মিলেনিয়াম মজিদ ( যারা লাল সালু পড়েছেন পাঠ্য হিসেবে তাদের নতুন করে বলার কিছু নাই) হাইয়া হাইয়া উর্ফে হারুন সাহেবের লিংক দিয়েছেন, সেখানে ২০ প্রশ্নে বিবর্তনবাদ কাইত শীর্ষক লেখাটা পড়ে এইখানে কিছু লেখার সাধ এড়াইতে পারলাম না , যাদের অনেক সময় আছে অপচয় করার এবং যারা ইন্টারনেট পর্নো দেখে দেখে নেট বিল বাড়িয়ে একটু অপরাধবোধে ভুগছেন তাদের জন্য সান্তনা হয়ে আসবে এই হাইয়াহাইয়া সাহেবের অতীব তথ্যসমৃদ্ধ লেখাগুলো। তবে নিজ দায়িত্বে পড়বেন যদি পড়ে আপনার মনিটর ভেঙে ফেলেন রাগে তাহলে আমাকে দোষারোপ করতে পারবেন না, যাই হোক হাইয়া হাইয়া সাহেব যতগুরুমারা বিদ্যা শিখে নিয়ে পরে পড়াশোনা বাদ দিয়ে ইসলামী চিন্তাবিদ হয়ে যান, এ ক্ষেত্রে তার সাথে মিলিটারি অফিসারদের সাযুজ্য আছে, কথিত মিলিটারি অফিসার হতে নাকি কোনো ঘিলু লাগে না, ওদের সারাজীবনে কখনই মস্তিস্কের ব্যাবহার করতে হয় না বলেই ওদের মস্তিস্ক থাকে নতুনের মতো ঝাকঝকে,
এই ফাঁকে একটা ছোটো কৌতুক পেশ করে ফেলি
এক যুদ্ধে এক লোকের মাথায় গুলি লাগলো, গুলির ফুটো দিয়ে সব ঘিলু গলে গলে পড়ে গেলো, অতঃপর তিনি ব্রেনব্যাংকের শরণাপন্ন হলেন নতুন ব্রেনের খোঁজে, তো তিনি একটা কঞ্জুসপ্রকৃতির ছিলেন, তাই সেখানে গিয়েও দরদাম শুরু করলেন, তা অভ্যর্থনা কক্ষে যে সুবেশী নারী হিজাব পড়ে তার সাথে কথা বললো সে বললো, কয়েক পদের ব্রেন পাওয়া যায়,
দামের তারতম্য আছে,
শিক্ষক এবং গবেষকদের ব্রেন সবেচেয়ে সস্তা,
এর পরে একটু দামী হচ্ছে শিল্পিদের ব্রেন, এর পরের দামী হচ্ছে সাংবাদিকদের ব্রেন,
এবং সবচেয়ে দামী হচ্ছে রাজনৈতিক এবং মিলিটারি অফিসারদের ব্রেন।
তিনি তার যেই ২/৪ ফোঁটা ঘিলু অবশিষ্ঠ ছিলো তা দিয়েই প্রশ্নটা করলেন, দামের এমন তারতম্য কেনো?
উত্তরে হিজাবীনি জানালো, শিক্ষক এইং গবেষক শ্রেনী ব্রেন এত বেশী ব্যাবহার করে যে তাদের ব্রেনের নাট বলটু সব ঝড়ঝড়ে হয়ে যায়, তাই ওটার দাম সবচেয়ে কম
আর রাজনৈতিক এবং মিলিটারি অফিসারদের ব্রেন একদম নতুন, ওরা ব্রেনের ব্যাবহার করে কম, প্রায় নতুনের মতো থাকে ওদের ব্রেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন যে তথ্যটা হিজাবীনি দিলেন ত হলো এই প্রায় নতুন ব্রেনের ভেতরে সবচেয়ে দামী ব্রেন হলো ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ইসলামী মৌলবাদীদের, ওটা আপনার সাধ্যের মধ্যে নেই, ওটা একেবারে নতুন, ওরা কোনো সময় ব্যাবহারই করে নি, বরং ওরা প্রাথমেই এখানে ব্রেন জমা দিয়ে যায় এর পর ওরা পেশাগত জীবনে পদার্পন করে।
হাসবেন না, কটাক্ষ করলে হাসতে হয় না,
যাই হোক এই কঞ্জুস প্রকৃতির লোক একটু বেশী রসিক ছিলেন, তিনি বললেন তা আপনি যে হিজাব পড়েছেন কেনো পড়েছেন,
উত্তরে মহিলা জানালো, সে কয়েকদিন আগেই তার ব্রেন ডোনেট করেছে এই খানে, অপারেশনের দাগ ঢেকে রাখতেই হিজাব পড়ে সে।
