somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@লেখকের ভিড়ে পাঠকের মৃত্যু..@

৩০ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ২:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কেউ কেউ মজা করে বলে থাকে এই বাংলায় কাক আর কবির অভাব নেই।বাজারে তো বইয়ের অভাব নেই।কতশত লেখকের হাজার হাজার বই।পাশের বাড়ির সলিম থেকে শুরু করে বিভূতিভূষন কিংবা তারও আগের লেখকেরও বই পাওয়া যায়।তবে ইদানীং কালে ফেসবুকে অনেককেই লিখতে দেখা যায়।এটা নিঃসন্দেহে ভালো।ফেসবুকের পাতায় বাংলা লেখা দেখেও একধরনের আনন্দ পাওয়া যায়।তরুন লেখকেরা নিজেরা বিভিন্ন গ্রুপ বানিয়ে,পেজ বানিয়ে লেখক তৈরীতে/বাংলা সাহিত্যের প্রসারে বেশ অবদান রাখছে।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যারা পেজ বা গ্রুপটাকে নিয়ন্ত্রন করছে সেখানে স্বচ্ছতা কতটুকু আছে??একেকজনের লেখায় বয়ে যাচ্ছে লাইক ঝড়।উচ্ছ্বসিত লেখক নিজেই নিজেকে তারকার আসনে বসিয়ে দিচ্ছেন।অনেকে নিজেই সগৌরবে নিজেকে লেখক দাবী করছেন,নিজের লেখার নিজেই তারিফ করছেন।এই তো কিছুদিন আগে ফেসবুকে দুজনের স্ট্যাটাস দেখে বেশ পুলকিত হলাম।
“…… হারানো ক্ষমতাটা মনে হয় আস্তে আস্তে ফিরে পাচ্ছি, গত দুই সপ্তাহে ১৩টা গল্প শেষ করে নোটে অনলি মি করে রেখেছি।”
“……গত তিনমাসে পচিশটা গল্প আর অজস্র কবিতা লিখেছি…”
আমিও তাদের উদ্বুদ্ধ করেছি।কমেন্টে বলেছি-আপনি চালিয়ে যান,আপনার মাঝে বেশ প্রতিভা রয়েছে,এভাবে চালিয়ে যেতে পারলে খুব কম সময়ের মাঝেই আপনি সংখ্যার দিক থেকে রবীন্দ্রনাথ নজরুলকেও পেছনে ফেলে যেতে পারবেন,তবে লেখার মানটা যেন বজায় থাকে,সেদিকে একটু খেয়াল রাখবেন।
তবে এমন অনেকে আছেন যারা বেশ ভালো লেখার চেষ্টা করেন।অনেকে আছেন যারা ভালো না লিখলেও চেষ্টাটা ধরে রেখেছেন,এটাও একদিক দিয়ে বেশ ভালো প্রচেষ্টা।
যাই হোক,এসব নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই।তবে ইদানীং অনেকেই আছেন যারা ফেসবুকে/ব্লগে লিখালিখি করলেও তাদের সৃষ্ট নবগঠিত ফেসবুকীয় ভাষাগুলো ব্যবহার করে পুরো লেখাটাকেই নষ্ট করে দিচ্ছেন,ঠিক দুধের মাঝে একফোটা ময়লা মেশানোর মত।
আপনি এখন ফেসবুকের বড় তারকা।আপনার প্রতিটি লেখা লাইকঝড়ে নতুন উচ্ছ্বাস ফিরে পায়,আপনি উম্মাদনায় ভাসেন,…,…।
