somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোঃজাহিদুল হাসান (রাশেদ)
মুক্ত চিন্তা হতে পারে দেশ বদলের হাতিয়ার......

দীর্ঘশ্বাস থেকে কেউ মুক্ত নই.।।।!!!

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

না,কেউ প্রকৃত সুখী নই।কারন কেউ স্বস্তিতে নেই।স্বস্তি আর সুখ দুই জিনিস।যে ব্যক্তি তিনবেলা খেয়ে বেচে থাকে সেই সুখী মানুষ।কিন্তু আমরা প্রতিনিয়তই কোন না কোন কিছুর জন্য আকাঙ্ক্ষা পোষন করি।বর্তমান অবস্থান থেকে উন্নতর অবস্থান চিন্তা করি,পরিবার সন্তান ইত্যাদি নিয়ে চিন্তায় মগ্ন থাকি,কোন না কোন না পাওয়ার বেদনায় কাতরাতে থাকি,কোন অপুর্নতায় বুকের ভেতরে সৃষ্ট শূন্যতা পুরন করতে না পারার অব্যক্ত আক্ষেপ এক বুক যন্ত্রনায় কড়া নাড়ে রাতবিরাতে ক্ষনে ক্ষনে,মোদ্দকথা স্বস্তির বালাই নেই আমাদের মনে।আমরা প্রতিনিয়তই অস্বস্তিতে ভুগি।দৈহিক কিংবা মানসিক।হতে পারে তা আক্ষেপ,আকাংখা,কষ্ট,হতাশা,যন্ত্রনা,…,হোক তা ব্যক্তিগত,পারিবারিক,আত্নীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীদের নিয়ে।
ছয়শ কোটি বা তারও বেশি সংখ্যক মানুষ এই পৃথিবীতে বাস করছে।কত বর্ণ কত গোত্র কত ধর্ম কত জাতির মানুষ বাস করছে তার কোন ইয়ত্তা/হিসেব নেই।অথচ প্রতেকটি মানুষ একেকটি মন নিয়ে বেচে আছে।প্রত্যেকের একএকটি হৃদয় রয়েছে।সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেককে ভিন্নতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।ধর্ম এক হতে পারে,বর্ন এক হতে পারে,জাতি এক হতে পারে,কিন্তু কারো হৃদয়ের সাথে কারো হৃদয়ের মিল নেই।কারোরই মনের খবর কেউ জানতে পারেনা।
প্রতিদিন কারো না কারো সাথে দেখা হচ্ছে,কথা হচ্ছে,পথে-প্রান্তরে কত মানুষকে ছুটে চলতে দেখি,কারো সাথে দিনের অনেক সময় কাটিয়ে ফেলি তবুও মনের অব্যক্ত অনেক কথাই থেকে যায় যা আমাদের জানার বাহিরেই থেকে যায়।কারো বিলাসিত জীবন যাপন দেখে কিংবা কাউকে হাসতে দেখলে বাহির দিয়ে তাকালে আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে লোকটা বুঝি অনেক সুখেই আছে।কোন দিনমজুরের ঘামে ভেজা শরীরে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দেখে মনে হতে পারে-বেচারা কত না দুঃখে আছে,কিংবা দিনশেষে মজুরির পয়সা পকেটে পুরে বাজার হাতে তৃপ্তির হাসি মুখে ঘরে ফেরা দেখার পর মনে হতে পারে আহা!সেইতো কত ভালো,দিনে আনে দিন খায়,বিলাসীতা,আহাজারি,হাহাকার,আকাংখা,বৈশ্বিক যত ভাবনা,কোন ধরনের মাথা ব্যাথাই বুঝি নেই, হয়ত সে-ই পৃথিবীর সব চেয়ে সুখী মানুষ।না,হাহাকার,আর্তনাদ,আকাংখা,আক্ষেপ,আহাজারি কোনকিছুরই শেষ নেই।বিলাসবহুল গাড়ি বাড়ি ব্যবহার করা মানুষটিও চায় তার অর্থ বিত্তের পরিমান আরো বাড়ুক,সম্পদের আকাঙ্ক্ষা তার কোনদিন শেষ হয়না।