somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমালোচনা 2

০৬ ই মার্চ, ২০০৭ ভোর ৪:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোস্তফা কামালের সাথে কিছুটা মিত্রতা আছে আমার। হয়তো একটা সময়ে আমি ও সে যুগপত উপস্থিত ছিলাম পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সামনে, হয়তো একই চায়ের কাপে চুমুক দিয়েছি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, হয়তো একই ব্রেঞ্চিতে বসেছি দুজনেই। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এটা ফ্ল্যাপ দেখে বুঝলাম, তবে চেহারা দেখে শনাক্ত করতে পারলাম না কোন পাপী বান্দা ছিলেন তিনি।

তবে তিনি চমৎকার লিখেন এটা বলতে পারছি না এখনও। ঘর ভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ নামের গল্প সংকলনের প্রথম 2টা গল্প হয়তো টেনেটুনে 50 পাবে। তবে আশাতীত রকমের ভালো ছোটো গল্প লিখেন তিনি এমনটা বলতে পারছি না।

মধু বাবুর আশ্চর্য কান্না পড়ে বুঝলাম আমার নিজের লেখার দুর্বলতা। টানা সংলাপ বিলাপের মতো- মধু বাবু নামের ভদ্রলোকের বিহ্বলতা নিয়ে বিশেষ কিছুই বলার নেই। কিংবা এর পরের গল্প বাস্তব ও স্বপ্নের দেয়াল ভেঙে যাওয়ার পরের ঘটনা বিন্যাস, সরলরৈখিক নির্মাণ, শব্দ সংযোগে খানিকটা মুন্সিয়ানা দেখানোর চেষ্টা। তবে অহেতুক জটিল শব্দসঞ্চয় না করে একটু যত্ন নিয়ে লিখলে ঘটনা ফুটে উঠতো ভালো।
আসলে একটু ভারিক্কি ধরনের শব্দ ব ্যবহারের মোহ কাটিয়ে উঠা সম্ভব না।
এর পরের গল্পগুলো নিয়ে যত কম বলা যায় তত ভালো।

পিয়াল ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো লেখা পড়লে কোনটাকে ভালো উপন্যাস বা ভালো লেখা মনে হয়। তার কাছে ঘটনার বিন্যাস ভালো লাগে তবে আমার বক্তব্য হলো, মানুষের ইর্যা, ঘৃনা, দ্বেষ ভালোবাসবোধ, মোটা দাগের যাবতীয় অনুভবগুলো সবই শতাব্দী প্রাচীন।
অস্তিত্বের লড়াই, বিষন্নতাআর অক্ষমতার গ্লানী, নিখাদ উল্ল্লাস, সব নাটকই আসলে মঞ্চস্থ হয়েছে এই পৃথিবীতে অনেক অনেক বার। আমরা নিজস্ব উপলব্ধিতে বুঝে যাই এটাই আনন্দের প্রকাশ। হয়তো কয়েক ফোঁটা অশ্রু কিংবা হৈ হৈ হৈ চিৎকার।সভ্যতার আর প্রযুক্তির অগ্রগতির কারনে হয়তো নতুন নতুন উপকরন যুক্ত হয় যোগাযোগ মাধ্যম বদলায়।

আধুনিক রাধা কৃষ্ণ হয়তো বাঁশী বাজাবে না কিংবা ধোঁয়ার ছলে কাঁদবে না চুলার ধারে বসে।তারা মোবাইলে রিং টোন পাঠাবে, ভয়েস এস এম এস পাঠাবে কিংবা ছবি পাঠাবে ভিডিও ক্লিপিংস পাঠাবে। তবে ভালোবাসা বিরহ নতুন মাধ্যমে হলেও সেই পুরোনো অনুভবই জাগাবে প্রাণে।

আজ থেকে 10000 বছর আগে মানুষ যখন ভালোবাসতো তখন তারা যেভাবে ভালোবাসার প্রকাশ করতো সেটার সাথে এখনকার ভালোবাসার প্রকাশ হয়তো মিলবে না। এই প্রকাশ ভঙ্গির ভিন্নতাটা অনুধাবন করতে পারাটাই আসলে লেখকে সাফল্য-

