হ্যালো...?
কিরে দোস্ত এখনো ঘুমাস নাকি? আমরা সবাই তোর জন্য ওয়েট করতাসিতো।
সজীব আড়মোর ভেঙ্গে বিছানা থেকে উঠে পড়ে। বাইরে পরন্ত বিকেলে চমতকার রোদ। কালকে রাতেই বন্ধুরা সবাই ঠিক করে রেখেছিল। আজকে বিকালে ধানমন্ডি লেকে সবাই থাকবে। বন্ধুরা মানে ওরা চারজন। সজীব, রুমি, কাজল আর ফারুক।
কিরে এত দেরি করে কই যাও বাবা? সজীবের উদবিগ্ন মা ছেলেকে জিগেস করেন। তেমন কিছুনা আজকে বন্ধুরা একটু ঘুরবো।
আরে আম্মা ওরা আজকে একটু ব্যাচেলরস নাইট করবে। সজীবের ক্যানাডা থেকে আসা বোন হেসে বলে।
ঠিকাছে বেশি রাত করিসনা যেন। গাড়ি নিয়ে যা।
নাহ আজকে গাড়ি লাগবেনা।
ঠিকাছে, কালকে তো যানিস।
বেশি উলটাপালটা খাসনা আবার। বোন আবার টিপ্পনি কাটে।
কি ব্যাপার এত অগোছাল হয়ে কেন? আর কোন ভাল কাপড় নাই নাকি? মাথার চুল ঠিক মত আচ্রাওনি কেন?
ওফ আপা এত পেইন দাও কেন? তেমন কোথাও যাচ্ছিনাতো।
আজকে ওকে কেমন যেন অন্যরকম লাগছে খেয়াল করেছিস? আরে এত চিন্তা কোরোনাতো মা। ছেলেদের অনেক পাগলামি থাকে। অনারস পরার সময় ও এরকম ছিল। অনেকদিন পর সজীবকে এরকম দেখলাম।
আররেএএ...। দেখ সবাই আমাদের দুলা মিয়া চলে এসেছেন। বন্ধু রুমি চিল্লায়ে উঠে।
সরি দোস্ত তোদের অনেক্ষন বসায়ে রাখলাম।
দোস্ত আমাদের সাথে পার পেয়ে গেলেও বউ কিন্তু এসব সহ্য করবনা বুজছোস?
কিরে কাজলা ফারুক(সজীবের আরেক দুই বন্ধু কাজল আর ফারুক) কই?
আর কইস্না বেটা তুই জানস্না হেই বেটা এখন মুসল্লি। নামায পরতে গেসে। ওহ! অইজে হুজুর আইসা পরসে।
কিরে দোস্ত কি আবস্থা? আমার জন্য একটু দোয়া করিস ভাই।
পারুমনা। তোরা নিজের জন্য কর।
ধানমন্ডি লেক খুব একটা চেঞ্জ হয়নাই না?
হ্যা। খালি রাশান কালচারাল্টা মনে হয় ঘশামাজা করসে।
হুমম্। শালার এই রাশান কালচারে কতবারযে আসলাম না মামু? খুব বেশি তো আগে না। আরটসেল, ব্ল্যাক, মেটাল্মেইয তখন্তো কেউ চিন্তোওনা।
তর হেড ব্যাঙ্গিং সেইরকম ছিলোরে। এখনো মিস করি।
কিরে তুই বেটা গাড়ি আনলিনা ক্যান?
ইচ্ছা করেই আনিনাই। আজকে খুব স্টুডেন্ট লাইফের সময় ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে।
কিরে মামু হঠাৎ এত রোমান্টিক হয়ে গেলি!?
কেন যানি খুব মিস করতাসিরে।
ঠিক বলসস।
আচ্ছা ফারুক সোনিয়ার(ফারুক যার থেকে ছ্যাক খেয়ে হুজুর হল) খবর কিরে? কিরে মুড অফ হয়ে গেল নাকি?
বাচ্চা হইসে বলে?
কি কস মিয়া?
হ ব্যাটা ওইদিন এক বিয়েতে তানিয়াকে পাইসিলাম ও বলল।
ইশশিরে মানুষ চিনলনা। কিন্তু যাই বলস জিনিস আছিল একখান। গ্রেট মিস। চিন্তা করিস্না দস্ত তর জন্য আরেকটা খুজে দিমুনে।
আরে তার জন্য এখনত হুজুরাইন লাগবে। মামুতো ফারস্ট ছেকাতেই হুজুর। ঐ রুমি তোর বউয়ের খবর কি?
ধ্যাত তুই বললি আর ম্যাডাম ফন করা শুরু করসে। হ্যা কি হইসে? বললামনা আজকে সজীবের সাথে ফ্রেন্ডরা। হ্যা রাত্রে ফোন করবো। বাই।
আড্ডাবাজি করতে করতে বিকাল সন্ধ্যা হয়ে রাত হয়ে গেল।
কিরে মামু কিসু খাবিনা? ক্ষিদায় তো জান যায়।
কি খাবি? চল মেট্রোতে যাই।
উমম্ ঠিকাছে চল।
কি ব্যাপার কোন ভাল মাল দেখা যায়না কেন মামু?
তোর পিছনেরটা দেখসস? এভাবে লুইচ্চার মত দেখস ক্যান।
তোর এত চুলকানি ক্যান?
