আমার অনাকাংক্ষিত খুশির দিন।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মা ফোন ধরেই ঢুকরে কেঁদে উঠল। আমিও নিশ্চুপ। মায়ের কান্না শুনছি। মা কোন কথা বলছেনা। শুধু কাঁদছে। এভাবে কতক্ষণ চলল ঠিক জানিনা। তবে অনেকক্ষণ পরে মা বলল কেমন আছ বাবা? বৌমা কেমন আছে? ঠিক কি উত্তর দিব বুঝতে পারছিলাম না। আসলে আমার কাছে কোন উত্তর ছিলনা। তাই ইচ্ছে করেই প্রসঙ্গ এড়ালাম। বললাম কি কি রেঁধেছ? মা বলল শুধু একটু ফিন্নি। তোমার বাবার জন্য। আমি ইচ্ছে করেই ওদিকে আর আগাতে চাইলামনা। আব্বাকে চাইলাম। আব্বার সাথে কথা হলো। ছোট বোনের সাথে কথা হলো ওকে জিজ্ঞেস করলাম মা কিছু খেয়েছে কিনা। ও বলল গতকাল ইফতারির পরে আর কিছু মুখে দেয়নি। মাকে খাওয়ানোর জন্য ওকে বললাম। মা আমার বৌ এর সাথে কথা বলল। দুজনেই অনেক্ষণ কাঁদল। আমি ঈদের দিন কি কি খেতে পছন্দ করি তার একটা তালিকা মা বৌকে ধরিয়ে দিল। আমার বৌ ও মাকে রান্না ও খাওয়া দাওয়া করার অনুরোধের মাধ্যমে তাদের কথার ইতি টানল। আমিও চলে গেলম সাওয়ার সারার জন্য। যওয়ার সময় মনে হলো আমার চোখেও বেশ পানি জমেছে কিন্তু টের পাইনি।
হ্যাঁ এবার আমি ঢাকাতেই ঈদ করেছি। জীবনের প্রথম ঈদ। এর আগেও ঈদ করার সুযোগ এসেছিল তবে থাকতে পারিনি। তখন আমার অনার্স পরীক্ষা। ঈদের মাত্র ৭ দিন পর। তাই আমার বন্ধু মহলের কেউ সেবার বাড়ি যায়নি। আমিও ঠিক করেছিলাম বাড়ি যাবনা। কিন্তু ঈদের আগের দিন আর পারিনি। ছুটে যেতে হয়েছে মায়ের কাছে। কিন্তু এবার আর যেতে পারিনি। বা যাইনি বললেও ভূল হবে। হয়তবা প্রচন্ড ইচ্ছে থাকলে যেতে পারতাম। হয়তবা হেরে গেছি নিজের আবেগের কাছে। অথবা বাস্তবতা আমাকে প্রচন্ড ভাবে বেঁধে রেখেছে এই ইট পাথরে মোড়া শহরটার ঈদ উৎসব গিলার জন্য।
আমি এবার ঈদ গিলেছি। সকাল ৮ টায় ঘুম থেকে উঠে বাড়িতে কথা সেরে সাওয়ার শেষ করতেই ৮.২৫। কোন রকম পাঞ্জাবী পরেই মসজিদে গিয়ে ৮.৩০ এর নামাজ ধরা। নামাজ শেষ করলাম। দেখলাম সবাই চলে যাচ্ছে যার যার গন্তব্যে। অথচ বাড়িতে কমপক্ষে ১ ঘন্টা থাকতে হতো শুধু মাত্র কোলাকুলি পর্ব শেষ করার জন্য। যাক সে সব কাথা না হয় আজ থাক। তবে বাসায় এসে দেখি গৃহিণীর ডিউটিতে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। আমাকে কিছু খাবার ধরিয়ে দিয়ে সে চলে গেল তার অফিসে। আমি তাকে বিদায় দিয়ে খেয়ে দেয়ে এক ঘুম দিলাম। বিকেলে সে বাসায় ফিরলে আমার এক মামার বাসায় গেলাম। আর এভাবেই শেষ করলাম আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের খুশির দিনটি। আল্লাহর কাছে একটাই প্রর্থনা আর যেন কখনোই এমনটি না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে। খুলনা...
...বাকিটুকু পড়ুনআমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,...
...বাকিটুকু পড়ুনমন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com...
...বাকিটুকু পড়ুন