somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের খলেরা-জলদানব(গল্প সিরিজ)

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অদ্ভুত অজানা আশংকা মনে ভর করেছে। যদিও এই মফঃস্বলে সব কিছু ছেড়ে আসাটা ভালো ছিলো। স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে সেই ২৫ বছর আগে ঢাকা ছেড়ে ময়মনসিংহে চলে আসাটা এখনো মনে পড়ে। পাড়ার ত্রাস বলে খ্যাত আজমলের কুদৃষ্টি এড়াতে এভাবে চলে আসাটা অনেকটুকু যুক্তিসংগত ছিলো কিনা বোঝা যায়না। তবুও, এখন নিরাপদ জীবন মানেই সবকিছু থেকে দুরে।

এই গল্পটি যখন লিখছি, নাদিয়া হুসাইন চুয়াল্লিশে পা রাখা এক নারী। ২৬ বছর আগে তিনি আজমল নামে এক নরপশুর ইভটিজিং এর শিকারে বাধ্য হয়েছিলেন বিয়ে করতে। তার কোন কিছুর অভাব ছিলোনা। অন্ততঃ বাবা মার ধন দৌলতের প্রাচুর্যে তার জীবন কেটে যেতো। নাদিয়ার একমাত্র ছেলে মাশফিক। যৌবনে পা রাখা উচ্ছ্বল অস্থির প্রকৃতির ছেলে। আজ সেই কিনা চাকরি করে থাকছে আজমলের এলাকায়।

পৃথিবীতে দুধরণের মানুষ আছে। যারা খারাপ হয়ে জন্মায় আরেক জন খারাপ হতে বাধ্য হয়। আজমল হচ্ছে সিস্টেমে থেকে খারাপ কাজ করার মতো মানুষ।
-পশ্চিম বাজারের সাইদুর টাকা দিছে?
-না বড়ভাই।
-'ফালাই দে' কথাডা আমারে কওন লাগবো?

মাশফিক সবে পড়ালেখা শেষ করেছে। তার কাছে মেধা যা আছে তা দিয়ে মোটামুটি সব ধরণের সেক্টরে জবের জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারবে। আজকে হিম ঠান্ডার ভেতর বের হয়েছে একটা ইন্টারভিউ দিতে যেতে হবে বলে।
-মামা যাইবা?
-ওই চল। মাস্তানগোছের একজন মাশফিকের আগেই রিকশায় উঠে রিকশাওয়ালার পিঠে বাড়ি মেরে বসলো।
-এক্সকিউজ মি! আমি আগে কথা বলেছি। আমার দরদাম করা রিকশায় আপনি উঠতে পারেন না।
-কি কইছত?

নেমে মাশফিকের মুখোমুখি দাঁড়ালো। তারপর চোখ পাকিয়ে বললো আবার,
-কি কইছত আবার ক?
-আমি দ্বিতীয়বার উচ্চারণ করি না।
দড়াম করে ঘুষি এসে পড়লো মাশফিকের মুখ বরাবর। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে বেরিয়ে এলো মুখ দিয়ে। হাতের তালুতে না মুছে ধুপ করে কারাটে স্টাইলে হাত বাড়িয়ে দিলো মাশফিক। ছিটকে দু গজ সামনে গিয়ে মাটিতে পড়লো লোকটা।
-মামা চলো।

অফিসে বসে আছে আজমল। গম্ভীর মুখে ডেস্কের ওপাশে লোকটার দিকে তাকিয়ে আছে।
-তরে যে মারছে তুই কিছু করতে পারলিনা?
-হের এক ঘুঁষিতেই কাইত হইয়া পড়ছি। মারুম কেমনে।
-চোপ! খুঁইজা বাইর কর। নিয়া আন আমার সামনে।

মাশফিকের খুব ইচ্ছা প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশনের। তবে তার আগে অবশ্য তার একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এর আন্ডারে কাজ করা চাই। তাই সে আজ যেখানে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছে সেটা ডিবির একটা কার্যালয়ে।
-মাশফিক, বলুন কেনো আপনার এই লাইনে ঢোকার চিন্তা হলো?
-গোয়েন্দাগিরি আমার নেশা। আমি মন প্রান দিয়ে এটা করতে চাই।
-গুড উই আর ইম্প্রেসড। তো আপনি কি জবটা করতে চান?
-অবশ্যই।

তারপর বাকি সব পেছনে। সেদিনই মাশফিককে আ্যসাইনমেন্ট দেয়া হলো আজমলের এলাকার উপর নজরদারি করার জন্য।

-দে আর ভেরি মাচ আ্যাক্টিভ অন স্মাগ্লিং। চাঁদাবাজি আর রাহাজানি ও মারাত্নক। এইস কিছুর মূল হোতা আজমল।
-সো লেট'স আ্যাম্বুশ।

রাত ১২টা। বিশাল শান বাধানো পুকুর ঘাট। দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকেছে তিন চারজন।
-ঠুশ!
-গুলি আসছে ওদিক থেকে।
-সাবধান অনেক সাবধান থাকতে হবে।

তারপর লোক গুলো ভেতরে ঢুকলো বাড়ির। খুব সন্তর্পণে এগিয়ে যেতে চেয়েও এগোতে পারছেনা কারণ দুদিক থেকে অনবরত গুলি বৃষ্টি হচ্ছে।

বাড়ির ভেতর দিকটায় আজমল বাসা গেড়েছে। তাই বুদ্ধি করে এসকেপের জন্য পেছন দিকে দরজা বানিয়েছে। তবে আজমল এতোটা কাপুরুষ নয় যে লড়াই করবে না। একটা একে-৭২ নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করলো। ততোক্ষণে কমান্ডো ট্রেনিং প্রাপ্তরা সব চ্যালাকে খতম করে দিয়েছে।

আজমল বুদ্ধি করে সামনের দিকে এসে গুলি করতে চাইলো। ততোক্ষণে জেটস্কেটার সাব্বির ক্রল করে বাউন্ডারির ভেতর এসে আজমলকে দেখতে পেলো। সাথে সাথেই ট্রিগার টিপে দিলো। আজমল পুকুরের পানিতে পড়ে গেলো। কিন্তু ডুবুরি দিয়ে তাকে খুজে পাওয়া গেলো না।

আজমল মারা যাওয়ার দুদিন পর সেই জায়গায় একটা অদ্ভুত জিনিস ঘটলো। দিনের আলোয় পস্ট দেখা গেলো ফোস করে কিছুক্ষণ পর পর পানি উঠছে। সাব্বির ল, মাশফিক সহ আরো অনেকে সেই জায়গায় এলেন এবং ঘন্টাখানেক থাকার পর টের পেলেন কিছু একটা পুকুরের পানি থেকে উঠে আসছে।

কিম্ভূত দর্শন জন্তু গায়ে অসংখ্য ফুটো। তার ভেতর থেকে পানি বের হয়ে আসছে।
-কে তুমি?
-আমি? জলদানব.....
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×