যাই বলেন না কেন আমি সত্যিই একজন ভালো লেখক।বিশ্বাস করুন আমি একজন ভালো লেখক।এত অল্পবয়সে এমন সাহস আর কার থাকতে পারে যে বুক চিতিয়ে বলতে পারে সে একজন ভালো লেখক।আমি পারি,শুধু আমি বলতে পারি,এত বড় সাহসটুকু কেবল আমারই আছে।আর বলবোই না কেন বলুন?ফেসবুকে আমার বন্ধু বান্ধব আর অনুসারীর সংখ্যাটা একবার চেক করেই দেখুন না।প্রতিনিয়ত তাদের আবদার মেটাতে আমাকে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে।আমি প্রতি ঘন্টায় আমার পাঠকদের জন্য একটা করে স্ট্যাটাস দেয়ার চেষ্টা করি।তবুও তাদের মন ভরে না,আরো চাই তাদের। আমি বেশ যথাসাধ্য চেষ্টা করি তাদের খুশি রাখার,আমার লিখার একটু চর্চাও হল পাঠকরাও সন্তুষ্ট থাকলো,জনপ্রিয়তাও রক্ষা পেল।আমি ফেসবুকের বেশ কয়েকটি লিখার পেইজের সদস্য যেখানে আমার লিখা প্রকাশ হওয়া মানে লাইক কমেন্টের বন্যা বয়ে যাওয়া।আবার নিজেও কয়েকটি পেইজের আডমিন,সবসময় চেষ্টা করি নিজের লিখা দিয়ে সবার মন জয় করতে।আপনি যত ভালোই লিখুন প্রচারের একটা ব্যাপার কিন্তু অবশ্যই আছে।আর বর্তমান যুগে ফেসবুকের চেয়ে বড় প্রচার মাধ্যম নিশ্চয়ই আর কিছু হতে পারেনা।আমি চেষ্টা করি সুচারুপভাবে মাধ্যমটির সদ্ব্যবহার করতে।আপনি যাই বলুন না কেন আমি কিন্তু ফেসবুকের মাধ্যমে নতুন পাঠক তৈরীর যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছি।আপনারা যে হরহামেশাই বলছেন এখনকার তরুন-তরুনীরা পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে,পাঠকের সংখ্যা কমছে দ্রুত,আপনাদের এ বিষয়টিকে আমি মিথ্যা প্রমান করে দিয়েছি।
আজকাল নিশ্চয় পত্রিকায় আমার লিখা আপনাদের চোখে পড়ছে।দেশে হাজারটা দৈনিক পত্রিকা থাকতে পারে তাই হয়ত আপনার চোখ আমার লেখা এড়িয়ে যেতে পারে।কিন্তু আমার চেষ্টা থেমে নেই,আমি পাঠকদের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন।প্রতিবারই কিন্তু বইমেলায় আমার নতুন বই বেরুচ্ছে।বিক্রি হোক বা না হোক আমার চেষ্টা কিন্তু থেমে নেই।সাহিত্য সম্মেলনগুলোতে আমি সবসময় যোগদান করি,ওখানে বড় বড় লেখকদের সাথে পরিচিত হওয়া যায়।আমার ফেসবুকের পাতায় একবার চোখ বুলিয়েই দেখুন না দেশের নামকরা লেখকদের সাথে আমার ছবি রয়েছে।
আপনি হয়ত বলবেন বাংলা একাডেমীর বানানের রীতি সম্পর্কে আমার কোন ধারনাই নেই।রবীন্দ্রনাথের দশটা রচনাবলীও হয়ত আমি পড়িনাই,কাজী নজরুলের সাতটা রচনাবলীও আমার পড়া নেই।বিশ্বাস করুন আমি কিন্তু রবীন্দ্রনাথ,নজরুলকে ঠিকই বুকে ধারন করছি।প্রতি রাতে রবীন্দ্রসংগীত না শুনলে আমার ঘুম আসেনা।সকালবেলা ইসলামী নজরুল সঙ্গীত না শুনে আমার দিন শুরু হয়না।আমার সংগ্রহে রবীন্দ্রসঙ্গীত আর নজরুল সঙ্গীতের বেশ কয়েকটি আলবাম রয়েছে।