somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরআন কি আল্লাহর বাণী?

১২ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরআন কি আল্লাহর বাণী? অনেক ভক্ত মুসলিমরা বলেন, অলৌকিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ 'কোরআন'। কারণ কোরআন আল্লাহর বাণী।
একটু খোলা মনে বিষয়টাকে নিয়ে আলোচনা করি। কোরআন-এ বলা হয়েছে, "আল্লাহ-ই আসমান ও জমিনের আদি স্রষ্টা। যখন তিনি কোনও কিছু করতে ইচ্ছা করেন তখন শুধু বলেন- 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।" সূরা ও আয়াতের ক্রমিক সংখ্যা ২:১১৭, ৩:৪৭, ১৯:৩৫।

পৃথিবী সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সঙ্গে কোরআন-এর দেওয়া ব্যাখ্যার কোনও মিল নেই। বরং বলতে পারি- কোরান-এর ব্যাখ্যা বিজ্ঞান বিরোধী।
আবার কোরআন-এর সূরা ও আয়াত ৫০:৩৮-এ বলা হয়েছে, "আমি আসমান ও জমিন এবং মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি।" এখানে 'আমি' মানে আল্লাহ।
কোরআনে একবার আল্লাহর বক্তব্য হিসাবে বলা হচ্ছে, 'হও' বললেই সৃষ্টি হয়ে যায়। তবে আসমান, জমিন ও মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করতে ছয় দিন কেন লাগল? এ তো কোরআন-এর স্ববিরোধীতা, আল্লাহর স্ববিরোধীতা।

কোরআনের ৪১ নম্বর সূরার ৯ থেকে ১২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ দু-দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। তারপর চারদিনে খাদ্যের ব্যবস্থা করলেন। তারপরের দু-দিনে আকাশকে গ্রহ-নক্ষত্রে সাজালেন।
কোরআন-এর এই বক্তব্য অনুসারে আগে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল। তারপর নক্ষত্রর সৃষ্টি।

এমন বিজ্ঞানবিরোধী উদ্ভট তত্ত্ব কোনও সুস্থমস্তিষ্কের শিক্ষিতের পক্ষে মানা অসম্ভব।

কোরআন কি আল্লাহর বাণী? ---এ প্রসঙ্গে বলি, কোরআনের বাণীতে অনেক জায়গায় সূর্য, চন্দ্র, দিন, রাত্রি, নক্ষত্র, পর্বত ইত্যাদির নামে শপথ করে আল্লাহ নিজের বাণীকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে চেয়েছেন। সূরা ও আয়াতের ক্রমিক সংখ্যা ৩৭:১, ৪৩:২, ৫১:১, ৮৯:১, ৯২:১, ১০০:১।

যিনি সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা, প্রাণীকুলের স্রষ্টা ও নিয়ন্তা, তাঁকে কেন নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের জন্য শপথ নিতে হবে? তাও শপথ নিতে হচ্ছে তারই সৃষ্ট-বস্তুর নামে? শপথ করা হয় শ্রেষ্ঠতর কিছুর নামে। এমন উল্টাপুরাণ প্রমাণ করে কোরআন কখনই আল্লাহর বাণী নয়। কোনও মানুষই নিজের সৃষ্ট ধর্ম প্রচারের জন্য এমনটা প্রচার করেছিলেন।


