somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এনিম্যাল ফার্ম

০৩ রা জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জর্জ অরওয়েল-এর ’এনিম্যাল ফার্ম’ -এ আমরা দেখি যে, ফার্মের মালিকের অপশাসনের বিরুদ্ধে সকল প্রানী একত্র হয়ে বিদ্রোহ করে, মালিককে পরাজিত করে তাড়িয়ে দেয় এবং নিজেদের স্বশাসিত ঘোষনা করে । এর কেন্দ্রীয় চরিত্র নেপোলিয়ন পরবর্তীতে মানুষের মতো জীবন-যাপন শুরু করে, হুইস্কির অর্ডার দেয়, মানুষদের সাথে পশু বানিজ্য করে । এক টেবিলে খাওয়া-দাওয়া করে । এভাবে সে তার পশুত্ব হারিয়ে ফেলে মানুষের কাতারে উঠে আসে। অতপর, আবারো মানুষের আক্রমনে স্ব-শাসিত প্রানী ফার্ম ধ্বংস হয় । এটি একটি বিদ্রপাত্মক, কাল্পনিক কাহিনী যেখানে পরীক্ষামূলক বাস্তব চিত্র তুলে ধরে প্রমান করার চেষ্টা হয়েছে যে প্রানীরা স্বশাসিত হলেও মূল সমাজ-ব্যবস্থার পরিবর্তন হয় না এবং শাসক শ্রেনীর চরিত্র একই সমতলে থাকে বা সামঞ্জস্যপূর্ন হয়- আলাদা কোন প্রত্যাশিত বাস্তবতা তৈরী করতে পারে না ।
তারও অনেক দিন পরে ২০২৪-এ এক এনিম্যাল ফার্মের জনৈক এলিট ছাগল দুর্ধর্ষ শক্তিমান এক দুর্নীতিবাজকে পেঁড়ে ফেলে । অপিচ, দ্রুতই সেই ছাগল নেপোলিয়নের মতো অথবা তারও থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠে । তাই তার বেড়ে উঠার জায়গাটা হুমকি বিবেচনা করে দ্রুত আক্রমনে গুড়িয়ে দেওয়া হয় । ভবিষ্যতে যাতে কেউ এধরনের ঝুঁকিতে না পড়ে অথবা আর কারো ’ভ্যালুয়েবল সিক্রেট’ ওপেন হয়ে না পড়ে । পনের লাখ টাকার ছাগল কিংবা এক কোটি ছিয়াশি লাখ টাকার গরু কিনে যারা অশেষ সওয়াব ও দো-জাহানের কামিয়াবি হাসিল কর্তে চেয়েছিলেন,
# তারা কি কোন এফবি স্ট্যাটাস বা ইউটিউব ভিড্যু দিয়ে প্রতিবাদ করবেন ?
# কেন এবং কি করে তাদেরকে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হল ?
# আখিরাতে তারা কি জবাব দেবেন ?
# টেকা-টুকার হ্যাডম দেখানোর এমন মওকা হাতছাড়া হলে কেমন লাগে?
এরি মাঝে কিছু ধূর্ত নেকড়ে এবং খেকশিয়ালের দল আরো বেশী সতর্ক হয়ে উঠবেন আর নিরাপদ সময়ে আটলান্টিক অথবা প্যাসিফিক পাড়ি দিয়ে কোন নিশ্চিত মানবিক ডেরায় মাগ-ছেলেমেয়ে নিয়ে বাকী জিন্দেগী সুখে-শান্তিতে কাটিয়ে দিবেন । এই আবালের দেশে আর নয়, যেখানে ছাগলে ল্যাদায় ঢেকে যায় বড় সাহেবের চেয়ার, স্ত্রীর নেতৃত্ব, সুদৃশ্য রিসোর্ট, হর্ম্যশোভিত দালান, পক্ষিনিবাস আর রেশমী সুখের দ্বি-পত্নীক সুখের সংসার । সমঝদারদের জন্য ইশারাকে লিয়ে কাফি । দেশটি ছাগলদের জন্য ঠিক আছে বলে বিজ্ঞজনের ধারনা ।
পৌরানিক গল্প বলি, একবার এক রাজা মৎস-শিকারে বের হবার সময়ে রাষ্ট্রীয় আবহাওয়াবিদের পরামর্শ চাইলেন । দিনটি ছিল চমৎকার রৌদ্র-করোজ্বল, সাথে মৃদুমন্দ দখিনা বাতাস আর উপরে পরিস্কার নীলাকাশ । পরিচালক মহোদয় এইসব নমুনা এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষন করে বল্লেন যে দিনটি হবে উজ¦ল এবং বৃষ্টি হবার কোন সম্ভাবনা নাই । সুতরাং, মৎস শিকারের জন্য আজ আবহাওয়া অত্যুত্তম । গোবু এবং সভাসদগন সেই হিসাবে প্রসন্নমনে রওনা হলে কিছুদুরে এক ছাগ-মালিকের সাথে দেখা হয় যে কিনা ফিরতি পথে উর্ধশ্বাসে ছাগলের সাথে দৌড়ুচ্ছিল । তার এমন দৌড়ের কারন জানতে চাইলে সে বলে যে, খুব জোর বৃষ্টি হবে তাই তার আগেই সে নিরাপদে ঘরে ফিরতে চায় ।
এমন সূর্যকিরনে ভরা দিনে এটা কি করে হবে এমনকি যেখানে রাজ্যের প্রধান আবহাওয়াবিদও দ্বিমত করেন নি সেখানে এই সামান্য রাখাল কি বলে । কেউ কেউ লোকটির মাথার গন্ডগোল আছে বলেও সন্দেহ করলেন ।
কিন্তু, অনতিদুরে দু’কিলোমিটার পথ পারি দিলে উম্মুক্ত পথে হঠাৎ করে আকাশে ঘন কালো মেঘ আর বাতাস বয়ে গেলে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয় । পথিমধ্যে কোন গাছ বা শেল্টার না থাকায় মান্যবর গোবুচন্দ্র এবং তদসংগীয় রাজপুরুষগন ভিজে চুপসে গিয়ে শিকারে যতি দিয়ে প্রাসাদে ফিরে আসেন ।