এই যে দেখুন না আমার লাইব্রেরীটার প্রথম দুইটা তাক আমি রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের বই দিয়ে সাজিয়েছি,আপনি যাই বলুন আমাদের কিন্তু এটা বিশ্বাস করতেই হবে তারা দুইজন হলেন বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জল নক্ষত্র,সুতরাং তাদের সম্মানটা আমরা কেন দিব না বলুন-অবশ্যই দিতে হবে।ফেসবুকের কল্যানে মাশাল্লাহ আমার এখন অনেক জনপ্রিয়তা আমি এখন একজন তারকা।প্রতিদিন আমার কোন না কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই হয়,আবার পাঠকদের কথা চিন্তা করে লিখতে হয়,রুটিন মেনটেন করে স্ট্যাটাস দিতে হয়।রবীন্দ্রনাথ নজরুলের রচনাবলী পড়ার এত সময় কোথায় বলেন?সময় যেটুকু পাই শেক্সপিয়ারকে দিই,টেনিসনকে দিই……বুঝেন না আজকালকের ছেলেমেয়ার ইংরেজী লেখকদের সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখে।বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে তাই ইংরেজী সাহিত্যের লেখক আর তাদের রচনাবলী নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করি যাতে এখনকার ছেলেমেয়েদের থেকে বাহবা পাওয়া যায়।
ভালো লেখক হওয়ার মূল শর্তই হল ভালো পাঠক হওয়া।আপনি বিশ্বাস করুন আমি কিন্তু ভালো পাঠক হওয়ার যথেষ্ট চেষ্টা করে যাচ্ছি।বিশ্বাস করুন আমি একজন ভালো পাঠক।আমি বিশ্বের সেরা দশটা উপন্যাসের নাম জানি,আমি বিশ্বের সেরা দশজন লেখকের নাম বলতে পারি।বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ দশজন লেখকের নাম জানি।তাদের সেরা দশটি রচনার নাম আমি জানি।প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে মধ্যযুগের এবং আধুনিক যুগের বিখ্যাত লেখকগণের নামের সাথে তাদের শ্রেষ্ঠ রচনাবলীর নাম এক নিঃশ্বাসে বলতে পারবো।বাংলা সাহিত্যের দুই নক্ষত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত রচনাবলী আমার এতটাই ঠোটস্থ,এতটাই আত্নস্থ বলতে পারেন তাদের লিখা সম্পর্কে আমার ধারনা একজন রবীন্দ্রগবেষক কিংবা নজরুল গবেষক এমনকি একজন স্বনামধন্য বাংলা বিভাগের অধ্যাপকের চেয়েও বেশি।এই যে দেখুন না আমার বাসার লাইব্রেরীটাই তার প্রমান দিবে।কয়েকহাজার বই আমার সংগ্রহেই আছে।এ তো গেল আমার বাসার লাইব্রেরীর কথা আর আমার ল্যাপটপের পুরোটা জায়গা জুড়েই যে শুধু বই আর বই।আপনি-ই বলুন কালে কালে যুগে যুগে কম লেখকের তো জন্ম হলনা।এত লেখকের সব বই পড়া কি আমাদের পক্ষে সম্ভব??এত লেখকের নামই বা আমাদের পক্ষে মনে রাখা সম্ভব??
লিখা ধরে রাখার অদম্য চেষ্টা সাধুবাদযোগ্য।কিন্তু বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ সম্পর্কে আপনাকে ধারনা নিতেই হবে।ইশ্বরচন্দ্র থেকে শুরু করে এ যুগের তরুন লেখকদের সম্পর্কে আপনাকে কিছুটা হলেও ধারনা নিতেই হবে।আপনাকে বিষাদসিন্ধুও পড়তে হবে আপনাকে পড়তে হবে ক্ষুধাবৃত্তান্ত।মীর মোশাররফ হোসেন থেকে শুরু করে সৈয়দ শামসুল হক কাউকেই আপনি বাদ দিতে পারবেন না।আর মাঝখানে রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুলকে করে নিতে হবে অতি আপন।সারাজীবনের পাঠের সঙ্গী হিসেবে আপনাকে রবীন্দ্র নজরুল সাহিত্যে সাথে রাখতেই হবে।জানার পরিধি বিস্তৃত না করা পর্যন্ত নিজেকে ভালো লেখক দাবী করার অধিকার আপনার নেই।দু’চারটিখানি চরিত্রকে কিছু মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেই নিজেকে বড় লেখক দাবী করার অধিকার আপনি রাখেন না।সম্মান ধরে রাখবার জন্য বুকের ভেতরে সম্মান দেবার জায়গাটাকে আরো বেশি পরিমানে বাড়াতে হবে।পাশ্চাত্যের সাহিত্য সম্পর্কেও আপনাকে জানতে হবে।বহির্বিশ্বের খ্যাতিমান লেখক আর তাদের রচনাবলীকে নিজের জানার পরিধিতে স্থান দিতেই হবে।বাংলা একাডেমীর বানান রীতি সম্পর্কে বিস্তর ধারনা আপনাকে নিতেই হবে।সাহিত্যের ভালো খারাপ সম্পর্কে আপনাকে জানতেই হবে।নিজের মেধাকে না খাটিয়ে অখাদ্য কিছু রচনা করার মানসিকতা থেকে আপনাকে সরে আসতেই হবে।নতুন চরিত্র সৃষ্টির ভাবনার সাথে সাথে আপনাকে নতুন শব্দ সম্পর্কে জানার চর্চা বাড়াতেই হবে।বাংলা সাহিত্যের লেখক দাবী করতে গেলে আবহমান বাংলার রুপ বৈচিত্র্য,শিল্প সংস্কৃতি আর খেটে খাওয়া মানুষের জীবনধারা সম্পর্কে আপনাকে বিস্তর জানতেই হবে।অন্যায় আর শোষনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ যেমন ফুটে উঠবে আপনার লেখায় তেমনি সাম্প্রদায়িকতা ভুলে সাম্যের জয়গানও তুলে ধরতে হবে শব্দ ঝংকারে।কদম ফুল,নদী,বর্ষা,বৃষ্টি না দেখে হাজার বর্ষার কবিতা রচনা করলেও কবিতা যথার্থ হয়ে উঠবেনা।মানবীয় প্রেম ভালোবাসার পাশাপাশি জীবন নির্ভর সাহিত্যের জন্ম আপনাকে দিতেই হবে।
আপনি বলতে পারবেন না আপনি চর্যাপদের নাম শোনেননি,আপনি বলতে পারবেন না আপনি শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের নাম শোনেননি,আপনি বলতে পারবেন না আপনি মঙ্গল কাব্য,বৈষ্ণবসাহিত্য,শুন্যপুরান,সেকশুভোদয়া,রামায়ন,মহাভারতের নাম শোনেননি,আপনি একজন সেরা উপন্যাসিক পরিচয় দিবেন অথচ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বংকিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’র একটি পাতাও আপনি খুলেও দেখেননি।‘শ্রীকান্ত’ ‘রাজলক্ষ্ণী’ চরিত্র গুলো আপনার অপরিচিত অথচ হয়ত আপনি শরতচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে চিনেন।আপনি মেঘনাদবদ কাব্যের নাম শোনেননি,আপনি মহাশ্মশান কাব্যের নাম শোনেনি,আপনি জানেন না মাইকেল মধুসূদন দত্ত কে?আপনি জানেন না কায়কোবাদ কে?আপনি জানেন না রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতা কাব্য নাকি উপন্যাস??আপনি পথের পাচালী সিনেমা দেখে অভিভূত হয়ে সত্যজিতকে হাজারবার ধন্যবাদ জানিয়েছেন কিন্তু আপনি জানেন না এটি একটি উপন্যাস থেকে তৈরী।এই উপন্যাসটির রচয়িতা বাংলাসাহিত্যের আরেক খ্যাতিমান লেখক বিভূতিভূষন বন্দোপাধ্যায়।