মত কোন কিছুকে অবলম্বন করে আটকে থাকে।
ছবিঃ


বামঃ এরা দেখতে বাইমের মত এবং বাইমের গণভুক্ত কিন্তু আকারে অনেক বড়; ১৫-২৫ ইঞ্চি দীর্ঘ। বাদামী বর্ণে, পৃষ্ঠ এলাকায় ও পাশে গভীর বাদামী স্পট ও ডোরা দেখা যায়। ডানা লেজের কাছাকাছি বিস্তৃত এবং বিভিন্ন প্রকার স্পটযুক্ত। এই মাছ বদ্ধ পানিতে কাদায় তথা তলদেশে বাস করে। পানি শুকালে এই মাছ নিজেকে কাদায় ডুবিয়ে দেয়। এগুলো অন্য মাছের পোনা, দিম ও ব্যাঙাচি খায়। বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়।
ছবিঃ


তারা বাইম, কোটা বাইম বা গাইচিঃ উপরোক্ত দুই প্রকার বাইমের মধ্যবর্তী দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট (১২-১৮ ইঞ্চি)। এই বাইমের পৃষ্ঠ এলাকায় কককগুলি কাঁটা থাকেযার আকার লেজের দিকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত। বর্ণ বাদামী ধরণের। এগুলো কর্দমাক্ত খালে বাস করে। জোয়ার ভাটা এলাকার লোনা পানিতেও এদের দেখা মেলে। এমনকি বর্ষাকালে ধান বা পাটক্ষেতেও দেখা যায়।
ছবিঃ


খললা বা হাল্লাঃ ছোট হতে মাঝারী আকারের এই মাছ, বাংলাদেশ, পশ্চিমবংগ ও মায়ানমারে পাওয়া যায়। দৈর্ঘে ৭-১৫ ইঞ্চি, উপরের দিকের বর্ণ হালকা বাদামী এবং নিচের দিকে তথা পেটের দিকে ক্রমশ সাদাটে ভাবাপন্ন। পিঠের ও লেজের পাখনা ধূসর বর্ণ। এই মাছ প্রধানত নদী ও মোহনার মাছ এবং পানির উপরের দিকে সাঁতার কেটে বেড়ায়। কিন্তু চমকিত হলে নিমেষে গভীর পানিতে ডুব মারে। বড় বড় নদীতে টানা জালের সাহায্যে এই মাছ ধরা হয়।
ছবিঃ


ভেদা বা মেনীঃ মাছটি ৫-৮ ইঞ্চি দীর্ঘ, গাত্রবর্ণ সবুজাভা বাদামী পিতলাভ চমক বিশিষ্ট। মুখ উপরের দিকে ঊঠানো ও পিঠের কাঁটা দৃঢ়। লেজের পাখনা দীর্ঘ ও গোলাকৃতি। এগুলো ছোট মাছ ও শুককীট খেয়ে জীবন ধারন করে। বাংলাদেশের সর্বত্র পাওয়া যায়।
ছবিঃ


ধৈর্য সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। ভুল হলে ধরিয়ে দেবার জন্য পাঠকগণকে অনুরোধ করছি।

প্রথম পর্বের লিঙ্ক

দ্বিতীয় পর্বের লিঙ্ক
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৪৯
১৪টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×