তখন আমি ক্লাশ সেভেনে পড়ি। বাবার পোস্টিং হলো দীঘলছড়িতে। অনেকটা উপশহরের মতো। নতুন স্কুলে ভর্তি হলাম। প্রথমদিকে স্কুলে খুব বোর লাগতো। তখনো সবার সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠেনি ভালো করে। অনেকটা সময় একা একা চুপ করে বসে থাকতাম ক্লাশে । ঠিক সেসময়ই মালতী এলো বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে। মালতী ছিলো আমাদের স্কুলের ম্যাথের টিচার নিখিলেশ বাবুর মেয়ে। শুনেছি, তিনি খুব নীতিবান এবং কঠিন মনের মানুষ। খুব ঋজু আর সুঠাম দেহের অধিকারী নিখিলেশ বাবুর মুখখানি দেখলেই কেমন জানি নিজের ভেতর নিজে গুটিয়ে যেতাম। যদিও সেসময় তিনি আমাদের কোন ক্লাশ পেতেন না তবুও তাঁর বিশাল ব্যক্তিত্বের সামনে নিজেকে অসহায় মনে হতো। তাই প্রথম যেদিন মালতী দুষ্টুমী করে বললো, অরণ্য চৌধুরী, এখানে তো অরণ্য পাওয়া যাবে না, চলো মাঠে যাই। সবাই মাঠে খেলছে। সেদিন আমি একটু ভয়ে ভয়ে আড়ষ্ট ছিলাম, না জানি কোন ঝামেলায় পড়তে যাচ্ছি। তাই মিছে শরীর খারাপ লাগার অজুহাত দিয়ে চুপটি করে বেঞ্চিতে মাথা দিয়ে কাটিয়ে দিলাম টিফিন পিরিয়ড। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যেয় দেখি, মাষ্টারমশায় আর বাবা একসাথে ঘরে ঢুকলেন। আমি নিজের রুমে গিয়ে বই নিয়ে পড়তে বসলাম। একটু পরেই আমার ডাক পড়লো। মাষ্টারমশায় বললেন, তোমার পড়ালেখায় কোন সমস্যা হলে আমাকে বলবে। সবার সাথে মেলামেশা করো, খেলাধুলা করো। দেখবে নতুন স্কুল খুব ভালো লাগছে। আমি নীরবে সম্মতি জানিয়ে গেলাম। মাষ্টারমশায় বাবাকে উনার বাড়িতে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে সেদিনের মতো বিদায় নিলেন। আমিও আস্তে আস্তে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছি। আর কখন জানি মালতী হয়ে উঠেছে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু . . .
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



