সেই সব দীর্ঘ দুপুরে অামাদের ঘুম আসেনা তবু আমরা মানে আমি আর বাকিবিল্লাহ ঘুমের ভান ধরে বিছানায় পড়ে থাকি মিছিমিছি। বেলা পড়ে আসতে থাকলে বিছানা ছাড়ি এবং হাই তুলে ,চোখ কচলে চেহারায় ঘুম ঘুম ভাব আনার চেষ্টা করি। আর তখন মা আমাদের খেলতে যাবার অনুমতি দেয় এবং আমরা দৌড়ে পুকুর পারে ছুটে আসি। ইদানিং বাকিরে মাছ ধরার নেশায় পাইছে। সে ছিপ ফেলে জলের দিকে তাকিয়ে থাকে একঠায়। আমি দেখি সৌন্দর্য । পুকুরের চারপাশে লতাগুল্ম, বুনোফুল আর শ্যাওলার গুচ্ছে লকোচুরি খেলে কতনা গোপন রহস্য। ঐ যে কচুরিপানার সাথে ভাসতে থাকা বেগুনি ঝালর দেয়া ফুলগুলো , সে েতা কম সুন্দর নয়।
বাকি ভাইয়ের ছিপের ফ্যাতনাটা নড়ে উঠলে সে ছিপ টান দেয়। বরসিতে অাটকে থাকা মাছটা লাফাতে থাকে। কী বিচ্ছিরী!
-ভাই , মাছটা ছাড়ো। মাছটা ছেড়েই দিত। অামি না বললেো । মা এখনো ছিপের কথা জানেননা। জানলে বাবা খুব মারবে। বাকির পড়ায় মন নেই - তার ভাল লাগে খামোখাই ঘুরে বেড়াতে। এখানে সেখানে। তাই েস মার খায় প্রায়ই।
- দুর ,রাঘা মাছ।বাকি মাছটা বের করে শুন্যে ছুড়ে দিলে অামি হিজলের গুড়িতে পা ছড়িয়ে বসে ফড়িং দেখতে থাকি। ঘাসফিড়ং। সবুজ ঢ্যাঙ্গা ফড়িংগুলা হেলেঞ্চার ডগায় অাড্ডা জমিয়েছে। বাকি ভাই ততক্ষনে ছিপ গুটিয়ে নিয়েছে। - চল, বাসায় যাই।
- ভাই অামাকে ফড়িং ধরে দাো ।
- এই গুলোতো ঘাস ফিড়ং, এদিয়ে কি করবি ? কাল তোকে সুন্দর সুন্দর ফড়িং ধরে দেব ক্যামন!
তবু অামার চাপাচাপিতে ভাই কয়েকটা ফড়িং ধরে দিলে অামি সেগুলো রেখে দেই ফ্রকের পকেটে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১০ রাত ২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


