কোনোদিন যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে আমাকে বেছে নিতে হবে আজীবন কারাগার অথবা মৃত্যুদন্ড, আমি নিশ্চিত ভাবে বেছে নেবো মৃত্যুকে। মৃত্যকে একদিন বরন করতেই হবে। অন্যদিকে শৃংখলিতভাবে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হওয়া একটা মর্মান্তিক শাস্তি। সেদিক থেকে বিচার করলে আজ যাদের মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্য্যকর করা হল তারা এক অর্থে ভাগ্যবান। ভাগ্যবান তারাও যারা এদের মৃত্যুর ফলে থলের বেড়াল বেড়িয়ে আসার ভয় মুক্ত হল। একবার শুনেছিলাম কোথাও পকেটমার জনতার হাতে ধরা পরলে পকেটমারদের যারা পোষে তারাই নাকি অগ্রগামি হয়ে হতভাগাকে বিপুল উদ্যমে দু'চার ঘা লাগিয়ে ন্যায় প্রতিস্ঠাকারীর বেশে পকেটমারকে জনতার হাত থেকে ছুটিয়ে নিয়ে যায় যেন সে হতভাগা জনতার মারের চোটে তাদের নাম পরিচয় ফাঁস করে না দেয়। এটাতো পুরানা কৌশল। চাতুর্য্যের বেড়াজালে আটকে পরা আমারা এখন গা এলিয়ে দিয়েছি। এখন আর প্রতারিত হওয়াটাকে আমরা প্রথমে আমাদের নিয়তি এবং পরে নিয়ম হিসেবে মেনেই নিয়েছি। কিন্তু কথামালার ধূম্রজালের আবর্তে আমারা যারা কলংক মোচনের আনন্দে নাচছি তারা কি এবিষয়ে সচেতন আছি যে এ পরিকল্পিত হত্যাও একটা কলংকময় বিষয়?? চোর বাটপার ছিনতাইকারি আর ডাকাত লুটেরাদের ভোট দিয়ে জিতিয়ে আমরা ক্ষমতায় বসাই। কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক সেটা নির্ধারন করে আমাদের ক্ষমতাধরদের পোষা বুদ্ধিজিবীর দল। পাবলিক ওপিনিয়নকে পাইলট করে এরাই। এদের তুলে দেওয়া হুজুগেই আমাদের কাছে সাদা হয়ে যায় কালো আর কালো হয় সাদা। খুনিকে খুন করা কি খুব বীরত্বের কাজ? মনে হয় না। তারপরেও এই খুনী আইন আছে ভাল তবিয়তে। বংগবন্ধু হত্যা ছিল একটা রাজনৈতিক হত্যা। আর তাই এই হত্যার ব্যাপারটাই আলাদ। কতবার এই হত্যা মামলার ফাইল খুল্লো আর বন্ধ হলো সেটা দেখেই এর আলাদা হওয়ার বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যায়। এই খুনি আর জমি নিয়ে রেষারেষির জের হিসেবে পরিকল্পিত হত্যার খুনি কি এক? আমি এটা বলতে চাচ্ছি না যে বংগবন্ধুর খুনিদের আলাদা খাতির পাওয়া উচিৎ ছিল। বরং প্রচলিত আইন অনুযায়ি এর শাস্তিই একান্ত কাম্য। সমস্যাটা হলো এই প্রচলিত আইন। আমার মতে এর সংশোধন হওয়া উচিৎ। এই খুনিদের মৃত্যুদন্ডের ব্যাপারটা মানুষ যেভাবে উৎসব মুখরভাবে নিচ্ছে সেটা মধ্যযুগীয় বর্বরতার নামান্তর। যে অপরাধ ঐ পাঁচ খুনি করেছে তাতে শাস্তি যদি হয় মৃত্যুদন্ড, তাহলে ভালো। কিন্তু ভেবে দেখতে হবে মৃত্যুদন্ডের উদ্দেশ্য কি এবং কিভাবে এর প্রয়োগ হওয়া উচিৎ। আমার মতে মৃত্যুদন্ডের উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ পরিশোধিত হওয়ার আশা নাই এমন অপরাধীকে চিরতরে সরিয়ে দেয়া। কিন্তু এই সরিয়ে দেয়ার কাজটাতো আমরা একটু সভ্য উপায়েও করতে পারি। পাশ্চাত্যে কত রকম ব্যাবস্থা আছে যন্ত্রনাহীন মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকর করার। অথচ তার কোনো একটাকেও বেছে না নিয়ে আমরা চালিয়ে দেই ম্যানিলা রোপ এবং সেই পৈশাচিক বর্বরতা দিয়ে যে বর্বরতার বশে এই খুনিরাও খুন করেছিল। তাহলে আমাদের আর ঐ খুনিদের মাঝে পার্থক্যটা রৈল কি? এমন উচ্ছসিত হয়েছি আমরা যেন আমাদের নিজেদের মাঝে খারাপ কিছুই নেই। অথচ রাত পোহাতেই কাল আমরা ছুটবো নিজের কোনো একটা লাভের আশায় অন্যকে বন্চিত করে নিজের লবিং কাজে লাগিয়ে তদবিরের ধান্ধায়। যথারিতি ঘুষ খাবো, মিথ্যাচার করবো, লাম্পট্যের জোয়ারে বেশ্যবৃত্যিতে নামাবো কোনো কমজোরি নারীকে ইত্যাদি আরো নানান জঘন্য কর্মযজ্ঞে মেতে উঠবে নস্ট বাংলার নস্ট মানুষেরা। অথচ এই তাদেরই কি বাহবা প্রদান। যেন তারা সবাই ধোয়া তুলসি পাতা আর একমাত্র ক্রিমিনাল ঐ খুনিগুলোই। সাবাশ বাংগালি
মৃত্যুদন্ড - কলংক মোচন নাকি কলংকের ধারাবাহিকতা?
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....
ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।
ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন
তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-
বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন
দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন
DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।