আমার শখ আছিলো আমি কবি হবো, তো জিগাইলাম গিয়া কুদ্দুছ সরদাররে, উস্তাদকন কবি হওনের তরিকা কি?
কুদ্দুছ সরদার কইলো কবি হইবার চান তো আগে কবির লেবাছ ধরেন, অহন থিক্যা পানজাবি পড়বেন আর স্যান্ডেল পইড়া ঘুরবেন, শীতের টাইমে পড়বেন নকশাদার শাল।
কুদ্দুছ সরদার যা কইলো শুইন্যা আমার চোখ খুইল্যা গেলো। আমারে কইলো, দেহো রইছ মিয়া কবি হইবার চাও ভালা কথা মগার অহন তো তোমার রইছ মিয়া নাম নিয়া কবিতা লিখলে কেউ পড়বো না, তোমারে তো নামটারে আকিকা দিতে হইবো আবার,
যাউকগা কুদ্দুছ সরদারের কথা হুইন্যা আমি কবি লেবাছ ধরলাম, পরে মহাদেব ছাহার বাড়ীর কামের ছেড়ির কাছে শিখলাম ক্যামতে কবিতা লিখতে হয়, হ্যায় আবার ছাংবাদিক আছিলো, বস্তির হগ্গলের ঘরের খবর আইনা কইতো আমারে, হেরা বিকালের টাইমে যায় বিউটি বোর্ডিং। আমিও হেগোরে নকল কইরা বিউটি বোডিং এ যাই, স্টার ছিগারেট খাই, পাঞ্জাবি পইড়্যা ঘুরি, চুল দাড়ি কামানো ছাড়ছি, আমার ভাবসাব দেইখ্যা আমারে মাঝে মাঝে টাঙ্গাওয়ালাভি ছালাম দেয়।
আমি কুট্টি মানুছ, সফেদ জবান আহে না আমার মুয়ে, ভ্যাবদা ভাবটা আয়া পড়ে যহন আমি কারো কথা হুনি, মুখটা ফাক হয়া থাকে, আর কেউ সফেদ জবানে কথা কইলে মাথা আউলায়া যায়,
তয় আশা ভি ছাড়ি নাইক্যা, বাহাদুর সাহ পার্কে গিয়া বয়া থাকি, গাঞ্জা উঞ্জা খাই, হাতে একটা নোটবুক নিয়া ঘুরি, হেইড্যা লয়া একদিন গেলাম চারুকলায়, তখন ঐখানে গাঞ্জার হেভি ডিমান্ড, আমি কুলু বুড়ির তন 3 পুরিয়া নিয়া গেছি চারুকলায়, এক পাবলিকরে দেহি আমার লাহান বেছবাছ, হ্যারে কইলাম মামা লাগবো নি, শুকনা, কইলো দিয়া যাও, কলকি বানায়া বহো বকুল তলায় আইতাছি,
পরে হের কলকি ফাটায়া দিলাম একটান, হ্যায় কইলো, হইবো তোমারে দিয়া তুমি আটিছ হইবার পারবা, তোমার খাতাটা দেও আমি ছবি আইক্যা দেই,
এর পর যহন নেশা মাথায় উইঠ্যা যাইবো, পেনসিল লয়া বয়া পরবা, যা দেখবা তাই আকবা, হের পর থেইক্যাক দুপুরের টাইমে ছবি আকি, জগন্নাথের মাইয়া দেহি, সুনিলের দোকানে গিয়া চটি পড়ি, হাত মারি, তয় ফ্যামিলির সামনে কিছু করি না,
আমার লেবাছ দেইখ্যা কয়েক মাইয়া পাঙ্খা হয়া গেলো, আমার পিছে পিছে ঘুরে, আমি কিছু কই না হেগো রে, বালাই লাগে,
যুগিংরের কানা রূশিদ আমার বন্ধু লাগে ,আমার কবিবন্ধু, একমাত্র ভক্ত, কয় উস্তাদ অনেক দিন লিখলেন এইবার একটা দুইটা ছাপাইবেন ভি নাকি গাঞ্জা খায়া পইরা থাকবেন বাহাদুর শাহ পার্কে,
কথা হুইন্যা আমারও মনে হইলো, কতা তো মিছা কয় নাই, অনেক দিন হইছে লিখতাছি, কেউ ছাপাইতাছে না, তয় ওরে কইলাম নাহ ওহন ছাপানোর টাইম হয় নাইক্যা, এইছব কবিতা বুঝোনের পাবলিক আহে নাই অহনতরি, তয় ছবির একজিবিছন করুম, গেলাম সেই পাবলিকের কাছে, কইলাম চারুকলায় করন যাইবো একটা একজিবিছন, হে আমারে মাপলো কিছুখন, কইলো, মামুর বেটা কি আকাইছো এইগুলান, আমার পোষা তোতা পাখির ঠোটে পেনসিল লাগায়া দিলে এর চেয়ে ভালা ছবি আকবার পারে,
আমি কইলাম এই জিনিষ বুঝনের বয়স হয় নাই তোমার, চো**র আলাপ কইরো না।
হের বাদে কি আর করার আমি ছবি আকা ছাইড়া দিলাম, রইছ মিয়া নাম দিয়া কবি সম্মেলনে যোগ দিছিলাম মাননীয় কবিরা কান ধরে কবিসভার তন বাইর কইরা দিছে, আমি এইছব ভাইব্যা নিজের নতুন নাম নিছি ব্যার্থ ড়াইছু, নেওনের টাইমে মনে হইলো আমি বাংলা ফিলমের নায়িকাগো নাহান কাম করতাছি, নতুন নাম নিয়া কবিতার বই ছাপাইছি বাংলাবাজারের এক পকাছনি তন, নাম দিছি পার্কের চিপায় বয়া গাঞ্জা খাইতেছি, পাবলিক খায় নাই তয় ইন্দুর খাইছে,
শালার বাঙ্গালি হইছে দুধের পাগল, তছলিমা না কে জানি কি লিখছে, সারাদিন পেপারে সেডি নিয়াই কথা চালাচালি, হেগোর নতুন ভান হইছে, মুক্তকণ্ঠের আন্দোলন করতাছে হালারা। আমার কবিতার কাটতি নাই কিন্তু সেক্সের কাটতি আছে, ঐ মাইয়া কি লেহে আমার ***** লেখা তয় হ্যারে নিয়া সবাই ফাল দিতাছে, আমি কইলাম দেহেন ভাই ছাবেরা আমি কাউরে কিছু কই না, তয় একখান কথা কই। আমার একটা কবিতা হুনেন, নতুন লিখছি,
ময়লা অন্তর্বাসে সিকনি মুছে
মাথায় সাজিয়ে রাখি গৌরবমুকুট
মুক্তচিন্তনের ফেউ ঘুরে কলামে
খেঁক শেয়ালের খোজে বিজ্ঞ কুক্কুট
কলম অনশনে যায় তুলে ভুয়া ইস্যু
চটি পড়ে রিপুর তাড়নায় পুড়ি
আনমনে চিবাই বীর্যসিক্তমুড়ি
লিখি প্রতিবাদ লিপি
ইতি ব্যার্থ রাইছু।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



