কোন এক গঞ্জে বাউল গানের আসর বসেছে। মঞ্চের কাছে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক জায়গায় মহিলারা বসেছেন, একটু পেছনে ছেলেছোকরার দল। আবালবৃদ্ধবণিতা মন দিয়ে ঝাঁকড়াচুলো শিল্পীর গান শুনছেন।
তো শিল্পী ব্যাটার বয়স কম, মাথায় দুষ্টামি বুদ্ধি আবার বেশি, গান গাইতে গাইতে আচমকা সে দোতরা পিড়িং পিড়িং করে এক জায়গায় এসে ধুয়া তুললো, "ও তোর ফুটো দেখা যায়!"
সামনের সারিতে বসা এক সুন্দরী অস্বস্তিতে নড়ে চড়ে বসলো, তার কেন যেন মনে হলো হতচ্ছাড়া বাউল ব্যাটা তাকে লক্ষ্য করেই কথাটা বললো।
এদিকে বাউল আবার ফিরে গেছে তার আউলা গানে। নানা তত্ত্বআওড়ানোর পর সে আবার নাচতে নাচতে পিড়িং পিড়িং করে এসে বলে, "ও তোর ফুটো দেখা যায়!" আর এবার তার দোতরার নাকটাও যেন সেই সামনের সারির সুন্দরীর দিকেই উঁচিয়ে ধরা।
বেচারী সম্মুখবর্তিনী অস্বস্তিভরে নিজেকে উত্তমরূপে ঢেকেঢুকে বসে।
বার বার তিনবার হবার পর এবার পেছনের সারির ছেলেছোকরাবৃন্দ ক্ষেপে ওঠে। আরে, ব্যাটা বাউল চামে গ্রামের মেয়েদের দিকে দোতরা উঁচিয়ে আজেবাজে গেয়ে যাচ্ছে। তারা হালকা একটা গুনগুন তোলে, দে শালার ব্যাটাক দুটা কীল!
বাউল আবারও নানা তত্ত্ব কথা গেয়ে নাচতে নাচতে সামনে আসে, তারপর পিড়িং পিড়িং সুর তুলে গায়, "ও তোর মোহনবাঁশির ফুটো দেখা যায়!"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



