[শোহেইল মতাহির চৌধুরীর পোস্ট পড়ে একটু মন খারাপ হয়ে গ্যালো। দুর্মুখ হুমায়ুন আজাদকে ভেবে কখনো কখনো কটূবাক্য উচ্চারণ করেছি, কখনো হাসি থামাতে কষ্ট হয়েছে, তার সাবলীল শব্দচয়ন, বিশেষ করে যখন তিনি কাউকে তুলা ধুনতেন, এখনো মুগ্ধ করে আমাকে। তার উপন্যাসগুলোর চেয়ে তার প্রবন্ধগুলো অনেক বেশি আবেদনময়, আর আমি তাঁর কয়েকটা কবিতা পড়েছি মাত্র, কবি হুমায়ূন আজাদ বিস্ময়কর প্যাশন নিয়ে এক একটি পংক্তি বুনে গেছেন, ভালো লাগা একটি কবিতার শেষ অংশ আমি এখনো ব্যবহার করি বিড়বিড় করে, কবিতাটি তুলে দিলাম।]
রাইফেলের নির্দেশে তুমি ফোটাচ্ছো
সামরিক পদ্ম, সাইরেনে কেঁপে নামাচ্ছো
বর্ষণ, নাচছো বৃষ্টিতে চাবুকের শব্দে, এক ম্যাগজিন-
ভর্তি হলদে বুলেট পাছায় ঢুকলে তুমি জন্ম দাও নক্ষত্রস্তবকের
মতো কাঁপাকাঁপা একটা ধানের শীষ। প্রকাশ্য রাস্তায় তুমি একটা লজ্জিত রিকশা ও
দুটো চন্দনা পাখির সামনে একটা রাইফেল-একজোড়া বুট-তিনটা শিরস্ত্রাণের সঙ্গে
সঙ্গম সারো;---এজন্যেই কি আমি অনেক শতাব্দী ধ'রে স্বপ্নবস্তুর
ভেতর দিয়ে ছুটে-ছুটে পাঁচশো দেয়াল-জ্যোৎস্না-রাত্রি-
ঝরাপাতা নিমেষে পেরিয়ে বলেছি, 'রূপসী, তুমি,
আমাকে করো তোমার হাতের গোলাপ।'
(ক্ষমা করবেন কবি।)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



