somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীকে পণ্য নয়, তার সত্ত্বার সম্মান দিতে হবে

০৭ ই মার্চ, ২০১২ রাত ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কাজলরেখা
মানবতা আর সাম্যের জয়গানে নারী ও পুরুষ কাঁধে কাধ মিলিয়ে গড়তে চাইছে সফলতার স্বর্ণ সোপান।
কিন্তু হাজারো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নারী এখনো অবহেলিত। চোখ ধাধানো এক ভোগ্যপণ্য মাত্র! তবুও হতভাগ্য নারীজাতি বারবার সম্মুখীন হচ্ছে নিত্য নতুন বঞ্চনার। আর তাই আজ অযুত কন্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মা, স্ত্রী, কন্যা ও ভগ্নি হিসেবে আমরা কি পেয়েছি?
ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলেই দেখা যায়, যুগে যুগে বিভিন্ন সভ্যতা নারীকে করেছে নির্যাতিত, নিপীড়িত, শোষিত ও বঞ্চিত। নির্যাতনের যাতাকলে নিষ্পেষিত নারী মুক্তি চেয়েছে জীবনাকাশে । অন্ধের মত হাতড়িয়ে ফিরেছে স্বীয় মর্যদা আর সম্ভ্রমের সোপান। তাদের এই আকাঙ্খাকে কাজে লাগিয়েছে সুবিধাবাদি আর চাটুকার শ্রেণীর বিশেষ একটি মহল। অধিকার প্রদানের নামে নারীকে মাধ্যম বানিয়ে লুফে নিয়েছে নিজের মুনাফা পু। পুরুষের কাধে কাঁধে মিলিয়ে যে স্বাধীনতা কিনতে চেয়েছিলো অর্ধাঙ্গিনীরা, কায়িক শ্রমের ক্ষেত্র গুলোতেও তারা হারিয়েছে নায্য অধিকার, বঞ্চিত হয়েছে প্রতিটি পদক্ষেপে।
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ এরকম মর্মন্তদ এক কাহিনীর জ্বলন্ত সাক্ষী এই দিনটি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুট কারখানার নারী শ্রমিকরা মানবেতর পরিবেশ, অসম মুজুরি, ১২ ঘন্টা কর্ম দিবসের বিরুদ্ধে পথে নামে। ফলশ্রুতিতে বহু নারী নিক্ষিপ্ত হয় কারাগারে, নির্বিচারে পুলিশের গুলিতে সেদিন আহত হয় অনেক নারী শ্রমিক। ১৯১০ সালের ৮ মার্চ কোপেন হেগেনে আন্তজাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের ঘোষনা দেওয়া হয়। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালকে নারীবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে। জাতিসংঘের নির্দেশেই ১৯৭৫-১৯৮৫ সালকে “নারী দশক” ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষে ১৯৮৩ সালের ৮ মার্চ “বিশ্ব নারী দিবস” হিসেবে ঘোষিতক হয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহুদেশে মহাসমারোহে প্রতিবছর পালিত হয় বিশ্ব নারী দিবস এবং এ উদ্দেশ্যে গ্রহীত হয় বহু আইন। বসভা-সমাবেশ আর কাগজের পাতা ভরা কক্তৃতা ও সেমিনারের গন্ডি পেরুতে পারেনি । যেন লাল ফিতায় বন্দি নারীর নায্য অধিকার।
অগ্রসরমান আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নারী আজ এগিয়েছে বহুদূর। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, প্রশাসন সকল ক্ষেত্রেই নারী রেখেছে যোগ্যতার স্বাক্ষর। আজ নারীর পদচারনা মহাকাশ থেকে সিন্ধুতল। আঞ্চলিক থেকে আন্তর্জাতি উভয়ক্ষেত্রেই সংসদ নারী প্রতিনিধিত্বের হার মাত্র ১৫ শতাংশ। বিশ্বের অনানুষ্ঠিক রাজনৈতিরক নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহনে ১০ ভাগের ও বেশি। এ পর্যন্ত ২১ ভাগেরও বেশি রারী রাষ্ট্র প্রধানের পদ অলংকৃত করেছেন। জাতিসংঘের ৫ জন নারী। মোদ্দাকথা, শিক্ষা, সাংস্কৃতি, রাজনীতি, প্রশাসন সকল ক্ষেত্রেই স্বর্ণ সোপানে আরোহন করেছে। বাস্তব নির্মম । এত প্রচেষ্টা, স্বাধীনতার এত দূর্বার আকাঙ্খা , বিনিময়ে কি পেয়েছে আজকের নারী সমাজ? নারী পুরুষের অযৌক্তিক সমতা আনতে যেয়ে নারী সমাজ বরাবরই প্রহসনের শিকার। দাম্পত্য জীবনের বন্ধন থেকে নিজেকে ছিন্ন করতে যেয়ে নারী সমাজ আজ অবাধ যৌনাচারের সুলভ মাধ্যম। নারী পুরুষের সহবস্থানে অশ্লীলতা যোগ হচ্ছে নতুন মাত্রায় নতুন আবরণে। সৌন্দর্যকে হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে উন্নতির ¯্রােতে ভেঁসে যেতে আকাঙ্খিক নারী আজ স্বেচ্ছায় নিজেকে সঁপে দিচ্ছে মুনাফালোভী একটি বিশেষ শ্রেণীর হাতে। সম্মান আর মর্যাদার বদলে নারী সমাজ যে অভিশপ্ত জীবন বেছে নিয়েছে, তার বাস্তব ফলাফল অনেক বেশি করুন। নারী স্বাধীনতাবাদীদের উৎপত্তি যে যুক্তরাষ্ট্রে, সেখানেই নারীর অবস্থা এতটাই সংকীর্ণ যে, কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নারী নির্যাতনের শীর্ষে অবস্থান করছে। বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে কমপক্ষে ১২.৫ লাখ কিশোরী গর্ভধারণ করে। সুসভ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি হাজারে ৩০৭ জন নারী সহকর্মী দের দ্বারা যৌন নির্যতনের শিকার হয়। সেখানে সম্ভ্রম। ভারতে প্রতিদিন ১৪ জন নির্যাতিত হয়। অশ্লিষতার বিষবাষ্পে গুমরে উঠছে আমাদের প্রিয় জন্মভ’মির চতুর্পাশ। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বিশ বছরে এদেশে পতিতালয় বেড়েছে ২৬ হাজার । বাস্তবিক পক্ষেই নারী স্বাধীনতার শ্লোগানই যে নারী সমাজ কে কাঙ্খিত মর্যাদা দিতে পারেনি; তা কি সময়ের দাবী না? বর্তমানে নারী জাতীর অবস্থানকে সভ্যতার ধারায় কিসের ভিত্তিতে যাচাই করা যাবে? নাজুক এ পরিস্থিতিতে ইন্ধন যোগাচ্ছে পাশ্চাত্যপ্রেমী মিডিয়াগুলোর নানামুখী প্রচারনা। পাশ্চাত্যের উদর থেকে উগরে ফেলা রেওয়াজকে এসব নারীদের জন্য ধ্যান-জ্ঞান কামনার বস্তুতে পরিণত করছে, তাদের একান্ত কল্যাণকামিরা। সম- অধিকার ও নারী স্বাধীনতার নামে তারা নারীত্বকে টুটি চেপে হত্যা করছে। পণ্যের চটকদার বিজ্ঞাপনের মডেল ও সস্তা ভোগের সামগ্রীতে পরিণত করে সুকৌশলে লুন্ঠন করছে নারীর মান-সম্মানকে। স্বভাব সুলভ সরলমনা নারীরাও সমান অধিকারের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে লিপ্ত হচ্ছে অশোভনীয় কর্মকান্ডে। এই সকল চিহ্নিত সমস্যা সনাক্ত করে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমতঃ মূল্যবোধের অবনতি, নৈতিক চরম অবক্ষয়, নৈতিক শিক্ষা বিবর্জিত শিক্ষা কাঠামো ও দুর্বল মানুষিকতা এবং সত্য সমাজ নির্মাণে উদ্যোগ গ্রহনকারীর অভাব। অথচ আজ খেকে ১৫শ বছর আগে জীবন্ত প্রোথিক কন্যার মর্মান্তিকতা রোধে উদীত হয়েছিলো যে আলো করবী, মূল্যোবোধের চর্চাই ফিরিয়ে দেবে জাতি হিসেবে আসল মর্যাদা। আমরা অর্জন করতে পারবো কাঙ্খিত লক্ষ্য। তারই স্বীকারোক্তি করেছেন ফরাসী লেখিকা মারহাম হ্যারি।
কোন করুণা নয়, নারী অধিাকর নিশ্চিত করণের মাধ্যমে নারীর সকল মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করাটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দায়িত্ব প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার । নারীকে প্রকৃত মর্যাদা প্রদান করে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। কেননা নারী পুরুষের সমান দায়বদ্ধতায় গড়ে ওঠে এক একটি পরিবার। আর একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবারই পারে একটি সুস্থ শিশু উপহার দিতে। একজন মেধাবি সন্তান উপহার দিতে। আর একটি দেশের সুন্দর পরিবার ব্যাবস্থা একটি নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ উপহার দিতে সক্ষম। যা একটি উন্নত দেশের পূর্বশর্ত। তাই নারীকে এই বাজার অর্থনীতির বাজারে পণ্য নয়, বরং তার সত্ত্বার মর্যাদায় তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারা যেভাবে আমার ধর্মীয় স্বাধীনতা লুন্ঠিত করেছে।

