নীরব ঘাতক হেপাটাইটিস সি
হেপাটাইটিস সি রোগটি সম্পর্কে মানুষের সুস্পষ্ট কোনো ধারণা নেই৷ হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলির মধ্যে সি ভাইরাস সবচেয়ে মারাত্মক বলে মনে করা হয়৷ এই অসুখটিকে চিকিত্সা বিজ্ঞানে নীরব ঘাতক বলেও অভিহিত করা হয়৷ তাই এই ভাইরাসের মোকাবেলায় মাথা ঘামাচ্ছেন এখন গবেষকরা৷
বহু মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত :বাংলাদেশে আনুমানিক ৩ থেকে ৬ ভাগ মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের বাহক৷ বিশেষ করে পেশাদার রক্তদাতাদের মধ্যে অনেকেই এই ভাইরাস বহন করেন৷ হেপাটাইটিস সি’র ভাইরাস সাধারণত দূষিত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়৷ তাই শেভিং রেজার, ব্লেড, টুথব্রাশ ও ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ইত্যাদি সাবধানে ব্যবহার করা উচিত৷ একই সুচ দিয়ে মাদক সেবন করলেও বিস্তৃত হতে পারে হেপাটাইটাইস সি ভাইরাস৷
সাধারণত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথম কয়েক বছর সুস্পষ্ট কিছু বোঝা যায় না৷ শরীর ম্যাজম্যাজ করা, বমি বমি ভাব, চোখ জ্বালা করা, পেশিতে যন্ত্রণা, এই সব রোগের প্রাথমিক লক্ষণ বলে মনে করা হয়৷ রোগীদের খাওয়ায় রুচি কম থাকে, লেগে থাকে পেটের অসুখ৷ এই সব উপসর্গ থেকে লিভার সিরোসিস, লিভার অকার্যকর হয়ে যাওয়া কিংবা লিভার ক্যান্সারের মত কঠিন রোগও দেখা দিতে পারে৷
এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার মত টিকা বের হয়নি৷ এক ধরনের প্রোটিন বা ইন্টারফেরন দিয়ে থেরাপি দেয়া হয় রোগীদের৷ এর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধক শক্তি বৃদ্ধি পায়৷ সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন ওষুধ ছাড়পত্র পেয়েছে, যেটি আরো কার্যকর বলে মনে করা হয়৷
নতুন থেরাপি :পদার্থটির নাম টেলাপ্রেভির৷ এতদিন পর্যন্ত ইন্টারফেরনের সঙ্গে রাইবাভাইরিন নামে এক ধরনের ভাইরাস দমনকারী ওষুধ যুক্ত করে থেরাপি দেয়া হত৷ নতুন ওষুধ টেলাপ্রেভির প্রচলিত থেরাপির বিকল্প হবে না, বরং পরিপূরক হবে৷ তার মানে রোগটির বিরুদ্ধে ত্রিমুখী আক্রমণ করা হবে৷
কয়েকটি সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে হানোফার শহরের মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হাইনার ভেডেমায়ার বলেন, ‘‘প্রচলিত থেরাপিতে ৫০ শতাংশ রোগী আরোগ্য লাভ করেন৷ কিন্তু নতুন ওষুধকে পরিপূরক হিসাবে নেয়ার পর ৭৫ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছেন৷
তার মানে প্রায় ৩০ শতাংশের মত বেশি রোগী উপকৃত হয়েছেন নতুন থেরাপিতে৷ বলা যায়, প্রতি পাঁচ জনে চার জন থেরাপির শেষে সুস্থ হতে পারেন৷ অন্য আরেক বিশ্লেষণে ৮০ শতাংশ রোগীর আরোগ্য লাভের কথা বলা হয়েছে৷”
জটিল ও ব্যয়বহুল :প্রচলিত পদ্ধতির ইন্টারফেরন-থেরাপিটা এমনিতেই বেশ জটিল৷ প্রতি সপ্তাহে একবার ইঞ্জেকশন নিতে হয়৷ তার ওপর ইন্টারফেরনকে শক্তিশালী করার জন্য আরেক ওষুধ ট্যাবলেটের আকারে দিনে দুবার খেতে হয়৷ এই ভাবে ৪৮ সপ্তাহ বা এক বছরের মত চালাতে হয় থেরাপি৷
এর সঙ্গে টেলাপ্রেভির যুক্ত হলে থেরাপির সময়টা কমে ২৪ সপ্তাহে দাঁড়াবে৷ যে সব রোগী প্রচলিত পদ্ধতিতে ভাল হননি, তাদের মধ্যেও ৩০ শতাংশ নতুন থেরাপিতে ভাল হয়েছেন৷ তবে এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে৷
প্রফেসর ভেডেমায়ার জানান, ‘‘টেলাপ্রেভিরের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ত্বকের ক্ষতি হতে পারে৷ শরীরের অর্ধেকই আক্রান্ত হতে পারে৷ চামড়া লাল হওয়া থেকে শুরু করে ফোসকা পড়া এসব কিছুই লক্ষ্য করা যায়৷ অনেক সময় দেখা যায় ডায়রিয়া৷
১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এটা হতে পারে৷ তা হলে এই চিকিত্সা বন্ধ করে দেয়া উচিত৷”
অন্যান্য ওষুধের সঙ্গেও এর মিথস্ক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন বাতের ওষুধের সঙ্গে এটি ব্যবহার করলে৷ প্রফেসর ভেডেমায়ারের ভাষায়, ‘‘এই থেরাপির জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন৷ থেরাপিটা বেশ জটিল, শুধু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার জন্যই নয়৷
এই থেরাপি সঠিক ভাবে না চালালে কিংবা ওষুধ নিয়মিত না খেলে এক ধরনের প্রতিরোধক সৃষ্টি হতে পারে৷ যা রোগীদের জন্য বেশ বিপজ্জনক৷”
নতুন থেরাপিতে নিয়মটাও বেশ কঠোর৷
৮ ঘন্টা পর পর ক্যাপসুল খেতে হয়৷ এজন্য রোগীকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল হতে হয়৷ এই ওষুধকে খুব সস্তাও বলা যায় না৷ সপ্তাহে খরচ পড়ে এক হাজার ডলার৷
ছয় মাসের খরচ ১৭ হাজার ইউরোর মত৷ বলা যায়, হেপাটাইটিস সি দমন করার জন্য নতুন থেরাপি বের করা গেলেও দামটা আকাশচুম্বী৷ তাই এই রোগে আক্রান্ত সব রোগীর চিকিত্সা এই থেরাপির মাধ্যমে দেয়া এখন পর্যন্ত সম্ভব নয়৷
সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন
১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন
অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !
অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন
নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?
ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?
সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন
কাতুকুতু'র কাহিনীনামা
কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।
তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।