somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঙ্গি ঝিযু ওয়া "লি" র গল্প

১৪ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে খবরের কাগজটা হাতে নিয়েই মনটা উৎফুল্ল হয়ে যায় নিতিয়াংয়ের। অবশেষে কুখ্যাত জঙ্গি ঝিযুওয়া লি ধরা পড়েছে। দৈনিক ভিন্নরকথা'র প্রথম পাতায় ছবিসহ প্রতিবেদন এসেছে। শালগাছের শাখায় পা দুলিয়ে পড়তে থাকে নিতিয়াং। সে বৃক্ষকশ্রেনীর অন্যতম সুন্দরি, যার নাম থাকলেই সিনেমা হিট। শুধু তার ছবি ব্যাবহার করেই অনেক পরিচালক কয়েক হাজার সুন্দরি গাছের মালিক হয়েছেন। এমন কি বাজারে অনেক 2 নাম্বার বইয়ের প্রচ্ছদেও তার ছবি ব্যাবহার হয়ে থাকে। কিন্তু গত 3 বছর সে ঠিক মতো শু্যটিং করতে পারে নি এই ঝিযু ওয়া'র হুমকিতে।

বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন এসেছে আজকের প্রথম পাতায়। নিতিয়াং প্রথমটি পড়া শুরু করে---

কে এই ঝিযু ওয়া "লি"
ক্ষমতাধর জমায়েতে বাঁদরামির প্রথম সারির নেতা এবং বৃংসদ( বৃক্ষক সংসদ)এর অন্যতম নেতা কামা ওয়ার 2য় পুত্র ঝিযু, ছোটোবেলা স্কুল পালিয়ে হংকংয়ের ক্যারাতে ছবি দেখে ধরা খেয়ছিলো কয়েকবার বাবার হাতে। অবশ্য তখন ফুলিস্তানে এক টিকেটে 2 ছবির রমরমা ব্যাবসা একটা ক্যারাতে ছবির সাথে কাটপিস ছবি দেখে অনেকবার ফুলিস্তানের ডাল ভিজিয়ে ঘরে ফিরেছে। সেই তখনই ব্রুস লি র ছবি দেখে তার মার্শাল আর্টের উপর ভক্তি আসে। একাই 100 জনকে পেঁদিয়ে লাল করে দেওয়া নায়কের বাহাদুরি দেখে সেও মার্শাল আর্ট শিখতে ভর্তি হয় উস্তাদ আব্দুর রহিয়াংএর আখড়ায়। সেখানেই তার মতাদর্শিক পরিবর্তন ঘটে যায়।বাবার বাঁদরামি কায়েম করার বৃংক্ষিয় শাখা পরিহার করে সে ক্রমশ উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকে যায়। এবং এভাবেই তার পরিচয় হয় শাখায়ে মুরছালিন ওমর ইয়া হামযার সাথে, তার মার্শাল আর্টের দক্ষতায় মুগ্ধ ইয়া হামযা তাকে আদর করে ডাকতো ওয়া "লি" বলে,নতার মূল নাম ঝিযু থেকে তার নতুন নাম বেশী পরিচিত করে ফেলে তাকে।

নিতিয়াংয়ের কাছে 3 বছর আগে সদ্য জেগে ওঠা যৌবন নিয়ে এসেছিলো ওয়া আব্দার ছিলো শুধু এক বার গোল পাতা ছাওয়া খুঠিরে তার সাথে রাত কাটাতে হবে, প্রেমে ভরিয়ে দিতে হবে তার কচি পাতার মতো যৌবন, বিনিময়ে সে তাকে প্রটেকশন দিবে, সে দেবে শর্তহীন আনুগত্য। কোনো দিন তাকে ছেড়ে যাবে না। নিতিয়াং রাজি হয় নি, কিভাবেই বা হবে, তার তখন রাতে ঘুমানোর সময় হয় না শু্যটিং এর চাপে। মাঝে মাঝে সেখানেই লেট শিফট করে ঘুমাতে হয়, এর মধ্যে একটা রাত আর তাছাড়া হতে পারে সে জমায়েতে বাঁদরামির বড় নেতার ছেলে, এমন অনেক নেতাই তো তার সঙ্গের জন্য মুখিয়ে আছে, মুখে বাঁদরামির প্রসারের কথা বললেও এদের স্বভাব মোরগের মতো, এক দিনে 50 জনের পিছনে দৌড়া দৌড়ি করে। এদের বিশ্বাস করে লাভ নেই, ভালোবেসেছিলো বড় ভালোবেসেছিলো তিড়িং জিয়াং কে, সে আবার বৃংসদের প্রধানের বড় ছেলে। ঘরও করেছিলো 2 বছর, তখন এত ছবি করতো না সে, বেছে বেছে আর্ট ফিল্ম ঘারানার ছবি করতও। হাজার হোক সে তিড়িং জিয়াং এর বধু, সেই তিড়িং জিয়াং ও তার সহকারীর সাথে গোপন সম্পর্ক করলো, তাকে ছেড়ে এসে এখন সে সব ধরনের ছবিই করে ,