আমার কাছে মূল আকর্ষণ মনে হয় বর্ণনাশৈলী। বলবার ধাঁচ আলাদা বলেই একই বিষয়ের ভিন্ন ভিন্ন নির্মাণের কোন কোনটা স্পর্শ করে আর অন্যগুলো বিরক্তি জাগায়। অনেক আগে নায়ক নায়িকা কিংবা উপন্যাসের চরিত্রদের যক্ষা হতো, প্ল্লেগ আর কলেরা হতো, কাশতে কাশতে , হাগতে হাগতে করুন মৃতু্যবরণ করতো উপন্যাসের চরিত্ররা।- তাদের উদ্ধারের জন্য( কাদের এটা বলা যাচ্ছে না- হয়তো লেখকদের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দিতে কিংবা পাঠকদের বাঁচাতে কিংবা দুজনই হয়তো) বিধাতা ক্যান্সার বানালেন, ক্যান্সারের মরক লাগলো উপন্যাসে,গল্পে আর সিনেমায়। ব্লাড ক্যান্সার একটা আইকন হয়ে গেলো- এর পর আমাদের পঁচে মরার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আসলো এইডস-সামনে আর কোনো নতুন মরণ ব্যাধী না আসলে ইয়াবা আর ভায়াগ্রা খেয়ে করুণ মৃতু্যর বর্ণনা লিখেতে হবে।
পরবর্তী কৌতুক কিংবা ঘটনাণু গুলো আসলে বিরক্তি কামনোর প্যারাসিটামল-অনেক অনেক দিন পরে কোনোও এক মধ্যাহ্ন ভোজনে দেখা হলো তিন জন পঞ্চাশোত্তীর্ন বন্ধুর। পেশাগত জীবনের শেষ দিকে পৌঁছে যাওয়ার সাথে সাথে গৃহীনির রজঃ নিবৃত্তির প্রভাবও পড়েছে তাদের উপরে।
দীর্ঘদিন পেশানিষ্ঠ থাকার জন্যই হয়তো বা আলোচনা এমন দিকে গেলো
তিনজন বন্ধুই পেশায় প্রতিষ্ঠিত, একজন নামকরা বুদ্ধিজীবি, একজন সচিব এবং সর্বশেষ জন রাজনৈতিক নেতা।
শৃঙ্গারে অঙ্গের ভূমিকা এবং শৃঙ্গার কৌশল নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা গেলো- রীতিমতো সাংঘর্ষিক অবস্থানে চলে গেলো আলোচনা-শৃঙ্গারে কোন অঙ্গ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টা মীমাংসিত হওয়া জরুরি এমন বোধ থেকেই বুদ্ধিজীবি শুরু করলেন
অবশ্যই মস্তিস্ক শৃঙ্গারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তার দাবীর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি বললেন- মস্তিস্ক সকল অনুভব আর উদ্দীপনার কেন্দ্র,এছাড়া পরিকল্পনা সেটাও মস্তিস্কের কাজ। দক্ষ পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কিছুই সফল ভাবে সমাপ্ত হতে পারে না। তাই শৃঙ্গারের সর্বাংশেই মস্তিস্ক জড়িত।
সচিত তেড়ে উঠলেন- আবাল কথা ছালো, আসলে ইম্পটর্্যান্ট হলো হাত। হাতের দক্ষ ব্যবহার জানলে সবাইকে উত্তেজিত করা যায়। তেমন দক্ষ হস্ত সঞ্চালন হলে সবারই খসে-
রাজনৈতিক নেতা খানিকক্ষণ পরে ভেবে বললেন, আসলে আমি নিশ্চিত ভাবেই বলতে পারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলে জিহ্বা-
দুজনের উঁচু ভ্রু দেখে তিনি তার কথা সমাপ্ত করলেন এই বলে-
"আমি জিহ্বা নাড়ালেই শত শত লোক উত্তেজিত হয়"

শৃঙ্গারের পিচ্ছল পথ পেড়িয়ে আমরা আসি আমাদের শৃঙ্গারকৌশল শিক্ষাঙ্গণে। পর্নো মুভি আমাদের সঙ্গমের কৌশল শেখায়
এক হুজুর বসে বসে 3* দেখছিলো - হঠাৎ বলে উঠলো, সর্বনাশ নায়িকাটা আমার চেয়ে বেশী আল্লাওয়ালা- চোদনের সময়ও জিকির করে।
(আমার সংযোজন হলো, মানুষ শুধুমাত্র চোদনের সময়ই আল্লাকে স্বরণ করে তার শরণ চায়)

সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিলো বাস্তবে
দলবেধে পর্নো ছবি দেখছি- মাঝ পর্যায়ে ওহ গড ওহ গড জিকির শুরু হলো
বিরক্ত এক বন্ধু ধমক দিয়ে উঠলো
"চুপ কর মাগী ঠিকমতো দেখবার দে"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×