somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

সানজিদা ইসলাম তুলি- এক সাহসী বোনের নাম, এক ইতিহাসের প্রতিধ্বনি....

২৫ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সানজিদা ইসলাম তুলি- এক সাহসী বোনের নাম, এক ইতিহাসের প্রতিধ্বনি....

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি হলো- “গুম”।
হাজারো পরিবার আজও অপেক্ষায়- খোলা দরজায় অপেক্ষায় থাকেন- প্রিয় সন্তানের জন্য মা-বাবা, স্বামীর জন্য স্ত্রী, ভাইয়ের জন্য বোন, বাবার জন্য সন্তান- প্রিয়জন ফিরে আসবে। কিন্তু সেই খোলা দরজায় কেউ ফিরে আসে না। ফিরে আসে শুধু শূন্যতা, কান্না আর দীর্ঘশ্বাসের প্রতিধ্বনি। এই কান্নার নদীর মাঝেই জন্ম নিয়েছে এক অনন্য নাম- সানজিদা ইসলাম তুলি।
সন্তান হারা মায়ের সাথে দুই মেয়ে- আঁখি আর তুলি, দুই বোনের চোখে তাদের ভাইয়ের হারিয়ে যাওয়া শুধু ব্যক্তিগত শোক ছিল না, ছিল গোটা জাতির বিবেকের চূড়ান্ত পরীক্ষার মুহূর্ত।


আঁখি আর তুলির ভাই, বিএনপির তরুণ নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, আর কখনো ফিরে আসেননি। সেই একই রাতে হারিয়ে যায় আরও ছয় তরুণ কর্মী- কেউই ফিরে আসেনি, কেউই খুঁজে পায়নি তাদের লাশ।

ভাই হারানোর পর এক এক বোন আঁখি তার কিশোরী বোন তুলি এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের স্ত্রী ও শিশু সন্তান নিয়ে যদি ভেঙে পড়তেন, কেউ দোষ দিত না। কিন্তু তুলি ভেঙে পড়েননি- বরং তিনি হয়ে উঠেছেন সহস্র হারিয়ে যাওয়া মুখের একক কণ্ঠস্বর। তিনি জানতেন, প্রতিটি গুম হয়ে যাওয়া ভাই, বাবা, স্বামী, সন্তানের পেছনে আছে আরেকটা পরিবার- যারা নীরব, আতঙ্কিত, নিঃস্ব। এই নীরব পরিবারের কান্নাকে তিনি একত্র করলেন, নাম দিলেন “মায়ের ডাক”। আর্জেন্টিনার 'মাদারস অফ দ্য মায়ো'র মতো যা আর্জেন্টিনার মায়েদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যাদের সন্তান ১৯৭৬ - ১৯৮৩ সালের মধ্যে সামরিক স্বৈর শাসনের সময় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা "নিখোঁজ" হয়েছিল।

এই “মায়ের ডাক” শুধু একটা সংগঠন নয়,
এটা এক আন্দোলনের নাম,
এক আর্তনাদের জবাব,
এক জাতির বিবেককে জাগিয়ে তোলার শপথ।

শেখ হাসিনার ষোলো বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনে যখন সারা দেশ এক দমবন্ধ অন্ধকারে ডুবে ছিল, তখন তুলি তার চোখে চোখ রেখে বলেছিলেন-
“তোমরা ভয় দেখাও, কিন্তু আমরা থামব না।”


মামলা, হুমকি, গালাগাল, আক্রমণ- কোনো কিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি শুরু করেছিলেন নিজ পরিবার নিয়ে, তারপর একে একে শত শত মা-বোন তার পাশে দাঁড়িয়েছে। তুলির অদম্য নেতৃত্বেই “গুম” ইস্যু বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিশ্বজুড়ে।

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার Sanjida Islam Tulee হয়েছেন মানবতার দূত। তিনি সুইজারল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেছেন-
“আমার ভাইকে ফিরিয়ে দাও।”
এই একটিমাত্র বাক্যই কাঁপিয়ে দিয়েছে মানবতার বিবেককে।

আজ বিশ্ব জানে- “মায়ের ডাক” মানে বাংলাদেশের আর্তনাদ। আর এই আর্তনাদের মুখ, অজস্র গুম পরিবারের কণ্ঠস্বর- সানজিদা ইসলাম তুলি।

গুম পরিবারের সদস্য সেই সাহসী বোন, সেই মানবতার প্রতীক, সানজিদা ইসলাম তুলিকে সংসদীয় আসন ঢাকা- ১৪ প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন।

ঢাকা- ১৪ আসনের নির্বাচনে তুলি শুধু একটি রাজনৈতিক প্রার্থী নয়- এটি ন্যায়ের, মানবতার এবং নিপীড়িতের পুনর্জাগরণের প্রতীক। যে নারী তাঁর নিজের ভাইয়ের জন্যই কাঁদেনি, হাজারো গুম পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন,
যে নারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রক্তচক্ষুকে ভয় পায়নি,
যে নারী সত্যকে মুখে মুখে নয়, কর্মে প্রতিষ্ঠা করেছেন-
আজ তাকেই নির্বাচিত করা মানে
বাংলাদেশের বিবেককে পুনর্জীবিত করা।

ধানের শীষে শুধু ভোট নয়,
এটা এক মানবিক প্রতিবাদের ঘোষণা।
যে পরিবারগুলো হারিয়েছে তাদের সন্তানদের,
যে মায়েরা আজও রাতের শেষে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে- তাদের চোখের জল শুকানোর দায়িত্ব আমাদেরই।

তুলিকে জয়ী করা মানে-
গুমের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে,
নির্ভীক মানবতার পক্ষে দাঁড়ানো।
সানজিদা ইসলাম তুলি শুধু কোনো দলের প্রার্থী নন,
তিনি এই জাতির নৈতিক শক্তির প্রতীক।
তাকে জয়ী করা মানে
“মায়ের ডাক”-এর সাড়া দেওয়া-
আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন বলতে পারে,
“তুমি একা ছিলে না, বাংলাদেশ তোমার সাথে ছিল।”

ভোট দিন সাহসের পক্ষে, ভোট দিন মানবতার পক্ষে, ভোট দিন সানজিদা ইসলাম তুলিকে।
কারণ তিনি কেবল একজন প্রার্থী নন- তিনি এক ইতিহাসের আলোক বর্তিকা।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ৯:১১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতাস ভাড়ি হবে লাশের গন্ধে

লিখেছেন ফেনা, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:২১


ছবিঃ গুগল

আলোচনাটা আপাদত একটা ফাইলে করে টেবিলে তুলা থাক। এসো আগে আমরা একটু ধ্বংস ধ্বংস খেলি।
শত বছর হতে চলল পাইনা বাতাসে তেমন লাশের গন্ধ। জাহানের বাতাসটা ভরে উঠুকনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×