কৌতুক হলো হাস্যরস হলো, এবার হাইয়া হাইয়া সাহেবের কথায় আসি, তিনি মহা ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক, অবসরে বই লিখেন, ঘুমের মধ্যেও লেখালেখি করেন, এত লিখেন যে তার কয়েকটা ঘোড়ার ক্ষুর ক্ষয়ে গেছে কপি করতে করতে। যদিও ঐ সব ঘোড়া ৫ এর নামতা জানে কিন্তু এখনও ঠিক মতো কলম দিয়ে লিখতে পারে না, ওরা কম্পিউটারে টাইপ করে হারুন সাহেবের লেখা।
নতুন কিছু বাংলাদেশী ছাগলকেও কপি পেষ্টের দায়িত্ব দিয়েছেন হারুন হাইয়া হাইয়া সাবেহ। তারা ঠিক মতো কপি পেষ্ট করতে পারে না , এখনও নবীশ পর্যায়ে আছে, কিন্তু তারা কপি পেষ্ট করার সময় খুব চেঁচামেচি করে, এতে হারুন হাইয়া হাইয়া সাহেবের ঘুমের ব্যাঘাত হলেও বানিজ্যিক কারনে তিনি এটা মেনে নিয়েছেন, তার আদর্শের বলে বলীয়ান হয়ে অনেক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না কি তাদের ব্রেন দান করছে ব্রেন ব্যাংকে। ব্রেন ব্যাংকের ডাক্টারদের খুব ব্যাস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে বাংলাদেশী মানুষদের নিয়ে।
এক দল অপারেশনের পর টুপি মাথায় বের হয় অন্য দল হিজাব পড়ে ঘুরে এই দেখে ব্রেন ব্যাংকের পরিচালক ঠিক করেছেন, এর পর বাংলাদেশ থেকে কোনো মানুষ এইখানে ব্রেন ডোনেট করলে তিনি ছেলেদের ৬টা টুপি এবং মেয়েদের ৪টা হিজাব দিবেন ফ্রি।
তিনি প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ১লক্ষ টুপি এবং ৫০ হাজার হিজাবের অর্ডার দিয়েছিলেন এখন মাত্র কয়েকটা অবশিষ্ঠ আছে, তাই নতুন নিয়ম করেছেন, এখন অপারেশন করলে ছেলেরা একটা কিস্তি টুপি পাবে এবং মেয়েরা একটা হিজাব পাবে।
সেটা নিয়ে তুমুল কাড়াকাড়ি চলছে।
এই ফাঁকে আমরা হাইয়া হাইয়া সাহবের ২০ প্রশ্নে বিবর্তনবাদ কাইত লেখাটাতে একটু চোখ বুলিয়ে দেখি।
হুমম লেখাটা প্রানী জগতের মাইগ্রেশন নিয়ে, মাইগ্রেশন নিয়ে চিন্তা করতে করতে হারুন সাহেবের মাইগ্রেনপ্রদাহ শুরু হলে তিনি নাপা খেয়ে ঘুমাতে যান এবং তার ঘোড়াশালের ঘোড়াগুলো লেখাটা সমাপ্ত করে।
সেখানে বলা আছে, পাখী এবং পশু সবারই পথপ্রদর্শক থাকে, পাখীরা তাদের সম্মান করে নবী সম্বোধন করে, এই নবীর সাথে উপর মহলের যোগাযোগ ভালো, তিনি সারাক্ষন নির্দেশ দেন এবং গতিপথ ঠিক করে দেন, এটা ইশ্বরের অপার মহিমা, তিনি সবার জন্যই পথপ্রদর্শক নির্দিষ্ট করেছেন। তারা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে যায়, সঙ্গে পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকে তাদের নবীরা। কিন্তু সাইবেরিয়া থেকে যেসব পাখী বাংলাদেশে আসে তাদের ৭০ বছর সমাজতান্ত্রিক শাসনে থাকর ফলে ইশ্বরচেতন নষ্ট হয়ে গেছে, ওরা পালাক্রমে নবী ঠিক করে, একেজন নবী দিনের একে সময়ে তাদের নেতা বা পথপ্রদর্শক হয়ে যায়। এবং সাধারনত বর্ষিয়ান পাখীরাই নবী পদের উপযুক্ত পাখী।
