আখাউড়া থানায় কাজ করছেন এক ভারতীয় নাগরিক ! রতন (৩৫) নামে পরিচয়ধারী ওই ভারতীয় নাগরিক প্রায় এক বছর যাবত আখাউড়া থানাতেই আছেন। সে থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার ও তাদের বাড়িঘরের বিভিন্ন কাজ করে দেন।
সূত্র জানায়, ভারতের আসাম রাজ্যের পশ্চিম চন্দ্রপুরের রতন প্রায় এক বছর আগে আখাউড়া থানায় কাজে যোগদেন। তবে এটি তাঁর সরকারি কোন চাকুরি নয়। রতন পুলিশ কর্মকর্তাদের বাড়িঘরের ও ব্যক্তিগত কাজ করেন। স¤প্রতি তাঁর বাড়ি ভারত এমন খবর থানার কয়েকজনের কানে পৌছলে কানাঘোষা শুরু হয়। রতন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বাংলাদেশে এসে অবস্থান নিয়েছেন। রতন তাঁর বাড়ি ভারতে স্বীকার করলেও পুলিশ বলছে বিষয়টি তাঁরা নিশ্চিত নন।
রতন জানায়,বছরখানেক ধরেই সে থানায় থাকে। ওসিসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের বাসায় কাজ করে সে। এর আগে একটি হোটেলেও সে চাকরী করেছে। নুরু মিয়া নামের এক ব্যক্তির হাত ধরে থানায় কাজ নেয়।
প্রায় ৬-৭ বছর আগে নানীর সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন। ট্রাক চালক বাবা দূর্ঘটনায় ও মা শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়ার পর তিনি একাকীত্ব বোধ করেন। একমাত্র ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়লে তিনি একা হয়ে পড়েন।
তাঁর দাবি, আখাউড়ার গাজীরবাজারে নানার বাড়ি। নানীর হাত ধরেই বাংলাদেশে আসেন। তবে বর্তমানে নানী বেঁচে নেই এবং অন্যকোন আত্মীয় স্বজনও তাঁর নেই। মামলা মোকদ্দমার কারনে বাংলাদেশে চলে আসা কিনা এ প্রশ্নে তিনি বিচলিত হয়ে না বলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানা সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, রতন তাঁর কাছে স্বীকার করেছে যে সে একটি হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী। বছর পাঁচেক আগে সে বাংলাদেশে আসে।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, স¤প্রতি রতনকে থানা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রতনের বাড়ির ঠিকানা একেক সময় একেক জায়গার কথা শুনি।
অবশ্য রতনকে থানা থেকে বের করে দেওয়া ওসি’র বক্তব্য বাস্তবের মিল পাওয়া যায়নি। কেননা গত শনিবার রাত ১ টার দিকে রতনকে থানার সার্ভিস ডেলিভারী সেন্টারে ( গোলঘর ) ঘুমাতে দেখা যায়। গত রবিবারও তাঁকে থানা এলাকায় পাওয়া যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


