somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বাঙালির ব্লগ ও মানুষকে পশু বানানোর বন্দোবস্ত

১১ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
রাত করে ঘুরতে ঘুরতে একটা ব্লগের লেখা দেখে চোখ আটকে গেল। তারপর পড়া শুরু করলাম। আর পড়তেই সেই পুরোনো চালবাজি আর নব্য বাঙালি আধিপত্যবাদীতার চিহ্ন খুজে পেলাম।
বল্গটা বাঙালি নামের এক ভদ্রলোকের দেয়া। একজন রোহিঙ্গা শরনার্থীর কীর্তিকলাপ নিয়ে লিখিত পোষ্ট।

সেখানে অনেককেই দেখলাম কমেন্টও করেছেন। কেউ কেউ শাস্তিও দিয়েছেন বা চেয়েছেন। আবার একজন তার ৮ দিনের ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করলেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রোহিঙ্গা সম্পর্কে আপনারা কতটা জানেন বা কেউ কি কুতুপালং/নয়াপাড়া/লেদা/খাংড়া এসব ক্যাম্পে গেছেন?
আমার মনে হয় কেউই যান নি আপনারা। কারণ ওরকম টয়লেটের দুর্বিসহ গন্ধ আর চামড়া পোড়ানো তাপ সয়ে ওদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে বেড়ানো আসলেই চাট্টিখানি কথা না। মোটামুটি হিম্মতের ব্যাপার। ঘুরে আসার পর নির্ঘাত টয়লেট টু বিছানা বারবার। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে আমি এর সবকটি ক্যাম্পেই বেশ কয়েকবার করে গিয়েছি। না, কারও বা কোনো এনজিওর পক্ষ হয়ে নয়। শুধুমাত্র নিজের জন্য, সত্য অনুসন্ধানের জন্য,মানবাধিকারের জন্য,জিও পলিটিক্যাল ইস্যুর জন্য আমার এ ঘুরে বেড়ানো।
রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে শরনার্থী। ১৯৯২ সালে তারা নাফ নদী পার হয়ে আমাদের দেশে ঢুকে পরে। তাদের দেশে সামরিক সরকারের কারণে তারা থাকতে না পেরে আমাদের এখানে তারা আশ্রয় গ্রহন করতে বাধ্য হয়েছে। একঅর্থে তারা আমাদেরই মানবিক মেহমান। কিন্তু আমরা তা চিন্তা না করে উল্টো পশুর মতো ব্যবহার করি। কারণ আমরা জাতি হিসেবেই একটু নিমকহারাম কিনা। আমরা ভুলে যাই ৭১ সালে আমরাও শরনার্থী ছিলাম পাশের দেশে। আমাদের দেশেও সামরিক বাহিনীর দৌরাত্ম ছিলো।
যাই হোক এবার কাজের কথায় আসি। নিউজটা লিখেছেন নুরুল করিম রাসেল নামের এক সাংবাদিক। এই সাংবাদিকের বহু আগে থেকেই এমন ভুড়ি ভুড়ি নিউজ করার অভিজ্ঞতা আছে। এমনও দেখা গেছে ঘটনা ঘটার আগেই নিউজ চলে গেছে ট্রেসিং রুমে। এই হলো নুরুল করিম রাসেল। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে হাতে গোনা ২জন সাংবাদিক কাজ করেন ওখানে। এই দুই জনের কাছ থেকেই বাংলাদেশের সকল পত্রিকায় নিউজ যায়। তারমানে এই দুজন যদি বলে কুতুপালং ক্যাম্পে ছেলেরা ভয়ে গাছে উঠে আছে আর তাদের বীর্যে সিক্ত হবার জন্য সাত সাতজন করে রোহিঙ্গা নারী রীতিমতো নাচনকোদন করছে তাহলে সেটাই পরদিন সব পত্রিকায় আসবে এবং আমাদেরকে সেটাই বিশ্বাস করতে হবে। একেই বলে আধিপত্যবাদীতা। তানা হলে তিনি কিভাবে লিখতে পারেন " রোহিঙ্গা নরপশুর কান্ড " । একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষকে না জেনে না চিনে কিভাবে নরপশু বলা সম্ভব।
আমি মাত্র ২ দিন আগে ওই ক্যাম্প থেকে এসেছি। ক্যাম্পটি কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পের গা লাগেয়া।(এখানে বলে রাখা বিবেচ্য, ওখানে ক্যাম্প দু প্রকার। এক হলো রেজিস্টার্ড ও অন্যটি ননরেজিস্টার্ড। রেজিস্টার্ডে থাকে প্রায় ১৫০ পরিবারের মতোন এবং তাদের জীবন জীবিকা মোটামুটি ভালোই, সরকারী রেশন তাদের নিত্য প্রাপ্য বিষয়। কিন্তু আন রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে থাকে আমার দেখা মতে প্রায় ৪৫০০০(শুধুমাত্র কুতুপালং ননরেজিস্টার্ড ক্যাম্প) লোক এবং তাদের জীবন যাপন পুরোই মানবেতর এবং আদিম) সেখানে একপ্রকার অস্থিরতা চলছে। বর্তমানে বিরাজমান এ অস্থিরতা মূলত ভোটার কার্ড এবং বিভিন্ন এনজিও কর্তৃক রোহিঙ্গাদের বিদেশে প্রেরন সংক্রান্ত। এক শ্রেনীর বদমাইশ বাঙালি স্থানীয় ভোটে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করার জন্য তাদের ভোটার আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এতে করে সাধারণ রোহিঙ্গা যারা ননরেজিস্টার্ড ক্যাম্পে থাকে, তাদের ভেতর উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ ওই কার্ডের বিনিময়ে সেই রোহিঙ্গা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে কাজ করতে পারছে এবং সন্মান পাচ্ছে একজন বাঙালি হিসেবে। আর অন্যদিকে বেশকিছু বিদেশী এনজিও রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের বিভিন্ন পরিবারকে বিভিন্ন মেয়াদে তৃতীয় কোনো দেশে মাইগ্রেট করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এতে করেও অসন্তোষ দানা বেধে উঠেছে ওখানে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে যেসকল রোহিঙ্গাই কথা বলতে গেছে হয় তাদেরকে নাফ নদীতে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে নতুবা মাদক থেকে শুরু করে নারী নির্যাতনের মতো জটিলতায় ফাসিয়ে পুলিশে সোপর্দ করছে ক্যাম্প বাঙালিরা। আর এতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীরা।
আজ অবধি রোহিঙ্গা সংক্রান্ত কোনো পজেটিভ নিউজই কোনো পত্রিকায় আসেনি। সেটা ওখানকার আঞ্চলিক পত্রিকা হোক বা রাষ্ট্রীয় বড় কোনো পত্রিকাই হোক। বারংবারই শুধু পত্রিকার পাতায় রোহিঙ্গাদের দেখা যায় ভিলেনের ভুমিকায়। আমি অনেক রোহিঙ্গার সাথে কথা বলেছি, যারা কেউই এই দেশে এরকম মানবেতর জীবন যাপন করতে চায়না। তাদের গ্রাম ছিলো, মসজিদ ছিলো, উঠোন ছিলো। ছিলো তাদের চোখ ভরা স্বপ্ন। অথচ তাদের আজ কিছু নেই। তবুও তারা আশা করে। যদি কোনোদিন তাদের দেশে আবার সুদিন আসে তাহলে তারা আবার ফিরে যাবে তাদের মকানে।

সেই ব্লগ লেখা ( Click This Link )
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ২:৫৫
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×