কোনটা? শ্লার এই মাইয়ার লগে এই পোলা কেমনে যায়? বেটা মনে হয় নেতা টাইপের কিছু হবে। আরে সজীব্বা, তুই এভাবে ব্যাচেলরস নাইট করবি?
কেন সমস্যা কি?
আরে বেটা মানুষ কত কিছু করে। চল কোন হটেলে যাই। আমার রিজান্সিতে পরিচিত আসে। ধুর! তুউ বেটা আসস খালি এইসবের মধ্যে। শুউন্। ব্যাচেলর লাইফে আমরা কি করতাম? বিকালে এই ধানমন্ডি লেকে আসতাম, মেট্রোতে টাঙ্কি, ঘুরাঘুরি বুজছোস? তোর ভাল না লাগলে চলে যা।
আরে বেটা এত মাইন্ড খাস কেন? নো ম্যান অনেস্টলি আজকে অনেকদিন পর তোদেরকে একসাথে পেয়ে খুব ভাল লাগতেসে। এন্ড ইউ আর দা বস টুনাইট।
এই মারকেট বন্ধ করে দিচ্ছেতো। নয়টা বেজে গ্যাসে।
চল নিচে বাইরে সিড়িতে বসি।
ওয়াও বাতাসটা সেরকম লাগতেসে দোস্ত।
ব্রিষ্টিতো দেখি এখনও অল্প অল্প পড়ে।
দোস্ত সিগারেট দে তো।
খাইসে তুই আজকে সেরকম মুডে আসস দেখি।
আমিও খাব। নেন হুজুর আপনারেও খেতে হবে। নাইলু মাইন্ড করুম কৈলাম।
আজকেইতো শেষ। দে খাই।
ওরে ফারুক ফর্মে আসছেরেহ্।
এই আস্তে বাসা থেকে ফোন দিসে। হ্যা আম্মু? আশ্তেসিতো। কেন কি হইসে? হ্যা হ্যা আচ্ছা ঠিকাসে। রাখি।
কিরে দোস্ত আন্টি চিন্তা করতেসে মনে হয়? বন্ধুরা নিজেদের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে বলল।
হুমম্। এই চলতো। হঠাৎ সজীব উঠে একটা খালি বাসে উঠে পরল।
কিরে তুই কি পাগল নাকি?
তারাতারি উঠ বাস ছেরে দিবে।
কি কস ব্যটা? ইউ আর নট সিরিয়াস!?
শ্লার তোর পাগলামিগুলা গেলনা।
বাপ কালকে তোর বিয়ে পাগলামিটা অন্যদিন করলে হতনা? বাসায় সবাই চিন্তা করবেতো।
তোদের বাসায় প্রবলেম না থাকলে আমার নো প্রবলেম। মামু এদিকে আয়। বাস কতদুর যাইবো?
গাজিপুর চউরাস্তা।
নাও ভারা রাখ। কিরে বাপ, এত ডরাস কেন তোরা? আগেতো তোরা এমন ছিলিনা!
আগে আর এখনে তো অনেক তফাৎ দোস্ত।
আজকের দিনে একটু আগের মত হই? বেশি দূর যাচ্ছিনাতো। আজকেনা আমি বস বল্লি?
এয়ারপোর্ট পার হয়ে ধিরে ধিরে বাস চলে যাচ্ছে। মোটামোটি ফাঁকা রাস্তা। বাসে ওরা চারজন আলাদা সিটে বসে আছে। আর তেমন কেউ নাই। হেল্পার আর ড্রাইভারের পাশের সিটে আরেকজন। সজীবের ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে দেখলো মিলি লেখা। যার সাথে কাল বাদ জুমা সজীবের আক্দ হবার কথা। রাতে রিসেপশন।
গত মাসে মিলির সাথে সজীবের পরিচয়। তার বাবা আর সজীবের বাবা পরিচিত। সজীবের বোন আর মা দেখে সজীবকে বলে দেখে আসতে। বাবার একমাত্র ছোট মেয়ে। একটা বড় ভাই আছে। সজীবদের উলটা। দেখতে খুব মিষ্টি। কথা বারতায় খুব সপ্রতিভ। একটা প্রাইভেট ইউনিতে বিবিএ শেষ করে একটা ব্যান্কে ইন্টার্নি করছে। প্রথম দিন থেকেই দারুন ভাল লেগেছিল মিলিকে। দুজনের মধ্যে ভালই সখ্য হয়েছিল। সজীবের ফ্রেন্ড সারকেলের মোটামটি সবার কথাই মিলি যানে। আর মিলিও সজীবের সাথে অনেক কিছু শেয়ার করেছিল। প্রতি রাতে এই সময়ে ওদের মধ্যে কথা শুরু হয়ে শেষ হয় ফযরের সময়।
মিলি ফোন করেই যাচ্ছে। সজীব কেন যেন ফোনটা ধরেনা। আবার মিলি ফোন করে। এবার সজীব কল রিজেক্ট করে ফোন বন্ধ করে দিল। বাসের গতি আগের থেকে কিছুটা বেশি। ব্রিষ্টি শেষের ঠান্ডা বাতাস খোলা জানালা দিয়ে ভিতরে ঢুকছে। ভেতরে চার বন্ধু কোন কথা বলেনা। সবাই জানালার পাশে নিজের মধ্যে বুদ। সজীব গান গাইতে শুরু করল 'জোওওছনাআয় অজানা পথে চলা'। একে একে বাকিরাও গলা মিলালো 'এখানে আছে যে মোর ভালবাসা....'
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।