somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেকার রাত

১২ ই মে, ২০১২ রাত ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একা একা হাঁটছি। আচ্ছা কয়টা বাজে এখন? হাতের ঘড়িটার দিকে তাকালাম। মাত্র পৌনে ১ টা। এখন একটা জিনিস উঠেই গেছে। এখন কেউ হাতে ঘড়ি পড়ে না। মুঠোফোন নামক যন্ত্রটার ব্যাবহার বেরে যাওয়ার পর মানুষের আর হাতে ঘড়ি পড়ার কোনো দরকারই পড়ে না। আচ্ছা কি সব চিন্তা করছি। মানুষ হাতে ঘড়ি পড়লেই আমার কি আর না পড়লেই আমার কি। অলস মানুষের চিন্তা শুধু আজেবাজে জিনিসের দিকেই যায়। আমার চেয়ে অলস আর কে আছে। কোনো কাজকর্ম নাই। আগে চাকুরির জন্য কিছু চেষ্টা তাও করতাম। কিন্তু এখন তাও আর করছি না। এমন একখানা ভাব নিয়ে চলছি যে চাকরি আমার কাছে হেটে এসে এসে বলবে যে আমাকে বরণ কর ।
কি করব এখন! বাসায় ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে না। বাসায় ফিরে যাওয়ার পরই হয়ত মা আমাকে সংসারের নানা অসুবিধার কথা বলবে। হয়ত বলবে যে তোর ভাইয়া আর একা পারছে না। বাবা, ছোট একটা কিছু হলেও কর। ভাল লাগে না। এর চেয়ে এই নির্জন রাস্তায় একা একা হাঁটাও অনেক ভাল। অন্তত কিছু সমস্যা থেকে তো নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারছি। ভেবে অবাক হই যে আমি এখন সমস্যা থেকে দূরে থাকি। সমস্যার মুখোমুখি হতে ডরাই। এই আমি কি এমন ছিলাম? কই না তো, এমন তো ছিলাম না।
সারা রাত আমার বাইরে থাকার ইচ্ছা টা ঠিক আছে। কিন্তু সমস্যা হল পকেট তো একবারে ফাঁকা। দুপুরে ও কিছু খাওয়া হয় নাই। রাত এও কি তাহলে না খেয়েই থাকতে হবে। অবশ্য এইটা ও আমার মত ছেলেদের জন্য খুব বড় সমস্যা না। বেকারদের জন্মই হয় না খেয়ে থাকার জন্য। কিন্তু তার চেয়েও বড় সমস্যা হল কিছুক্ষন আগে দেখলাম প্যাকেটে একটা মাত্র সিগারেট বাকি আছে। এই জিনিস ছাড়া একটা নির্জন রাত পার করা অসম্ভব ব্যাপার। এখন একটাই করনিয় আছে। ইফাদের কাছে যেতে হবে। এস. এম. হল থেকে ইফাদকে বের করতে হবে। ইফাদের পড়াশুনা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেলেও আমার মত বেকার হওয়ায় এখনো তাকে হলেই পড়ে থাকতে হচ্ছে। এখন ইফাদকে বের করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ওকে বের করলে ৩ টা লাভ হবে।
প্রথমত, রাতের সিগারেটের যোগান হবে।
দ্বিতীয়ত, পলাশীর মোড় থেকে চাইনিজ নামক অতি উৎকৃষ্ট খাবার খাওয়া যাবে।
তৃতীয়ত, সারা রাতের জন্য আরেকজন বেকার পাওয়া যাবে।
যেহেতু ইফাদের কাছেই যাচ্ছি তাই সাহস করে শেষ সিগারেটটা ধরিয়েই ফেললাম। খালি পেটে ও যে কি ভাল লাগল। হাতে জলন্ত সিগারেটটা নিয়ে হাটতেও ভাল লাগতেছে। আচ্ছা এমন কেন হয়ে গেলাম।
এই আমি ই তো এক সময় খুব স্বপ্ন দেখতাম। এই আমিই তো এক সময় বন্ধুদেরকে নিয়ে কোন পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকার বাইরে যেকোনো জায়গায় ঘুরতে চলে যেতাম। এই আমি তো এক সময় ঘরে ঢুকেই মাকে গিয়ে দৌড়ে জড়িয়ে ধরতাম। মা, আমাকে কপট রাগ দেখিয়ে বলত, “কি হচ্ছে এই সব। এতো বড় হয়েছিস, তারপর ও ছেলেমানুষী গেল না।“
এই আমিই বাবার সাথে টিভিতে খেলা দেখার সময় আটঘাট বেধে বাবার সাথে ঝগড়া করতাম। ভাইয়া বাসায় আসলেই শুরু করত আমারে টিটকারি মারা। আমার কোন বান্ধবীর ফোন ভাইয়ার সামনে আসলেই আমার দিকে তাকিয়ে একটা মিচকি হাসি দিত। কোথায় আমার সেই দিনগুলি। খোদা, তোমার কাছে চিৎকার করে সেই দিনগুলি ফিরত চাইতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু কেন জানি মনে হয় আমার মত অভাজনদের জন্য তোমার দুয়ারটা হয়ত সব সময় ই বন্ধ। আসলেই সেই দিনগুলির কথা খুব মনে পড়ছে। তোমার কাছে যদি চিৎকার করে সব ফিরত চাই তুমি কি আমার আগের দিনগুলি আমাকে ফিরত দিবে???
ইফাদকে ফোন করেছিলাম কিছুক্ষন আগে। এস. এম. হল এর গেটে দাঁড়িয়ে আছি। ওই যে ইফাদকে দেখা যাচ্ছে। হাতের সিগারেটটি সেই পরিচিত ভঙ্গিতে টানতে টানতে আমার দিকে এগিয়ে আসছে।
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×