প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ওয়া ঘাড়ের লোম ফুলিয়ে শাসিয়ে গিয়েছিলো, ও দেখে নিবে কি ভাবে নিতিয়াং টিকে থাকে।
তার পর এলো সেই চিঠি। এখন থেকে নিতিয়াং কোনো ছবিতে পায়ের গোছা দেখাতে পারবে না, এখন থেকে তাকে বোরখা পড়ে অভিনয় করতে হবে, প্রকাশ্য যা কিছু বানরকূলকে উতলা করে তা প্রদর্শন করা চলবে না। যদি করে তাহলে তার খুঠির বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে পাত্ত া দেয় নি নিতিয়াং পরে একবার মৈনাংগিঁড়ির এক সিনেমা হলে বোমা ফাটলো। এর পর আরও কয়েকটা সিনেমা হলে বোমা ফুটলো। সবটাতেই তখন নিতইয়াংয়ের ছবি চলছিলো। এর পরের সপ্তাহে এলো পরবর্তি চিঠি।
শুধু সিনেমা হলের পর্দা উড়িয়েছি, এর পর যদি কথা না মেনে নাও তোমার খুঠির উড়িয়ে দিবো।
তোমার ঠিকানা আমরা জানি, নিতিয়াং বাসা বদলেছে, মোবাইল বদলেছে কিন্তু সব সময় একটা অজানা ভয়ের মধ্যে বেঁচে থাকা। ওদের চর আছে সব খানেই। সবাই বাঁদরামি কায়েম করতে চায়। বৃংসদের অর্ধেক মানুষ এই মতের দিকে ঝুকে আছে।

ওয়ার তান্ডবে ছিন্নভিন্ন রাজাং মিয়াং এর ছবি দেখেছিলো সে, বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে সমান করে ফেলেছিলো, মৃত দেহের ময়না তদন্ত শেষে রিপোর্টে চিকিৎসক বলেছিলেন রাজাং এর শরীরের সব কটা হাড়েই আঘাত লেগেছে, এমন কি তার মৃতু্য হওয়ার পরেও তাকে বেসাঘাত করা হয়েছে, কি আক্রোশ ছিলো ওয়া ' লি' র রাজাং এর উপর?
ওয়া বসে ছিলো দলবল নিয়ে তার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বানরের জয় হোক, জয় হোক বাঁদরামি র এটা না বলেই গিয়েছইলো, আর বাসজিদে যেতো না সে, সে বলতো বাঁদরামির উৎপত্তির পিছনে গিয়াল্লার হাত নেই, গুনাংবদ এ ধারনার প্রচলন করেছেন নিজের ক্ষমতার লোভে। বরং ডারউইন বলে এক বৃক্ষকের কথা প্রচার করতো। বলেতো সে যেভাবে দেখেছে সেটাই আসল দেখা।
ওয়া 'লি' র মেনে নিতে কষ্ট হয়, তার উগ্র স্বভাবের জন্য বাবা ওকে পাঠিয়েছিলেন বান্দারবানে উচ্চ শিক্ষার্থে, সেখানে গিয়ে সে পড়ে না বরং বাঁদরামির বানী প্রচার করে। বান্দারবান এর সেকুলার সরকার তাকে দেশ থেকে বের করে দেন, এর পর থেকেই ওয়া " লি" কুপিত সব সেকুলার লোকেদের উপর। তাদের টিট করার জন্যই সে আবার নতুন করে মার্শাল আর্ট শেখা শুরু করে, শিখে বোমা তৈরির কৌশল আর সারাক্ষন একটা বেস বলের ব্যাট পশ্চাৎদেশে নিয়ে ঘুরে। যখনই কোনো সেকুলার কে পায় তার কোমড় বরাবর জোড়ে একটা বাড়ি, শালারা কোমর উঁচিয়ে দাঁড়াতে পারবে না/
এটা সে শিখেছিলো প্যাপিলন পড়ে।
ছ জন সঙ্গ ী নিয়ে ওয়া ' লি' বসে ছিলো গোপন মিটিংএ, ভ্যাব গোপন সুত্রে খবর পেয়ে হানা দেয় এবং বিস্তর বোমাবাজি শেষে তাকে ধরে নিয়ে আসে।
দেশের প্রধানমন্ত্রি বৃংসদে বলেছেন ওয়া 'লি' র মতো দুষ্কৃতিকারিকে ধরে তিনি এটাই প্রমান করেছেন দেশের শৃখলা রক্ষায় তিনি এবং তার দল কতটুকু আন্তরিক, সামনে বৃঙাতে হবে তখন যেনো এসব কথা মনে রাখে জনগন।

কামা ওয়া অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন এটা তার সুযোগ্য নিষ্পাপ পুত্রের উপর আনা বাজে অভিযোগ, সে সম্পুর্ন নির্দোষ, সে আসলে ঐ ঘাতক চক্রের সাথে যুক্ত নয়, তাকে অপহরন করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো সেখানে। ওয়া "লি" কৌশলে একটা বেস বল ব্যাট চুরি করে সেটা দিয়ে সবাইকে কুপোকাত করে পালিয়ে আসে, কাকতালিয় ভাবে সেখানে ভ্যাব উপস্থিত হয় এবং ওয়া 'লি"র এই মহান কর্মের কৃতিত্ব ছিনিয়ে নেয়। এ জন্য দায়ী ভ্যাব কর্মকরতাদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে যান।
ছবিটি ভ্যাবের কর্যালয়ে আনার পর তোৃ হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×