somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসলমান হওয়াই কি অপরাধ? সন্ত্রাসী থকেে সর্তক থাকা প্রয়োজন

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাম্প্রতিককালে বিশ্বের বিভিন্নস্থানে মুসলমান উনাদেরকে নির্মমভাবে যুলুম ও শহীদ করা হচ্ছে। তার প্রতিকার হিসেবে মুসলমানদের কি দায়িত্ব-কর্তব্য ?

‘সূরা বাক্বারায়’ ২৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “যখন হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম তিনি বললেন, তিনি আমার প্রতিপালক- যিনি জীবন দেন ও মৃত্যু ঘটান। সে (নমরূদ বললো, আমিও তো জীবন দেই ও মৃত্যু ঘটাই। হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সূর্যকে পূর্ব দিক হতে উদয় করেন। তুমি পশ্চিম দিক হতে উদয় করাও তো? অতঃপর যে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিলো, সে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লো।” সমূহ তাফসীর শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, এই নাফরমান ব্যক্তিই হলো- খোদাদ্রোহী, খোদা দাবিকারী নমরূদ। ১৭শ’ বছর সারা পৃথিবী রাজত্বকারী, খোদা দাবিকারী নমরূদকে শেষ করে দিতে মহান আল্লাহ পাক উনার একটা আদনা কানা-খোঁড়া মশাও ব্যয় হয়নি। সুবহানাল্লাহ!

সাম্রাজ্যবাদী সন্ত্রাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের দোসরদের ঔদ্ধত্য যেন নমরূদের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ একে হুমকি, কাল ওকে ধমকি, আজ এ মুসলিম দেশ দখল, কাল ওই মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এখন তাদের নিত্যনৈমিক্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরাক দখল, আফগানিস্তান ক্ষতিগ্রস্ত করার পর পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে বোমা হামলার ঘোষণাও তারা দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! সমস্ত মুসলিম বিশ্বকে করায়ত্ত করার হিংস্র আস্ফালনে তারা উন্মত্ত হয়েছে। কিন্তু মুসলমান উনারা যে মহান আল্লাহ পাক উনাকে মানেন, সে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে নিমিষে তাদের সব মিথ্যা গর্ব আর হুমকি ধূলায় ধূসরিত করে দিতে পারেন। যেমন- টর্নেডো, দাবানল, বন্যা, ঝড়-বৃষ্টি, তুফান, ভুমিকম্প, খরা তুষারপাত ইত্যাদি গযবের দ্বারা তাদেরকে তছনছ করে দেয়া হয়েছে ও হচ্ছে। তারা যদি এখনও তওবা না করে, মুসলমান উনাদের উপর নির্যাতন বন্ধ না করে তবে অচিরেই তারা আরো কঠিন গযবে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ!

‘তোমরা পরস্পর সম্মিলিতভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার রজ্জুকে (পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাকে) আঁকড়িয়ে ধরো। পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই; সব মুসলমান মিলে একটা দেহের ন্যায়, দেহের কোনো এক স্থানে আঘাত পেলে যেমন তা সারাদেহে সঞ্চালিত হয়, তেমনি পৃথিবীর কোথাও কোনো মুসলমান আক্রান্ত হলে পৃথিবীর অন্য সব মুসলমানের মাঝেও তা ছড়িয়ে পড়বে। এবং সবাই মিলে তা প্রতিহত করবে। কাজেই পৃথিবীর প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটির অধিক অর্থাৎ সব মুসলমান উনাদের জন্য ফরয হচ্ছে- আফগানিস্তানে, ইরাকে, সিরিয়ায়, লিবিয়ায়, মিশরে, ফিলিস্তিনে, ভারতে, পাকিস্তানে, চীনে, নাইজেরিয়ায়, মায়ানমারে, ভারতে মুসলমান উনাদেরকে যেভাবে শহীদ করা হচ্ছে যেভাবে মুসলমান মা-বোনদের ইজ্জত সম্মান নষ্ট করা হচ্ছে, সম্পদ লুটে নেয়া হচ্ছে তা প্রতিহতকরণে সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসা।

বিশ্ব নবী (স) ইরশাদ করেন, “সব মুসলমান মিলে একটা দেহের ন্যায়, দেহের কোনো এক স্থানে আঘাত পেলে তা সারা দেহেই সঞ্চালিত হয়।”

ইসরাইল আমেরিকা ও তাদের দোসর ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, চীন, কানাডা, ভারত এরা ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক, লিবিয়া, মিশর, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, কাশ্মির, ভারত, চীন, নাইজেরিয়া ও মায়ানমারসহ প্রায় গোটা বিশ্বেই মুসলমানদের উপর কঠিন যুলুম করছে এবং শহীদ করছে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই পৃথিবীর সকল মুসলমান উনাদের উচিত- এর তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা এবং তা প্রতিহতকরণে এগিয়ে আসা।

উল্লেখ্য, তারা যদি মুসলমান উনাদের প্রতি আগ্রাসী তৎপরতা বা যুলুম বন্ধ না করে তবে তারা প্রত্যেকেই আরো দ্রুত ব্যাপকভাবে খোদায়ী গযবে ধ্বংস হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

অর্থাৎ যারা মুসলমান উনাদের উপর যুলুম করছে বা করবে তাদের সবারই একই পরিণতি হচ্ছে এবং হবে। ইনশাআল্লাহ!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×