somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যার্থ রাইছু -- আত্মজীবনি

০৭ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার শখ আছিলো আমি কবি হবো, তো জিগাইলাম গিয়া কুদ্দুছ সরদাররে, উস্তাদকন কবি হওনের তরিকা কি?
কুদ্দুছ সরদার কইলো কবি হইবার চান তো আগে কবির লেবাছ ধরেন, অহন থিক্যা পানজাবি পড়বেন আর স্যান্ডেল পইড়া ঘুরবেন, শীতের টাইমে পড়বেন নকশাদার শাল।
কুদ্দুছ সরদার যা কইলো শুইন্যা আমার চোখ খুইল্যা গেলো। আমারে কইলো, দেহো রইছ মিয়া কবি হইবার চাও ভালা কথা মগার অহন তো তোমার রইছ মিয়া নাম নিয়া কবিতা লিখলে কেউ পড়বো না, তোমারে তো নামটারে আকিকা দিতে হইবো আবার,

যাউকগা কুদ্দুছ সরদারের কথা হুইন্যা আমি কবি লেবাছ ধরলাম, পরে মহাদেব ছাহার বাড়ীর কামের ছেড়ির কাছে শিখলাম ক্যামতে কবিতা লিখতে হয়, হ্যায় আবার ছাংবাদিক আছিলো, বস্তির হগ্গলের ঘরের খবর আইনা কইতো আমারে, হেরা বিকালের টাইমে যায় বিউটি বোর্ডিং। আমিও হেগোরে নকল কইরা বিউটি বোডিং এ যাই, স্টার ছিগারেট খাই, পাঞ্জাবি পইড়্যা ঘুরি, চুল দাড়ি কামানো ছাড়ছি, আমার ভাবসাব দেইখ্যা আমারে মাঝে মাঝে টাঙ্গাওয়ালাভি ছালাম দেয়।
আমি কুট্টি মানুছ, সফেদ জবান আহে না আমার মুয়ে, ভ্যাবদা ভাবটা আয়া পড়ে যহন আমি কারো কথা হুনি, মুখটা ফাক হয়া থাকে, আর কেউ সফেদ জবানে কথা কইলে মাথা আউলায়া যায়,

তয় আশা ভি ছাড়ি নাইক্যা, বাহাদুর সাহ পার্কে গিয়া বয়া থাকি, গাঞ্জা উঞ্জা খাই, হাতে একটা নোটবুক নিয়া ঘুরি, হেইড্যা লয়া একদিন গেলাম চারুকলায়, তখন ঐখানে গাঞ্জার হেভি ডিমান্ড, আমি কুলু বুড়ির তন 3 পুরিয়া নিয়া গেছি চারুকলায়, এক পাবলিকরে দেহি আমার লাহান বেছবাছ, হ্যারে কইলাম মামা লাগবো নি, শুকনা, কইলো দিয়া যাও, কলকি বানায়া বহো বকুল তলায় আইতাছি,
পরে হের কলকি ফাটায়া দিলাম একটান, হ্যায় কইলো, হইবো তোমারে দিয়া তুমি আটিছ হইবার পারবা, তোমার খাতাটা দেও আমি ছবি আইক্যা দেই,
এর পর যহন নেশা মাথায় উইঠ্যা যাইবো, পেনসিল লয়া বয়া পরবা, যা দেখবা তাই আকবা, হের পর থেইক্যাক দুপুরের টাইমে ছবি আকি, জগন্নাথের মাইয়া দেহি, সুনিলের দোকানে গিয়া চটি পড়ি, হাত মারি, তয় ফ্যামিলির সামনে কিছু করি না,
আমার লেবাছ দেইখ্যা কয়েক মাইয়া পাঙ্খা হয়া গেলো, আমার পিছে পিছে ঘুরে, আমি কিছু কই না হেগো রে, বালাই লাগে,
যুগিংরের কানা রূশিদ আমার বন্ধু লাগে ,আমার কবিবন্ধু, একমাত্র ভক্ত, কয় উস্তাদ অনেক দিন লিখলেন এইবার একটা দুইটা ছাপাইবেন ভি নাকি গাঞ্জা খায়া পইরা থাকবেন বাহাদুর শাহ পার্কে,

কথা হুইন্যা আমারও মনে হইলো, কতা তো মিছা কয় নাই, অনেক দিন হইছে লিখতাছি, কেউ ছাপাইতাছে না, তয় ওরে কইলাম নাহ ওহন ছাপানোর টাইম হয় নাইক্যা, এইছব কবিতা বুঝোনের পাবলিক আহে নাই অহনতরি, তয় ছবির একজিবিছন করুম, গেলাম সেই পাবলিকের কাছে, কইলাম চারুকলায় করন যাইবো একটা একজিবিছন, হে আমারে মাপলো কিছুখন, কইলো, মামুর বেটা কি আকাইছো এইগুলান, আমার পোষা তোতা পাখির ঠোটে পেনসিল লাগায়া দিলে এর চেয়ে ভালা ছবি আকবার পারে,
আমি কইলাম এই জিনিষ বুঝনের বয়স হয় নাই তোমার, চো**র আলাপ কইরো না।

হের বাদে কি আর করার আমি ছবি আকা ছাইড়া দিলাম, রইছ মিয়া নাম দিয়া কবি সম্মেলনে যোগ দিছিলাম মাননীয় কবিরা কান ধরে কবিসভার তন বাইর কইরা দিছে, আমি এইছব ভাইব্যা নিজের নতুন নাম নিছি ব্যার্থ ড়াইছু, নেওনের টাইমে মনে হইলো আমি বাংলা ফিলমের নায়িকাগো নাহান কাম করতাছি, নতুন নাম নিয়া কবিতার বই ছাপাইছি বাংলাবাজারের এক পকাছনি তন, নাম দিছি পার্কের চিপায় বয়া গাঞ্জা খাইতেছি, পাবলিক খায় নাই তয় ইন্দুর খাইছে,
শালার বাঙ্গালি হইছে দুধের পাগল, তছলিমা না কে জানি কি লিখছে, সারাদিন পেপারে সেডি নিয়াই কথা চালাচালি, হেগোর নতুন ভান হইছে, মুক্তকণ্ঠের আন্দোলন করতাছে হালারা। আমার কবিতার কাটতি নাই কিন্তু সেক্সের কাটতি আছে, ঐ মাইয়া কি লেহে আমার ***** লেখা তয় হ্যারে নিয়া সবাই ফাল দিতাছে, আমি কইলাম দেহেন ভাই ছাবেরা আমি কাউরে কিছু কই না, তয় একখান কথা কই। আমার একটা কবিতা হুনেন, নতুন লিখছি,

ময়লা অন্তর্বাসে সিকনি মুছে
মাথায় সাজিয়ে রাখি গৌরবমুকুট
মুক্তচিন্তনের ফেউ ঘুরে কলামে
খেঁক শেয়ালের খোজে বিজ্ঞ কুক্কুট
কলম অনশনে যায় তুলে ভুয়া ইস্যু
চটি পড়ে রিপুর তাড়নায় পুড়ি
আনমনে চিবাই বীর্যসিক্তমুড়ি
লিখি প্রতিবাদ লিপি
ইতি ব্যার্থ রাইছু।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×