ফেসবুকে একটা নোট চষে বেড়াচ্ছে সবার হোমপেজ, বিষয়: কেয়ামত সন্নিকটে, সাবধান হোন। নোটটি পড়ে কিছু যুক্তি দেখে রীতি মত আবুল বনে গেলাম।
মায়ানদের ক্যালেন্ডারে নাকি ২০১২ সালের পর আর কিছু নাই। তাই কেয়ামত হতে পারে। বিষয় শুনে মনে হচ্ছে মায়ানরাই বোধহয় সব জানেন। দুঃখজনক বিষয় হল মুসলমানরা মায়ান সভ্যতার ক্যালেন্ডারে বিশ্বাস করে কেয়ামত নিরূপন করছে। বিষয়টা একদিকে হাস্যকর, অন্যদিকে দুঃখজনক। এবং আরো বলা হচ্ছে যে মায়নরা বিশ্বাস করত ২০১২ সালের পর পৃথিবী আবার নতুন করে শুরু হবে, তাই তাদের ক্যালেন্ডারে ২০১২ সালের পর আবার এক থেকে শুরু। এইটাতো শুনতে হিন্দু ধর্মের পূণঃজন্মের মত শোনাচ্ছে অথবা ডারউইনের বিবর্তনবাদ।
কুরানের সুরা আর-রহমানের আয়াত থেকে বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে কিছু একটা, বলা হচ্ছে আয়াতগুলো সব নাকি প্রাইম সংখ্যায়। তার মধ্যে ১ নম্বর আয়াতও আছে। প্রশ্ন হল, ১ সংখ্যাটি কিভাবে প্রাইম হয়?
সর্বশেষ, একটা গ্রহের কথা বলা হচ্ছে যা নাকি বিজ্ঞানীরা লুকোচ্ছেন! কারণ নাকি গুগলে গ্রহটা অস্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যেটা এ বছর আঘাত হানতে পারে পৃথিবীতে। বিষয়টা একটু বেশিই হাস্যকর হয়ে গেছে। কারণ, এই অস্পষ্ট গ্রহাণুপুঞ্জ মূলত "প্লুটোনিয়ান" নামে পরিচিত। এগুলো সূর্য থেকে এত বেশি দূরে যে তাতে সূর্যের আলো ঠিকমত পৌঁছায় না। যাতে করে সে গ্রহাণুপুঞ্জে ঠিক কতগুলো গ্রহ রয়েছে তা আবিষ্কার করাটা দুরোহ। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন তাতে বিলিয়ন সংখ্যক বস্তু থাকতে পারে যাদের আকৃতি বৃহস্পতির মতই বড়। এবং এগুলো গ্যাসীয় দানব। অর্থাৎ গ্রহগুলো মূলত গ্যাসের তৈরী। আমাদের মত মাটি পানি নেই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল তাদেরই প্লুটো গত ১৯৯১ সালেই সৌরজগতের বহির্বিভাগে ফিরে আসে। আর গ্রহগুলো এখন আমাদের পৃথিবী থেকে ৪ বিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থিত। কথা হল ২০১২ সালে কিভাবে কেয়ামত সম্ভব ঐ সব গ্রহের সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষে?
মুসলমানদের তো বিশ্বাস করা উচিত, কেয়ামত কখন হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না!
*মূল নোট: Click This Link
*প্লুটোনিয়াম সম্পর্কে বিস্তারিত এখানে
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৩:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


