- এই,কি করেন সারাদিন ঘরের ভিতর?
মেয়েটা কেমন যেন- অস্থির চঞ্চল।না, ঠিক তা নয়। অনেকটা চড়ুই পাখির মত্। ফুরুত ফুরুত আসে। আবার চলেও যায় ফুরুত করে।উপমাটা যুতসই হবার আনন্দে শামিম হাসে। নিজের মনে বিছানায় শুয়ে শুয়ে। এখন থেকে মেয়েটাকে 'চড়ুই মেয়ে' বলবে ও। না, বলবে না. ভাব্বে। ইদানীং শামিম মেয়েটাকে ভাবে। খুবই ভাবে। বই খুললে - রাস্তায় হাঁটতে থাকলে কিনবা হোটেলে চা খাবার সময়। যখন তখন মেয়েটা এসে যাচ্ছে ওর মনে - কল্পনায়।স্বপ্নেও এসেছিল একবার।
- ' আপনি নীল গোলাপ দেখেছেন কখনো? আসুন দেখবেন।'
মেয়েটা এসে ওর হাতটা ধরলো । - ' আরে উঠেননা'।
তখনই ওর ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। ওর করোটিতে মেয়েটা ঝুলে থাকে সারাদিন।
সেদিন ইন্টারভিউ বের্ডে কি হল - একজন জিঙ্গসে করলো - আপনি কম্পিউটার পারেন?
ঠিক তখনই মেয়েটা এসে ওকে দখল করে নিল। ওইযে মেয়েটা একদিন বলেছিল ,-' জানেন আমার এত ম্যাসেজ আসে কিন্তু পড়তে ইচ্ছে হয়না।' কম্পিউটারে বসতে যে ওর ভাল লাগেনা ।
- আরে আপনি চড়ুই চড়ুই করছেন ক্যান?
কি লজ্জা! কি লজ্জ ! শেষ পর্যন্ত এই চাকরিটাও হলনা। ওর সবই নষ্ট করে দিচ্ছে ওই পাজি মেয়েটা।
-' কি পড়েন এত - সারাদিন। বাগানে আসেন , একটা দারুন জিনিস দেখাবো।'
পাজি মেয়েটা আবার এসেছে। কাল সকালেই একটা ইন্টারভিউ। কিন্তু চড়ুই মেয়েকে কি না বলা যায়। শামিম জলপাই গাছটার নিচে এসে দাঁড়ায়।
-' আরে এখানেনা , আমার পাশে আসেন।'
-' ইসরে, সবকটা চলে গেছে।
-' মানে কি?'
-' একসাথে চারটা শালিক ওই কামিনী গাছটার ডালে ছিল। সব উড়ে গেছে। '
শালিকে শামিমেরে কোন আগ্রহ নাই। ও দেখছে মেয়ে চড়াইটিকে। কি মুশকিল চড়ুইটা দেখি এখনও চার শালিক নিয়েই আছে। একটুকুও কি চুপ করে থাকতে নেই - সারাক্ষন কথা আর কথা।
-' শালিক দেখলে কি হয় জানেন।
ওয়ান ফর সরো
টু ফর জয়
থ্রি ফর লেটার
ফোর ফর গেষ্ট।'
- 'ভালতো আজ আপনার গেষ্ট আসবে। ( চলবে )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