বাংলাদেশের সিলটি অর্থমন্ত্রি যখন ঘোষনা দিলেন অথিতি পাখী বলে কোনো শব্দ সহ্য করা হবে না, ওরা সবাই কেজিবির চর, এখন বাংলাদেহসের সাথে আমেরিকার দহরম মহরম সম্পর্কের সূচনালগ্নে ওরা রাশিয়ায় গোপন তথ্য পাচার করে দিবে তাই ওদের গনহারে নিধন করতে হবে। এবং এই নির্দেশ বাংলাদেশি পাখি তান্ত্রিক ১৪ দলের নেতাদের কাছে জানতে পেড়ে উড়ালরত সাইবেরিয়ান পাখীদের পিলে চমকে যায়। তারা হাইয়া হাইয়া সাহেবের নির্দেশিত ইশ্বরের পথ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।
হাইয়া হাইয়া সাহেবের স্বপ্নে পাওয়া বিবর্তনবাদে এটা নির্দইষ্ট যে পাখীরা যখন মাইগ্রেশনে যায় তখন একটা মাত্র পথ গ্রহন করে, ওটা পৃথিবীর ভুচৌম্বকত্বের সাথে পাখীর ভিতরের ভুচৌম্বকের মিথস্ক্রিয়া, কিন্তু প্রাতি ১১ বছর পর পর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র পরিবর্তিত হয়, এমন কি পৃথিবীর চৌম্বক মেরূ স্থির কোনো বিষয় নয়, ওটা একটা অক্ষে ঘুরছে, এই কালানুক্রমিক ঘুর্ননের হিসাবটা কিভাবে পাখীরা করে এবং বছরে পর বছর কিভাবে একই জায়গায় ফেরত আসে এটা নিয়ে হাইয়া হাইয়া সাহেবের বক্তব্য নেই।
যাই হোক এটা হচ্ছে সেই সব নাবীদের নির্দেশিত পথ, তারা সিলেটের হাওরে আসে, জাহাঙ্গীর নগরের লেকে আসে, চলন বিলেও যায়, যায় দিনাজপুরের পঞ্চগরে, কিন্তু যখন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রির নৈতিক আনুকুল্যে গনহারে অথিতি পাখিনিধন শুরু হয় তখন পাখীরা ইহুদী হয়ে যায়। তারা তাদেরে ইসরায়েল ছেড়ে চলে যায় কাফিরদের ভুমি ভরতে ওখানের লেকগুলোতে তারা আবাস গ্রহন করে, এই যে নবীর পথভ্রষ্টতা এটা উপর মহলে বিতর্কের সৃষ্টি করে।
আল্লাহ মিয়া নাখোশ পাখীনবীদের উপরে, তারা বাংলাদেশের সিলেটের হাওর ছেড়ে কেনো ভারতের বিলে ডোবায় ময়লা পানি মাখছে, বির্ধিীদের প্রভাবে ওদের ধর্মনাশ হয়ে গেছে ওদের মসজিদে নিয়ে গিয়ে বাইয়্যাত করতে হবে যেনো ওরা আর কখনই ভারতে না যায় এমন মুচলেকা না দিলে ওদের ছাড়া হবে না। সাইবেরিয়ার বরফে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হবে। নিশ্চই আল্লাহ সীমা লঙ্ঘন কারীকে পছন্দ করেন না।
যাই হোক ইশ্বরের এত অনুনয় বিনয় কাকুতি মিনতিতে কিছুই হয় না, বরং পাখিদের নিজস্ব সারভাইব্যাল ইনসটিঙ্কট তাদের বাংলাদেশে এসে অকাতরে প্রান দেওয়া থেকে বিরত রাখে ,এবং অতিপ্রাচীন প্রথা ভুলে বাংলাদেশে যেসব অতিথী পাখীরা আসতো তারা বাংলাদেশে আসা ছেড়ে দেয়, আমাদের পক্ষী বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন জলাশয়ে পাখীর ছবি তুলতে না পেরে হিমালয়দর্শনের নামে শীতকালে ভারতে অতিথী পাখীর ছবি তুলতে যান।
হাইয়া হাইয়া সাহেব ততক্ষনে বইটা ইন্টারনেটে ফ্রি ছেড়ে দিয়েছেন তাই এই তথ্যগুলো সংশোধন করতে পারেন নি।
এবং অতিপরিশ্রমে তার ঘোড়াগুলোর ক্ষুর ক্ষয় হয়ে গেছে, এখন বিবর্তিত হয়ে তাদের ডানা হয়েছে, ওরা সেই ডানা দিয়ে তুরসের চারপাশে উড়ছে এবং এই সব পঙ্খিরাজ ঘোড়াগুলো সারাক্ষন হাইয়া হাইয়া হারুন হারুন করছে, এটা শোনা কথা, কেউ সঠিক তথ্য জানলে এখানে হালকা টোকা দিয়ে জানিয়ে যাবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