কিংবা কোটি টাকার মালিক হয়ে হয়ত সন্তানকে মানুষ করতে না পারার ব্যার্থতা তাকে পুড়ে মারছে বুকের ভেতরে,হয়ত এত সম্পত্তির মালিক হয়েও একটি সন্তানের বাবা হতে না পারার কষ্টে ভেতরটা মুহুর্তেই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় শতবার,হয়ত এতসম্পত্তির মালিক হয়েও একমাত্র সন্তানটি বাক প্রতিবন্ধী কিংবা বিকলাঙ্গ।প্রতিদিন চোখের সামনে দিব্যি চলাফেরা করা হাস্যজ্ব্যল মানুষটিকে দেখে একটিবারের জন্য কখনো মনে হয়েছে তার ভেতরেও কোন কষ্ট লুকায়িত থাকতে পারে??না,পৃথিবীর কেউ প্রকৃত সুখী নয়।কেননা কেউ স্বস্তিতে নেই।একবুক যন্ত্রনা প্রত্যেকটি মানুষ বয়ে বেড়ায়,রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে কোটি টাকা বা তারও বেশী আয় করা মানুষটি পর্যন্ত।রাস্তার ভিক্ষুকের তো আর আক্ষেপ কিংবা বেদনার শেষ নেই।কিন্তু কোটি টাকা আয় করা লোকটির কষ্ট কোথায়??তার কষ্ট বুকের হিমায়িত ঘরে।এতটাকার মালিক হয়েও তার ভেতরে অনেক অপুর্নতা রয়েছ।হতে পারে প্রিয় মানুষটি হারানোর শোক,হতে পারে পছন্দের মানুষটিকে আপন সঙ্গী করতে না পারার ব্যার্থতা,হয়ত সাধারন মানুষের ভিড়ে ডুবে গিয়ে অতিসাধারন কিছু সময় কাটাবার আক্ষেপ হয়ত মনের অগোচরে ঘটিয়ে ফেলা মারাত্নকভাবে ঘৃনিত কোন পাপকর্ম নিয়ে গভীর অনুশোচনায় ভোগা,…,,...,…
মানুষের ভেতর কতো যে দীর্ঘশ্বাস, জমাট বেঁধে আছে
কতো যে ক্রন্দন, পাতা ঝরার শব্দ, মৃত্যুসংবাদ
মানুষের বুকের মধ্যে ব্যথিত ব্যাকুল ইতিহাস আর আহত সভ্যতা
মেঘের মতো ঘনীভূত হতে হতে একেকটি মর্মান্তিক দীর্ঘশ্বাস হয়ে আছে
মানুষ তাকে বয়ে বয়ে দগ্ধ বেঁচে থাকে;
একেকটি মানুষ বুকের মধ্যে কী গভীর দীর্ঘশ্বাস বয়ে বেড়ায়, কেউ জানে না
একেকটি মানুষ নিজের মধ্যে কীভাবে নিজেই মরে যায়, হায়, কেউ জানে না!
হুমম!,কেউ প্রকৃত সুখী নই।কারন কেউ স্বস্তিতে নেই। আমি তুমি কিংবা সে।আমাদের সবার ভেতরে গভীর দীর্ঘশ্বাস জমাট বেধে আছে,আমরা তাকে বয়ে বয়ে দগ্ধ বেচে আছি।কেউ পুরোপুরি মুক্ত নই।হয়ত আমার অস্বস্তিতে থাকার পরিমানটা একটু বেশী তোমার কম কিংবা তোমার বেশী আমার একটু কম।কিন্তু দীর্ঘশ্বাস থেকে কেউ মুক্ত নই.........!!!!!!
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এই সুযোগ কি আরেকবার আসবে? বা তারাই-কি এটা হাত ছাড়া করবে???

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০

ইরানী নেতা খামেনি শহীদ হওয়ার পরে ইরান কি বলেছিল মনে আছে???

ইরান কইছিলো, ইরানের এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী সেই বেবাক দেশকে রাস্তায় এনে দাঁড় করানো হবে।
প্যান্ট খুলে ছেড়ে দিবে-(এটা আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খাবেন সবাই সমকামী হয়ে যাবেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×