লিখেছেন তানভির জুমার, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ১২:৪৪

এদেশে এখন সুযোগ পেলেই ইসলাম ধর্ম আর মুসলমানদের খোঁচানো হয়। খোঁচানো ব্যক্তিদের অনেকে তথাকথিত প্রগতিশীল। পশ্চিম বঙ্গ আর হিন্দী সংস্কৃতিতে তাদের কোন সমস্যা নেই। সমস্যা শুধু ইসলামী বিষয়ে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

খুঁড়িয়ে হাঁটা সেই ছেলেটি

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:৪৯




বাবা-মা কখনো ছায়াদার বটবৃক্ষ, কখনো আঘাতের বিপরীতে ঢাল, নিকষ আঁধারে আলোর মশাল, বিষাদে স্বস্তির নিঃশ্বাস, বিপদে পরম আশ্রয়, আবার কখনো-বা শত্রুর বিপক্ষে মহাপ্রলয়। বাবা-মায়ের হাতে অদ্ভুত এক ক্ষমতা রয়েছে। কথাটিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঋণ/কিস্তির ফাঁদে আটকে যাচ্ছে গ্রামের অনেক মানুষ।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকাল ১০:৫৬




মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ছেলে-মেয়েকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর সালমা বেগম (৩৫) নামের এক মা গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ঋনের চাপ সামলাতে না পেরে। এটা গেলো পত্রিকার খরব।... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মোকিং একেবারেই ছেড়ে দিতে পারা মানুষদের চিনেন?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৫:৩৬








আসক্তির মাঝে নিকোটিন( স্মোকিং) খুব স্লো প্রসেস;টানা ২০/২৫ বছর হাফ প্যাক করে কন্টিনিউ করললে খুবই ড্যান্জারাস রেজাল্ট শো করে। হেরোইন,কোকেইন, অ্যালকোহল,মেথের পরেই নিকোটিনের অবস্থান।পৃথিবীতে বিলিয়ন মানুষ স্মোকিং করে,প্রতিদিনই মিলিয়ন মারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমেরিকার অর্থনীতি সুদের উপর নির্ভরশীল

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৩৫



আমেরিকার সরকার নিজের জনগণ থেকে ঋণ নেয়, মানুষকে সুদ দেয়; ইহাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসা; এই মহুর্তে এই এই ঋণের পরিমাণ হচ্ছে, ৩২,০০০,০০০,০০০,০০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×