বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে কিছু লোক। তাদের মধ্যে থেকে একজন খুব উৎফুল্ল মুখে বাড়িয়ে ধরলো কিছু কাগজ। আমার আগ্রহ নেই ওগুলো নেওয়ার, কিন্তু রিকশাওয়ালা মোড় ঘুরতে ঘুরতেই দেখি খাবলা মেরে নিয়ে পড়তে লাগলো। পেছন থেকে অদ্ভুত আবদার শুনলাম, অ্যাই টাকা দিয়ে যেতে হবে কিন্তু!
আমি অবাক। কিন্তু আরো অবাক হলাম যখন কোত্থেকে একটা ছেলে এসে লাফিয়ে রিকশাওয়ালার টুঁটি কামড়ে ধরলো। আপদ! আমি পেছন থেকে ছোকরার গলা টিপে ধরে ছাড়িয়ে আনলাম ... ও মা, এ দেখি এখন আমাকে আক্রমণ করতে আসে! মারপিট চলছে, ছোকরাকে গ্রেকো-রোমান কুস্তির স্টাইলে পটকান দিয়ে ফেলেছি, কিন্তু সে অবলীলায় ঝটকা মেরে আবার নিজেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছে। দুটো গুঁফো লোক খুব হাসছিলো এই কান্ড দেখে, দুজনেই দারওয়ান গোছের, আমি ধমকে উঠলাম, অ্যাত্তো বড় মোচ নিয়ে করেন কী? ধরেন এই শালাকে!
বলে আমি একটা বিল্ডিঙের দরজা দিয়ে ঠুকে সিঁড়ি টপকে ওপরে উঠছি, হঠাৎ কী একটা সাসপেন্স মিউজিক বেজে উঠলো করিডোরে ... নিঘর্াৎ ঐ পাগলটা আবার তাড়া করে আসছে আমার পেছনে। পেছন ফিরে দেখার সময় নেই, আমি ছুটছি তো ছুটছি, সিঁড়ি টপকাচ্ছি সমানে, কিন্তু সাসপেন্স মিউজিক তীব্রতর হচ্ছে, না জানি ঘাড়ের ওপর লাফিয়ে পড়ে পশুটা ... আমি এতক্ষণে বুঝে গেছি ওটা মানুষ হতেই পারে না। ভয় লাগছে আমার, খুব ভয়। কিন্তু আমি কাউকে ডাকতে পারছি না। আমার মা-কে না, আমার ঈশ্বরকে না। আমি ভারি ভারি ভারি পা নিয়ে সিঁড়ি টপকাচ্ছি শুধু ...।
আমি মাঝে মাঝেই এমন স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে উঠে বসে থাকি। এরা সহজে মাথা ছেড়ে নামতে চায় না। বিড়িখোরেরা হয়তো একটা সিগারেট ধরাতেন এমন পরিস্থিতিতে, আমি চুপচাপ আবার শুয়ে সিলিঙের দিকে তাকিয়ে থাকি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


