“একবার আমি আর আমার এক বন্ধু শাহবাগ থেকে বাসে উঠলাম, গন্তব্য নারায়ণগঞ্জ পতিতা পল্লী। সেখানে গিয়ে দুই বন্ধু দুই রুমে ঢুকলাম। বের হওয়ার পর বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করলো কী কী করলা? আমি সব খুলে বললাম। আমি ওর কথা জানতে চাইলেই বললো, আমি তো কিছু করিনি। তখনই বুঝতে পারলাম, পৃথিবীতে যে মানুষ তার নিজের পাপ যত লুকিয়ে রাখতে পারে সে তত ভালো মানুষ।” কথাগুলো দেশের এক বিশিষ্ট লেখকের।
লেখকের মন্তব্যটি পড়ার পর থেকে শুরু করে কিছুদিন আগে পর্যন্ত আমিও বিশ্বাস করতাম, যে নিজের অপরাধ যত লুকিয়ে রাখতে পারে সেই ততো ভাল মানুষ। কিন্তু কিছুদিন যাবত সাংবাদিকতার চর্চা শুরু করার পর নিজেকে অপরাধমুক্ত রাখার আরো একটি কৌশল জানার সুযোগ হলো। দেখলাম ফেসবুক এক্টিভিস্ট কিছু চেতনাধারীকে। তারা নিজেকে বুজুর্গ প্রমাণ করতে পরের সমালোচনায় লিপ্ত হয়। অন্তরের কামোত্তেজনা মেটাতে পতিতার সংস্পর্শ না পেলে পশ্চিমা পর্ন দেখে হস্তমৈথুনে লিপ্ত হয়।
এখন প্রশ্ন আমি কী করে বুঝলাম তারা কামোত্তেজনা মেটাতে পশ্চিমা পর্ন দেখে হস্তমৈথুন করে? যে ব্যক্তি শিরোনামে পুরুষাঙ্গ লেখাটির উল্লেখ দেখে তা এড়িয়ে না গিয়ে লেখার ভিতরে গিয়ে, পুরুষাঙ্গে হাড্ডি থাকে না সে বিষয়টির ভুল ধরিয়ে দিতে পারে, অনলাইনে তার মত মনযোগী পাঠকের খুব অভাব বলেই বুঝতে পারলাম ছয় মাসের অনলাইন পোর্টালে কাজ করার সুবাদে। পুরুষাঙ্গে হাড্ডি থাকে না এ সাধারণ জ্ঞানের বিষয়টি যখন কন্টেন্ট লেখক ও কন্টেন্ট পাবলিশারের চোখ আড়াল করে চলে যায় এবং তা পাঠকের চোখে ধরা পড়ে তখন খুব ভালোভাবেই বোধগম্য যে পাঠকটি আসলে এরকম লেখা পড়তে কতটা মনযোগী।
এই শ্রেণীর পাঠকের মধ্যে আবার আরেকটি গুণ বিদ্যমান। তারা বাঙ্গালী গরুর দুধ খেয়ে তাকে লাথি দেয় এবং জলাতঙ্কের জীবাণুবাহী পশ্চিমা কুকুরের পা চাঁটে। না, প্রমাণ ছাড়া কথা বলছি না আমি। কিছুদিন আগে পশ্চিমা স্বনামধন্য সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে ছাপা হলো ‘এনজিওকর্মীদের সাথে ডেট করা উচিত নয় যে ৫০ টি কারণে।’ লেখাটি দেশের বিশিষ্টজনেরা গার্ডিয়ানের পেজ থেকে শেয়ার দেয়া শুরু করলো। যখন ওই কন্টেন্টটি বাংলাদেশের একটি নিউজ পোর্টাল বাংলায় অনুবাদ করে গার্ডিয়ানের চাইতে অনেকটা মার্জিত ভাষায় প্রকাশ করলো তখন চেতনাধারীদের চেতনা দণ্ড দাঁড়িয়ে গেল। বাংলাদেশের সমাজ এবং সংস্কৃতির সাথে এ বিষয়টি যায় না বলে অভিযোগ তুললো। হায় এ পাঠক যে আরজ আলী মাতুব্বরকে গালি দিয়ে সালমান রুশদির ভক্ত এরকম পাঠক।
মুখে এক আর অন্তরে আরেক এভাবে আর কতদিন? মনুষ্য শরীরধারী ঝিঁঝিঁ পোকারা আর কতদিন তাদের এই চেতনা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন? ঝিঁঝিঁ পোকা যেমন রাত হলেই খোলস বদলায় এ সমস্ত লোকেরা তেমনি পতিতার সাথে রাত কাটিয়ে দিন হলে পতিতা উচ্ছেদ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। এই দুমুখো লোকদের উপর ক্ষোভের বহি:প্রকাশ করতে গিয়ে একজন বলেছিলেন সৃষ্টিকর্তা মানুষকে মুখ দিয়েছেন শুধু মনের ভাব প্রকাশের জন্য নয় বরং সত্য কথা লুকানোর জন্যও। আর কতদিন অন্তরের কামনাকে গোপন করে বুজুর্গ সাজার চেষ্টা করবেন এইসব চেতনাধারীরা
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৫ দুপুর ২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



