somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এজেন্ট সাদিয়া-দাঁড়িয়ে একা

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই মেঘের ডানায় চড়তে ইচ্ছে করেছিলো খুব। সকাল, সন্ধ্যা, রাতে। ঘুমভাঙ্গা পাখির পালকের ছোঁয়ায় যেনো ভোর জেগে উঠে এখানে। অবশ পৃথিবী আস্তে আস্তে স্বস্তি ফিরে পায় অসাড় দেহে। যেনো আজ অশান্ত পৃথিবীর ভেতর বাতাসের শীতল স্রোত ঢুকিয়ে দিয়ে নামিয়ে দেবে ফুঁসে ওঠা সাগরের উচ্চচাপকে।

জানালা দিয়ে তাকিয়ে ভোর দেখছে সাদিয়া। দুদিন পর আর্মিতে জয়েন করবে। তাই সময় থাকতে একটা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে যাচ্ছ সে আজ। বাবার সাথে গিয়ে ফরমালিটিজ পূরণ করে আসতে হবে। রাজ্যের ঘুম যখন তাকে ছেড়ে বেসিনের দিকে রওনা দিলো, ঠিক তখনই শির শির করে উঠলো ঘাড়ের পেছনটা। অজানা এক অনুভূতি কাজ করছে। ব্যাপারটা ভালো ঠেকছে না। মুখটা ফেসিয়াল করলো। দেখতে সুন্দর, চটপটে পাঁচ ফিট ছয় উচ্চতার গড়নের মানুষটা বেসিনের দিকে তাকিয়ে অভয় দিলো নিজেকে। এই মেয়ে ভয় পেতে নেই। পরশু না জয়েন করবে?

ডাইনিং এ বসে নান গোশতের ঘ্রাণে মুখটা লালায় ভরে গেলো। ইশশ মা টা না যে কি! দুদিন মাত্র আছে আর এখন কিনা মুখরোচক যতো খাবার গিলিয়ে ছাড়ছে। ধ্যাৎ, এ মায়া কাটানো যে বড়ো কঠিন। পেপারটা খুলেই বড়ো বড়ো হেডলাইনে লেখা আজকের ফিচারটা পড়লো। "bank robbery increases rapidly, govt. to take strong action" ইশশ এসব কি ঘটছে? এভাবে চলতে থাকলে কিভাবে চলবে দেশটা। সরকারের কি কিছুই করার নেই? কি হবে সামনে?

ভারি কোন প্রসাধনী সে ব্যবহার করে না। আদ্যোপান্ত যে কেউ তাকে দেখলে সুন্দরী ঠাহরই করবে। ঠোঁট সামান্য ভ্যাসলিন ছুঁইয়ে পার্সটা হাতে নিয়ে বাবাকে ডাকলো।
-বাবা?
-এইতো মা। ঘড়িটা পরে নেই?
-জলদি জলদি।

নীচে নেমেই একটা রিকশা ধরে উঠে গেলেন রহিমউল্লাহ ও তাঁর মেয়ে। গড়নে ও উচ্চতায় যে কেউ তাঁকে বয়স চল্লিশেক ধরে নেবে। ওদিকে সাদিয়াকে সতেরোর কচি কিশোরীর মতো লাগছে আজ। ব্যাংক যেতে আরও মিনিট বিশেক। ধরতে গেলে আজ সময় পুরোটা দুপুর পর্যন্ত গড়াবে। হঠাৎ ঘাড়ের পেছনটা কেমন করে উঠলো। আবার সেই শির শির অনুভূতি। কেনো যে এমন হয়।

ব্যাংক পৌঁছে যেটা লক্ষ্য করলো চারিদিকে কেমন একটা ব্যস্ততা নেই নেই ভাব। অথচ এই সময়ে মানুষ ছোটে ব্যাংকমুখো হয়ে। ধাক্কা দিয়ে রিভলভিং ডোর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতেই গা টা প্রচন্ড কেঁপে উঠলো। ওমা! এসব কি? হঠাৎ এমন লাগছে কেনো? অদ্ভুত সব অদ্ভুত।
-এভ্রিবডি নিস। সবাই মাটিতে শুয়ে পড়ুন। এই ব্যাংক এখন ডাকাতদের কবলে। মুখোশ পড়া একজন বললো।

এটা কি কল্পনা? সাদিয়া ভাবছে।
-অ্যাই পাগলি এমন ঘোড়ার মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?
-অ্যাঁ? নিজের হাতে চিমটি কেটে দেখলো। না ডাকাত পড়েনি। তাহলে ওটা কি ছিলো?

কিছুটা হেঁটে একজন রিলেশনশীপ অফিসারের ডেস্কে দুজনই বসলো। সাঁআআ। আবার সেই অনুভূতি। হঠাৎ কল্পনায় ভেসে এলো অফিসারের পাশে থাকা ডেস্কের মেয়েটার পার্স থেকে লাল রুমালটা উঁকি দিচ্ছে। আর ঠিক তখনই অফিসার ঘাড় ঘুরাতে গিয়ে লাল রুমালটা দেখে নাক সিঁটকালেন।
-ম্যাম কি ধরণের অ্যাকাউন্ট চান?