আপনি তারাশংকরের নাম শোনেননি,আপনি বিখ্যাত উপন্যাস ‘কবি’ পড়েন নি।আপনি জানেন না ‘হাসুলী বাকের উপকথা’ উপন্যাসটিও তার লিখা।স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে আপনাকে প্রায় উত্তেজিত হতে দেখি সেমিনারে,আপনাকে আবেগতাড়িত হতে দেখি কিন্তু আপনি জানেন না এই তারাশংকর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে একটি উপন্যাস লিখেছিলেন,যার নাম-‘একটি কালো মেয়ের কথা’।আপনি প্রতিদিন দশটি করে কবিতা লেখেন অথচ আপনি জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন না,বনলতা সেন কবিতাটির আবৃত্তি শুনেছেন বহুবার কিন্তু একটিবার পড়ে দেখেননি।আপনি পল্লী কবির নাম শুনেছেন কিন্তু তার কবর কবিতাটি পুরোটা পড়েননি।আপনি জানেন না ‘নকশী কাথার মাঠ’ জসীমউদ্দীনের শ্রেষ্ঠ রচনা।আপনি ‘রুপাই’এর মত চরিত্র সৃষ্টি করবার ক্ষমতা রাখেন না অথচ আপনি জানেন ই না ‘রুপাই’ চরিত্রটি জসীমউদ্দীনের সৃষ্টি।আপনি বাংলা সাহিত্যের এক অনবদ্য সৃষ্টি ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের লেখক মানিক বন্দোপাধ্যায়কে চিনেন না।আপনি সুফিয়া কামাল,শওকত ওসমান,আহসান হাবীব,ফররুখ আহমদ,সিকান্দার আবু জাফর,সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নাম শোনেন নি।আপনি জানেন না ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ টি কার লেখা?আপনি জানেন না ‘লাল সালু’ ‘চাদের অমাবশ্যা’ আর ‘কাদো নদী কাদো’ এই বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।আপনি জহির রায়হানের নাম শুনেছেন তার রচিত বাংলা সাহিত্যের অনবদ্য সৃষ্টি ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসটি আপনি পড়েছে অথচ আপনি জানেন না ‘বরফ গলা নদী’, ‘আরেক ফাল্গুন’ তার রচিত আরো দুটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।আপনি মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকটি পড়েছেন হয়ত কিন্তু আপনি জানেন না ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উপর ভিত্তি করে তিনি ‘মানুষ’ নাটকটি রচনা করেন।আপনি আবু ইসহাকের সূর্যদীঘল বাড়িতে পা ফেলেন নি,আপনি দুর্বার তরুন সুকান্তের ‘রানার’ ‘অভিযান’ এর যাত্রী হননি।আপনি একটি মাত্র কবিতা দিয়ে শামসুর রাহমানকে চিনেন,আপনাকে জানতেই হবে ‘বন্দী শিবির থেকে’ ‘বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,বুক তার বাংলাদেশে হৃদয়’[কাব্যগ্রন্থ], অদ্ভুত আধার এক,এলো সে অবেলায়,অক্টোপাস[উপন্যাস]-তারই রচনা।ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনাকারী হাসান হাফিজুর রহমানের নামই আপনি জানেন না।আপনি আলাউদ্দীন আজাদের নামই শোনেননি তাহলে আপনি কিভাবে জানবেন ‘কর্ণফুলী’ এবং ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’ উপন্যাসটি আর বিখ্যাত কবিতা ‘স্মৃতিস্তম্ভ’এর রচয়িতা তিনি?১৯৭৭ সালে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘বসুন্ধরা’ তার তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাস নিয়ে তৈরী এটাও নিশ্চয়ই আপনার জানা নেই?কিংবদন্তীর কথা বলা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহকেও মনে রাখতে হবে।আপনি আল মাহমুদকে যদি সোনালী কাবিন কাব্যের জন্য চিনে থাকেন তবে আপনার জানার পরিধি শুন্যের কোঠাতেই রয়ে গেল।