তলব করেন চীফ মিটিওরলজিস্টকে, ভুল রিপোর্টের জন্য কারাগারে নিক্ষেপ করেন তাকে । একই সাথে তলব করেন সেই দৌড়বাজ মেষপালককে । সে হাসিমুখে তার ছাগলসহ রাজদরবারে উপস্থিত হয় । গোবু আদেশ করেন যে, পরবর্তী তিন দিন তাকে মেঘ-বৃষ্টির আগাম খবর বলতে হবে । সেই মতে সেই ছাগ-পালক পরবর্তী তিনদিন সঠিক খবর জানিয়ে যায় । রাজা আদেশ দেন যে, এই লোক, ছাগ্লিক মফিজ আজ থেকে রাজ্যের প্রধান আবহাওয়াবিদ হিসাবে নিয়োগ পেলেন ।
আচমকা এই আদেশে ছাগু মফিজ হত-বিহ্বল হয়ে পড়ে, জোড়হস্তে রাজাদেশ প্রত্যাখ্যান করে । কারন জানতে চাইলে সে সবিনয়ে বলে, হুজুর, বৃষ্টির খবর আমি কি জানি, জানে আমার ছাগলে । আমি কিচ্ছু জানি না স্যার । তবে জল-ঝঞ্চা হবার দু’ঘন্টা আগে থেকে আমার ছাগল ম্যাঁ ম্যাঁ করে, লেজ নাচায় আর ল্যাদাতে থাকে । এই থেকে আমি বুঝতে পারি ঝড়-বৃষ্টি হবে, এর বাইরে আমি কিচ্চু জানিনে জাঁহাপনা- আমি ও ডিউটি কর্তি পার্বিনা নে । রাজা বলেন, ওকে, তবে তাই হোক, আজ থেকে ঐ ছাগলই হবে দেশের প্রধান আবহাওয়া কর্মকর্তা, সি.এম.ও।
সেই থেকে গোবুরাজ্যে আবহাওয়াবিদের চেয়ার অলংকৃত করে আছেন সেই প্রাজ্ঞ বরাহ ।
মহামতি গোবুর পদাংক অনুসরন করে, কোন কোন কমিশনে কি ছাগল স্কোয়াড নিয়োগ দেওয়া যায় না ? তারা নিরীহ কিন্তু কাজের বলে ইতিধ্যে নিজেদের প্রমান করেছে । দেশের বাঘা-বাঘা সাংবাদিক, দেশপ্রেমিক রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবি, চৌকশ পুলিশ এবং অন্যান্য গুপ্ত বাহিনী যেটা পারেন নাই, সেটা এই সামান্য ম্যাঁৎকৃত প্রানীটি অবলীলায় করেছে ।
ছাগসমাজের এমন সম্মান কালে কালে হয়েছে, সাদিক এগ্রো-ই শুধু বংশীয় প্রানী পালনকারী নন এমনকি মহান গান্ধীজির প্রায়শই ভ্রমনসঙ্গী হয়েছে এক দুগ্ধবতী ছাগী -যার দুধ তিনি পান করতেন ; ইতিহাস স্বাক্ষী ।
অধুনা ১২ লাখ টাকার এই সেলিব্রেটি ছাগলের গুতায় প্রভাবশালী লোকের জীবন-জীবিকা, মান-সম্মান, ঘর-বাড়ী, ছেলে, স্ত্রী, পরিবার যাবতীয় তাসের ঘরের মতো ধ্বসে পড়ে, শেষমেষ ছাগলের মালিকের খামার অব্দি গুড়িয়ে যায় । তাই তারা বলছেন অবশেষে, এ ছাগল সর্বনেশে । তোরা কেউ যাসনে ও ছাগলের কাছে । ’ছাগল হইতে সাবধান’ ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৪ সকাল ১০:১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লাভ কার হলো?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে মে, ২০২৬ ভোর ৬:১৮


দীর্ঘদিন একটি দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে, সরকারের ভেতর এক ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়। তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দেশের প্রকৃত অবস্থা আড়াল করতে ব্যস্ত থাকে। বাংলাদেশেও সেই বাস্তবতা ছিল।
২০২৪ সালের আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়রে জীবন!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

হায়রে জীবন!

যারা বছরের পর বছর রাষ্ট্রক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে মানুষ গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পরিবার ধ্বংস করেছে, রাষ্ট্রকে ভয় ও আতঙ্কের কারখানায় পরিণত করেছে- তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন আজ “ভিআইপি আসামি”।
কারাগারেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

রসময় গালগল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



প্রতিদিন ভাবি তুমি এলে বেশ জমিয়ে করবো-
রসকষহীন কাঠখোট্টা গল্প!
আমার সঞ্চয়ে নেই কোনো রসময় গালগল্প-
যা থেকে পেতে পারো যৎকিঞ্চিত উষ্ণতা।

আমি ঠিক নিশ্চিত নই আদৌ তুমি আসো কিনা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদযাত্রায় সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৪ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২১



ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×