কিছুদিন থেকেই একটি বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে টিভিতে, বেঙ্গল প্লাস্টিকের। বোঝা যায়, ‘নারীর প্রতি সম্মান’ বিষয়টিকে মুখ্য করেই বিজ্ঞাপনটি তৈরি করার প্ল্যান ছিল নির্মাতা ও কর্তৃপক্ষের। কিন্তু নারীর সঙ্গে প্লাস্টিকের তুলনা করে তারা নারীদের কতটুকু অসম্মান করেছে, তাদের ধারনা আছে?
বিয়ের কনে, বাইক রাইডার, কিশোরী মেয়ে, কর্পোরেট কর্মচারী, ঘরের বউ কিংবা কোন কঠিন কাজ- সবখানেই নারীরা অবহেলিত ও গুরুত্বহীন। হ্যাঁ, ব্যাপরাটি বিজ্ঞাপনে সুস্পষ্ট। জন্ম থেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতে লড়ি আমরা। শিক্ষিত অশিক্ষিত, ধনী গরীব, সুন্দর অসুন্দর- সকল শ্রেনীর নারীরাই লড়ছে এবং যোগ্যতা প্রমান করছে। তবে তারা কিন্তু কোনভাবেই প্লাস্টিক কিংবা প্লাস্টিকের সঙ্গে তূলনাযোগ্য নয়।
পুরো বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন ভূমিকায় নারীদের প্লাস্টিকের পুতুল ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে, তাদের প্রতি অসামঞ্জস্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বোঝানো হয়েছে। একপর্যায়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলে ওঠে, ‘আই অ্যাম নট প্লাস্টিক, আই অ্যাম কনফিডেন্ট, আই হ্যাভ ফ্রিডম অব চয়েস, আই অ্যাম ইনোভেটিভ, আই অ্যাম স্ট্রং, আই অ্যাম অ্যাডভেনচারাস, অামি তাই করবো যা আমি করতে চাই’।
ভালো লাগলো বহিঃপ্রকাশ দেখে। আরও ভালো লাগলাে নারী স্বাধীনতার কথা উদাত্ত ভঙ্গিতে বলার পরেও কোন সমালোচনা হয়নি। কারন কিছুদিন আগেই বলিউডি অভিনেত্রী দিপিকা পাড়ুকোন তার ‘মাই চয়েস’ ভিডিওতে একই কথা ‘অামি তাই করবো যা আমি করতে চাই’ বলে বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিলেন। অবশ্য সেখানে যৌন স্বাধীনতার কথা একটু বেশিই বলা হয়েছিল, যা আমাদের সমাজিক নীতি অনুমোদন করে না।
বিজ্ঞাপনের শেষের দিকে গম্ভীর গলায় ধারাবর্ণনা করার সময় বলা হয়, ‘নারীর এই ইচ্ছাশক্তিকে স্বাগত জানাই। তাই তাদের সুরে বলতে চাই, আই অ্যাম নাট প্লাস্টিক, আই অ্যাম মোর, আই অ্যাম বেঙ্গল’। সম্ভবত কণ্ঠটি আসাদুজ্জামান নূরের। তাকে, নির্মাতাকে এবং বেঙ্গলকে বলতে চাই- আপনারা প্লাস্টিক না তো কি? সোনা রূপা পিতল কাঁসা দিয়ে আপনাদের পন্য তৈরি হয়? বেঙ্গল তৈরি করে দেখে কি প্লাস্টিক আর প্লাস্টিক থাকবে না? আপনারা কি বলতে চান- প্লাস্টিকের পুতুল আর নারীর মধ্যে যতটুকু পার্থক্য, প্লাস্টিক আর আপনাদের পন্যের মধ্যে ততটুকুই পার্থক্য?
লেখক ছন্দারিনা গীতি


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