আল মাহমুদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একমাত্র উপন্যাস ‘উপমহাদেশ’ যেমন জানতে হবে তেমনি কাব্যগ্রন্থ ‘লোক-লোকান্তর’ কিংবা ‘কালের কলস’ এবং গল্পগ্রনহ ‘পানকৌড়ির রক্ত’ সম্পর্কেও জানতে হবে।যদি ‘চিলে কোঠার সেপাই’ কিংবা ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসের নাম না শুনে থাকেন তবে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস নামটাও আপনার কাছে ভিনগ্রহের কারো নামই মনে হবে কিংবা পাশের বাড়ির কোন প্রতিবেশীর নামই মনে হবে। আপনি কেবল হুমায়ুন আহমেদকেই চিনেছেন মনে প্রানে, হিমু থেকে মিসির আলী তার সব চরিত্রই আপনি মনে ধারন করেন অথচ তার নামের সাথে অনেকাংশেই মিল হুমায়ুন আজাদ নামে বাংলা সাহিত্যে এক নক্ষত্রের সম্পর্কে আপনার সবকিছুই অজানা।যদি ভিন্ন মতাদর্শের জন্য হুমায়ুন আজাদেকে আপনি উপেক্ষা করে থাকেন তবে সেটাও যৌক্তিক নয়।তার মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু বাংলা সাহিত্যে তার অবদান মোটেও উপেক্ষার বিষয় নয়।শেষবেলায় এসে যেন সেই হুমায়ুন আজাদের কথাটাই বারবার উঠে আসে ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে যাচ্ছে’-‘নষ্টদের দানবমুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক/সব সংঘ পরিষদ;-চ’লে যাবে অত্যন্ত উল্লাসে/চ’লে যাবে এই সমাজ সভ্যতা-সমস্ত দলিল-/নষ্টদের অধিকারে ধুয়েমুছে।’ বড়ই ব্যাথিত হলাম,বড়ই মর্মাহত হলাম,বড়ই আহত হলাম,আপনি একজন ভালো লেখক কিংবা একজন ভালো পাঠক যাই বলেই নিজেকে আখ্যায়িত করবেন।

[বিঃদ্রঃ-এই লেখাটি মোটেও কাউকে খাটো করার উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা নয়।কেননা,কারো লেখা নিয়ে সমালোচনা করার নূন্যতম যোগ্যতা আমার নেই।ইদানীং ফেসবুক/ব্লগের কল্যানে অনেক তরুন লেখকের লেখা পড়ার সৌভাগ্য হয়।কিন্তু এদের অনেকেই কেবল লিখার দিকেই ঝুকে পড়ছে,না খেয়াল রাখছে বানানে না খেয়াল রাখছে উপমার দিকে।মন চাইলো আর যেকোন কিছুকে কোন একটা বিশেষনে বিশেষায়িত করে দিল।কতটুকু সামঞ্জস্য হল সেদিকে মোটেও খেয়াল রাখছেনা।বরঞ্চ নিজেদের খেয়ালখুশি মত শব্দ ব্যবহার করে উলটো লেখাটির সৌন্দর্য্যটুকুও ম্লান করে দেয়।ইদানীং যেটি ফেসবুকে বেশি চোখে পড়ে,- ফেসবুকীয় কিছু ভাষাকে গল্প,কবিতা যেকোন লেখার সাথেই সংমিশ্রন করানো হচ্ছে।যা মোটেও কাম্য নয়।অনেকে লাইক ঝড়ে ভেসে গিয়ে কল্পলোকে নিজেকে বিরাট সাহিত্যজন ভেবে মুচকি হাসছে কিংবা তার বহিঃপ্রকাশও ঘটাচ্ছে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার মাধ্যমে।অথচ সে নিজেই জানেনা যে লেখাটি কিছু সময় পর যখন সে আবার পড়ে দেখবে তখন নিজেই লজ্জা বোধ করবে এবং তখন হয় লেখাটি মুছে দেয়ার জন্য উম্মুখ হয়ে পড়বে কিংবা সংশোধন ও পরিমার্জনে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।আমি জানি আমি এতকিছু বলার যোগ্যতা রাখিনা।তবুও তরুন লেখকদের স্বার্থেই কথাগুলো বলা অতীব প্রয়োজন বোধ করেছি বলেই এই লেখাটি লেখা।]
লেখকের সংখ্যা বাড়ছে পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে কি??উঠতি লেখকরাই ভালো পাঠক হয়ে উঠতে পারছেনা,স্রষ্টা হবার স্বপ্ন তাদের কিন্তু সৃষ্টি বাচিয়ে রাখার ইচ্ছে নেই....
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×