বাস্তবে ফিরে এলো সাদিয়া।
-আপনার লাল রং অপছন্দ? অফিসারের ফরমের দিকে তাকিয়ে বললো।
-আপনি জানলেন কেমনে? অফিসারের মুখ হাঁ হয়ে গেছে।
-আপনাদের সিকিউরিটি রিসোর্স কতটুকু স্ট্রং? কতোজন আছে?
-আ...আপনি এমন করে কথা ব...বলছেন কেনো? কি করে জানলেন আমাদের ব্যাংকের সিকিউরিটির ব্যাপার? তোতলাতে শুরু করেছে অফিসার।
-আমি এসবের কিছুই জানিনা। মনে হচ্ছে আমার ভেতর ফিউচারভিশন পাওয়ার এসে গেছে। সাদিয়া উঠে দাঁড়ালো। ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে চাই।
-আমিই ম্যানেজার।
চকিত ঘুরে তাকিয়ে দেখে এক মধ্যবয়স্ক গম্ভীর দর্শন লোক ভারিক্কি চালে তার দিকে এগিয়ে আসছে।
-আমি হঠাৎ করেই ফিউচার দেখতে শুরু করেছি। সাদিয়া অপ্রস্তুতভাবে বললো।
-আই আন্ডারস্ট্যান্ড ম্যাম। লেট'স কাম উইদ ইওর ফাদার অ্যান্ড হ্যাভ আ টি কনভারসেশন। ম্যানেজার ঘুরেই রুমের দিকে হাঁটা দিলেন।

ছিমছাম রুম। একজন ম্যানেজারের রুমে যা থাকার কথা তাই আছে।
-শুরু করুন।
-আমার ধারণা আপনার ব্যাংকে দুবৃর্ত্তরা হানা দেবে।
-এতোক্ষণে ইমার্জেন্সি বাটন টেপা হয়ে গেছে। সাব মিলিশিয়া পুলিশ রওনা হয়ে গেছে।
-কিন্তু আসতে তো বিশ মিনিট লাগবে। আমি যা দেখছি দশ মিনিটে ব্যাংক ডাকাতি শুরু হবে।
-মাই গুডনেস। এখন কি হবে?
-ওয়েট।

ধীরস্থিরভাবে চিন্তা করলো সাদিয়া। কিছু একটা করতে হবে। উঠে দাঁড়ালো। লবিতে চলে এলো। ক্যাশের সামনে এসে চিল্লিয়ে উঠলো।

-এইটাকে সার্ভিস বলে? বুলশীট যত্তোসব। তিন ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি পাঁচ কোটি টাকা আসতে এতোক্ষণ? এই আ্যাকাউন্ট ক্লোজ করেই ফেলবো।
-হ্যান্ডস আপ। আমরা ডাকাত। এই ব্যাংক লুটতে এসেছি। এই মেয়ে বাদে সবাই শুয়ে পড়ো।
-হু হা হা। তোরা আমার কিছুই করতে পারবি না।
-এই মেয়ে মাথা ঠিক আছে? উল্টাপাল্টা কি বলো-
-এইটা একটা ট্র‍্যাপ ছিলো রে বলদ।
-কি?
-আমাকে কিডন্যাপ করলে কোর্ট মার্শাল এ পড়তে হবে।
-উরে বাপরে আর্মি!

তারপর ব্যাংক ডাকাত মুক্ত হলো।
এর প্রায় এক ঘন্টা পর যখন রহিম সাহেব ও সাদিয়া বেরিয়ে এলেন ঠিক তখনই আর্মির একটি জিপ এসে থামলো। একজন কঠিন চেহারার লোক এসে পরিচয় দিলো,
-দিস ইজ মেজর তালহা।
-ইয়েস?
-ইউ আর নাও আ্য পার্ট অভ ডিজিএফআই। ক্যান উই প্রসিড?
-ডেফিনিটলি, হোয়াই নট?

মুচকি হেসে দুস্টু হাসি দিলো মিষ্টি মেয়ে।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইশরাকের পদত্যাগ নয়, মাদক নির্মূলে রাষ্ট্রের জবাবদিহি জরুরি

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১


বাংলাদেশের বাস্তবতায় মাদক আজ আর কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাধারণ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এটি রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও আমাদের আগামী প্রজন্মের অস্তিত্বের খুটিতে আঘাত হানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের এই সুযোগ কি আরেকবার আসবে? বা তারাই-কি এটা হাত ছাড়া করবে???

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০

ইরানী নেতা খামেনি শহীদ হওয়ার পরে ইরান কি বলেছিল মনে আছে???

ইরান কইছিলো, ইরানের এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী সেই বেবাক দেশকে রাস্তায় এনে দাঁড় করানো হবে।
প্যান্ট খুলে ছেড়ে দিবে-(এটা আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×