somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেঈমান বাথরুম !!

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতরাতে সরল মনে বাথরুমে ঢুকসিলাম, তারপর দেখি আর বাইর হইতে পারিনা !! দরজার তালা লক খায়া গেসে!

এই মুচড়াই সেই মুচড়াই, তালা আর খুলে না !

হালকা আওয়াজ দিলাম, এই শুনছো...
কেউ শোনে না...

শরমে গলার আওয়াজও উচু করা যাইতাসে না...

ওদিকে পরিবারের সবাই টিভিতে পারিবারিক কলহ দেখতাসে আর কার দুঃখে না জানি আহা উহু করতাসে৷

বিপদজনক পরিমান সময় বাথরুমে অতিবাহিত কইরা ফেল্লাম, কেউ আমারে খোজ করলো না !!
দু:খ ভারাক্রান্ত মনে ভাবা শুরু করলাম, কি লাভ এই অর্থহীন কলুর বলদের জীবন রেখে !!??...কি লাভ ??!!

অবশেষে বিছানায় মশারী খাটানোর দরকার পড়লো যখন, তখন এই অধম এর "খোজ - দ্য সার্চ" এন্ড "পাইসি - দ্য ফাউন্ড" !!
আমি ততক্ষনে চরম উদাস হয়ে গান ধরছি, "ভেংগে মোর ঘরের চাবি, নিয়ে যাবি কে আমারে..."

যাইহোক, আমার বউ তার কারারুদ্ধ স্বামীর মুক্তির জন্য দরজার নবের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়লো, পিচ্চি পোলা এসে দরজায় দুটো মোলায়েম লাথি দিয়ে গেল, আব্বা আইসা - নাম না জানা - ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত - সেই অকাল কুষ্মান্ড কাঠমিস্ত্রীকে প্রচুর বকতে লাগলো, প্রচুর !! সাথে আমাকেও, "এত বড় হইসে উজবুক, এখনো বাথরুমের দরজা লাগাইতে শিখলোনা !!"

ছোট ভাইয়ের ডাক্তার বউ একটা স্কালপেল দরজার নিচে ঢুকাইয়া দিয়া বলল," ভাইয়া এইটা দিয়া চেষ্টা করেন !" আমি একটু কনফিউজড খায়া গেলাম, এইটা দিয়া কি করবো? নব কাটবো, নাকি হাতের শিরা কাইটা সুইসাইড খায়া মইরা যাবো ?

আর আম্মা সবাইকে সামলাইতে গিয়া নিজেই মাইনকা চিপায় পইড়া গেল !!

এই এলাকার একমাত্র শখের কাঠমিস্ত্রীর খোজ পড়লো, যিনি আবার পেশায় দারোয়ান৷ এজ ইউজুয়াল তাকে ধরাধামে খুইজা পাওয়া গেল না !!

আমি যখন বাথরুমে রাত কাটানোর মানসিক প্রস্তুতি নিয়া কমোডের পাশে গামছা বিছায়া ঘুমাইয়া পড়ার কথা ভাবতেসি, তখনই বাংলা সিনেমার ভোটকা নায়ক জসিমের মত হাজির হইল আমার ভোটকা (ওর ভাষায় স্বাস্থ্য একটু ভালোর দিকে) ছোট ভাই !! "আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না..." বলেই হেইয়ো.... দিল দরজায় এক ধাক্কা !!

গ্রিল চিকেন খাইয়া ডায়েট করা আড়াই মন ওজনের ধাক্কায় সাথে সাথে দরজার নব টা উইড়া কমোডে চইলা গেল আর লক টা হইয়া গেল ফোকলা !!

আমি ধীরে ধীরে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে নাড়তে হাসিমুখে বাথরুম থেইকা বাইর হইয়া আসলাম !!

আফসোস, কেউ ফুলের মালা দিয়া বরণ কইরা নিল না !!





সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:২৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভ্রমণব্লগ: আলোছায়ার ঝলকে এক অপার্থিব যাত্রা”

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬

মালয়েশিয়া আমার বেশ পছন্দের একটি দেশ। আমার জীবনের একটি অংশের হাজারো স্মৃতি এই দেশে। একটা সময় ছিল যখন এই দেশ ছিল আমার সেকেন্ড হোম।‌ এখন ও আমার আত্নীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোরআন-হাদিস মানতে বলার ওয়াজ একটি ভুল ওয়াজ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×