somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুক্ষণ....

১৯ শে জুন, ২০১১ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




১৮.০৬.১১
তখন রাত ৯.০০ টা। দিনে প্রোগ্রামের ব্যস্ততা থাকায় রাতেই যাবার সিদ্ধান্ত। প্রচন্ড বেগে বৃষ্টি ঝরছে। যত সমস্যাই হোক শহীদ নোমানী ভাইসহ সতের জন শহীদের রক্তে রাঙা ক্যাম্পাস ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ পরিদর্শন না করে রাজশাহী ত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ১ টি মোটরসাইকেলে আমরা তিনজন। ড্রাইভিং- এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারী, মাঝখানে আমি আর পিছনে বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিকের একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক। বৃষ্টির কারনে রাস্তা অনেক বেশী পিচ্ছিল। তাছাড়া রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোটখাট কুপের মত সৃষ্টি হয়েছে। কলা ভবন,বিজ্ঞান অনূষদ,,সেন্ট্রাল লাইব্রেরী,সিনেট ভবন, শিক্ষক কোয়ার্টার, ইবলিস চত্বর, শিবিরসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর ট্যান্ট, ভিসির বাসভবন, এস এম হল, জোহা হল, কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে শেরে বাংলা হলের সামনে এসে থেমে গেলাম। আর সামনে এগুতে ইচ্ছে করছিলনা। বৃষ্টি ভেজা শরীরটি কেমন জানি চিন্ চিন্ করে উঠলো। অব্যক্ত এক কষ্টে শিহরিত হল দেহ-মন। এই সেই হল, যেখানে খোদাদ্রোহী বাতিল শক্তির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে শহীদ হামযা রা. এর মিছিলে নাম লিখিয়েছিলেন আমাদে প্রিয় ভাই, সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানী। এই সেই স্থান, যেখানে নোমানী ভাই বাতিলের হাতে অবরুদ্ধ আমাদের ৯ জন ভাইকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই পাড়ি জমালেন মহান রবের সান্নিধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ইঞ্চি মাটি আর সুউচ্চ ভবনগুলোর প্রতিটি ইট যেন রক্তিম বর্ণ ধারণ করে নোমানী ভাইসহ সতের জন শহীদের রক্ত ঝরানো ত্যাগ-কোরবানী আর শাহাদাতের জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করছে। শুনশান নীরবতার মাঝে তিনজোড়া চোখ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হলের দিকে। হলের দেয়াল, গেইট আর উপর তলার দরজা-জানালাগুলোর দিকে চুম্বকের মত আটকে আছে আমাদের চোখগুলো। চলে যেতে ইচ্ছে না করলেও সঙ্গত কারনেই বেশীক্ষণ এখানে অবস্থান করা গেলনা। বিশ্ববিদ্যালয়কে পিছনে রেখে বিনোদপুর দিয়ে বের হয়ে আসলাম আমরা। একটু সামনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক। সবাই চুপচাপ, কারো মূখে কোন কথা নেই। কেমন জানি আন্মনা হয়ে গেলাম সবাই। আর তখনই ঘটল বিপত্তিটি। সামনের স্পীড ব্রেকারটির দিকে কারও নজর পড়লনা। স্লীপ খেয়ে মোটরসাইকেলটি উল্টে গেল। তিনজন লুটিয়ে পড়লাম তিনদিকে। ফলে যা হবার তাই হলো। আমার ও সাংবাদিক ভাইটির হাটু ও পায়ের আংগুল থেকে চামড়া খসে গিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তবুও বড় ধরনের কোন ক্ষতির হাত থেকে আল্লাহ রক্ষা করলেন। ব্যথিত হৃদয় আর আহত শরীর নিয়ে ফিরে এলাম রাজশাহী মহানগর অফিসে। তখনও স্মৃতি হয়ে তাড়া করছিল একটু আগে ঘুরে দেখা শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত জায়গাগুলো। বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল শহীদ শরীফুজ্জামান নোমানী ভাইয়ের রক্ত মিশ্রিত পবিত্র চেহারাটি। ইয়া আল্লাহ ! ইয়া মালিকুল আরশ!! তোমার কাছে একটাই প্রার্থনা, সতের জন শহীদের রক্তে ভেজা এই ক্যাম্পাসটি চিরতরে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের জন্য কবুল করে নাও। বার বার উচ্চকিত হোক ‘নারায়ে তাকভীর- আল্লাহু আকবার ধ্বনি।





৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×