ব্যায়বহুল খেলাগুলোর মধ্যে গলফ একটি।এ খেলা কিভাবে খেলতে হয় বা এর নিয়ম কানুন-ই বা কী অনেকেই তা জানেনা।আর আমাদের দেশের যেখানে নিরক্ষরদের সংখ্যা জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক,অধিকাংশই বাস করে দারিদ্র্যসীমার নীচে তাদের পক্ষে এসবের খোজ খবর রাখার তো প্রশ্নই আসেনা।ফুটবল প্রাচীন খেলা বলে দাদা নানারাও এর সম্পর্কে মোটামুটি অবগত আর ক্রিকেটের অতিমাত্রিক প্রসারের ফলে এখনকার সব বয়সের মানুষেরই এর উপর আগ্রহ বেশী।হাতে গোনা কিছু মানুষ শখের বসে গলফ খেলে থাকেন।এত টাকা খরচ করে সবার তো আর সামর্থ্য নেই গলফ খেলার।আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে পাচ বছর আগেও গলফ নিয়ে তেমন কোন আলোচনা সমালোচনা খুব একটা শোনা যায়নি।গলফ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কোন ভাবনা আছে এমন আভাসও পাইনি,ঘরোয়া কোন গলফ টুর্নামেন্টের খবরও খুব বেশী কানে বাজেনি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ গলফ খেলবে এ তো বড়ই দূরহ ব্যাপার ছিল।আমাদের দেশ থেকে বড় কোন গলফার এর উদয় হবে এও আমাদের কল্পনাতীত ছিল।তবে অসম্ভব কিছুই ছিলনা।বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের উদয় হয়েছে এ মাটি থেকে, এ মাটির সন্তান নোবেল পুরস্কার অর্জনে সক্ষম হয়েছে,তবে এ মাটিতে বিশ্ব খ্যাত এক গলফারের উদয় হবে এতে আমরা আশ্চর্যন্বিত হবো কেন?আমরা গরিব দেশ বলে কি গলফ খেলতে পারবোনা? সিদ্দিকুর দেখিয়ে দিয়েছে,পরিশ্রম,ইচ্ছাশক্তি আর চেষ্টার ফলে কী না করা যায়!নিজের একাগ্র চেষ্টার ফলেই সে একজন খ্যতনামা গলফার হিসেবে বিশ্বের কাছে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছে।২০১০সালে পেপারে সিদ্দিকুরের ব্রুনাই ওপেন জয়ের খবর দেখার পর জানতে পারলাম গলফ অঙ্গনের বাংলাদেশের নাম।এর পর থেকেই বাংলাদেশে গলফ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শুরু হল।জাতীয় পর্যায়ে এ খেলা নিয়ে খুব বেশী উদ্যোগী হয়েছে এও বলা যাবেনা।তবুও সিদ্দিকুরের ব্রুনাই ওপেন জয় এদেশের গলফকে নতুনভাবে জেগে উঠার বার্তা জানালো। বলা চলে সিদ্দিকুরই আমাদের গলফের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় আজ আমাদের জন্য নিয়ে এলেন আরেকটি সম্মান,হিরো ইন্ডিয়া ওপেন গলফ টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হলেন।এর আগে সিদ্দিকুর রহমান ১২টি অপেশাদার গলফ টুর্নামেন্ট জয় করেছেন।এর মধ্যে বাংলাদেশে জিতেছেন ৫ টি,পাকিস্তান,নেপাল ও শ্রীলংকায় জিতেছেন ২ টি করে,আর একটি জিতেছেন ভারতে।২০১০খ্রিস্টাব্দে প্রথম বাংলাদেশী গলফার হিসেবে সুযোগ পান এশিয়ান ট্যুর-এ অংশ নেয়ার।এবং ঐ বছরই ব্রুনাই ওপেন শিরোপা জিতে নেন।সেই সাথে একই বছর তিনি এশীয় গলফারদের র্যাং কিয়ে ৯-তে উঠে আসে।২০১০ খ্রিস্টাব্দে ১ম বাংলাদেশী হিসেবে এশিয়ান ট্যুর এ স্থান পাবার পর পরই ১ আগস্ট ১ম বাংলাদেশী হিসেবে তিনি জয় করেন এশিয়ান ট্যুর এর শিরোপা।তার ক্রীড়া নৈপুন্যের জন্য কলকাতার ‘এই সময়’ পত্রিকা তাকে ‘বাংলার টাইগার উডস’ নামে অভিহিত করে।
মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাফল্য গুলোই আমাদের জীবনকে রঙ্গিন করে রেখেছে,ভুলিয়ে রেখেছে যত সব মন যাতনা।জন্ম থেকেই দেখে আসা রাজনৈতিক অস্থিরতা,হরতাল,রাহাজারি,মানুষ,খুন,প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বারবার বিপর্যস্থ,একের পর এক ভয়াবহ সড়ক,নৌ দুর্ঘটনা,অগ্নিদগ্ধের ঘটনা,ভবন ধস,...,...এত সব কিছুর পরও এই দেশ বিশ্বের সুখীদেশ গুলোর তালিকায় উপরের দিকে স্থান পায়।সব যাতনা ভুলে বেচে থাকার স্বপ্ন দেখে।রাজনৈতিক অস্থিরতা যখন চরম পর্যায়ে বলে চারিপাশে রব তখনি একের পর এক বিজয় বার্তা এনে বাংলাদেশের মানুষকে আনন্দে উদ্বেলিত করে তুলেছে জাতীয় ক্রিকেট দল ঠিক তারই কিছুদিন পর আরেক সাফল্য বার্তা এনে দিলেন গলফার সিদ্দিকুর,আরেকবার আনন্দে ভাসালেন এ জাতিকে।আমি নিশ্চিত অল্পকয়েকদিনের মধ্যেই বাংলার প্রতিটি মানুষ সাকিব আল হাসানের সাথে আরেকটি নামকে নিজেদের হৃদয়ে গেথে নিবে, লাঙ্গল কাধে নিয়ে মাঠে যাওয়া কৃষকের ঠোটেও উচ্চারিত হবে গলফার সিদ্দিকুররের নাম।তারা হয়ত গলফ খেলা কি তা বুঝবেনা,কোনদিন গলফ খেলা চোখের সামনে দেখবেনা,খেলতেও পারবেনা,তবুও তারা জানবে গলফ নামে একটি খেলা আছে আর সিদ্দিকুর এ খেলার একজন লড়াকু সৈনিক,আমাদের গর্ব।
বাংলার টাইগার উডসের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।ও আরেকটা সুখবর হয়ত অনেকেই ইতমধ্যে জেনেগেছেন- আসছে মার্চে গলফ বিশ্বকাপে ১ম বাংলাদেশী হিসেবে অংশগ্রহন করবেন আমাদের বাংলার টাইগার উডস।সবাই দোয়া করবেন।এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় যেন আরো বড় সাফল্য নিয়ে আসতে পারেন আমাদের জন্য।অন্তত এ দেশের অস্থিরতাকে ভুলে থাকবার জন্য একটি সাফল্য যে আমাদের অতীব প্রয়োজন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