পৃথিবীতে ৫৫টি মুসলিম শাসিত রাষ্ট্র আছে। এদের কোনওটাই ধর্মনিরপেক্ষ নয়। গোটা চারেক রাষ্ট্র ছাড়া আর কোনও মুসলিম শাসিত রাষ্ট্রে অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না।
কোরআন অনুসারে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে প্রেম কখনওই সম্ভব নয়। কোরানের সূরা ও আয়াতের ক্রমিক সংখ্যা ২:১৯৩, ৯:৫, ২৯:৭৩ অনুসারে পৃথিবীর সব মানুষকে দু-ভাগে ভাগ করা হয়েছে 'মুসলমান' এবং 'অমুসলমান'। এবং আরও বলা হয়েছে, অমুসলমানরা যতদিন না ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ততদিন তাদের বিরুদ্ধে নিরন্তর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। তাদের সম্পদ লুঠ করতে হবে, হত্যা করতে হবে।
আরও বলা হয়েছে, এই যুদ্ধে কোনও মুসলিম শহিদ হলে সে শহিদ হওয়ার পরই বেহেশ্‌ত অর্থাৎ স্বর্গে যাবে। কেয়ামতের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সেখানে সর্বোত্তম খাবার, মদ ও অসাধারণ সুন্দরী কুমারী যুবতী ও সমকামিতার জন্য সুন্দর কিশোর থাকবে।
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, লোভ দেখিয়ে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে কোরআন।



লুঠের মালকে ভোগ করার অধিকার কোরআন দিয়েছে জিহাদি লুটেরাদের। (কোরান ৮:৬৯) কোরাআন-এর ২৩:৫, ৬-তে বলা হয়েছে বন্দি রমণীদের সঙ্গে অবাধে যখন ইচ্ছে সঙ্গম করা যাবে।
এমন একটা হিংসার গ্রন্থকে ধর্মগ্রন্থ বলা যায় কি? মানুষের পক্ষে কল্যাণকর বলা যায় কি?

কেউ মুক্তমনে কোরআন পড়লে নিজের যুক্তিতেই কোরআনের স্ববিরোধীতা, হিংসার রাজনীতি, বিজ্ঞান বিরোধিতা- সবই বুঝতে পারবে। তবে সত্যকে জানতে হলে বিজ্ঞানকেও অবশ্যই জানতে হবে। কারণ বিজ্ঞান ও যুক্তিই সত্যের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

হিন্দু ধর্মে যা 'আত্মা', তার আরবি প্রতিশব্দ 'রুহ'। হিন্দুধর্মে পরমাত্মা বা ব্রহ্মের সঙ্গে আত্মার মিলনের মধ্য দিয়ে মুক্তির কথা বলা হয়েছে। খ্রিস্ট ধর্মে গভীর বিশ্বাসীরা 'Salvation of soul'-এ বিশ্বাস করে। তারা মনে করে এভাবে মুক্তি লাভের পর God-এর সঙ্গে অনাবিল সুখের অবস্থায় থাকবে। ইসলাম ধর্মে আল্লাহর সঙ্গে রুহের মিলনের কোনও চিহ্ন কোরআনে নেই। এখানেই কোরানের সীমাবদ্ধতা।

কোরআন লিখে ১:২ বা ৯:৬ লিখলে বুঝতে হবে 'কোলন' ( : ) চিহ্নের আগের সংখ্যাটি হল সূরার সংখ্যা এবং কোলন ( : ) চিহ্নিত পরের সংখ্যাটি হল সূরার আয়াতের ক্রমিক সংখ্যা)।

ইসলাম নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে গোলটেবিলে সাফ জবাব বইতে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৫১
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব চিঠি দিবস ২০২৬: সম্পর্কের মাঝে আবারও চিঠির অনুভূতি।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:২৮



বিশ্ব চিঠি দিবস ২০২৬: সম্পর্কের মাঝে আবারও চিঠির অনুভূতি

বিশ্ব চিঠি দিবস উপলক্ষে এবার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের কয়েকজনকে নিজের হাতে চিঠি পাঠালাম। ডিজিটাল যোগাযোগের এই সময়ে একটি চিঠি যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট ও বিএনপি কি একে অপরের পরিপূরক?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৭


গ্যাস নাই ,বিদ্যুৎ নাই। নিত্যদিনের নানা সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এভাবে মানুষ বিএনপিকে কতদিন সহ্য করবে? মানুষ সহ্য করতে করতে যখন ধর্যের বাধ সহ্যের বাধ ভেঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×