
দেশের যেমন সরকারি ভাবে সেনা, নৌ, বিমান তিনটি বাহিনী আছে অনুরুপ বেসরকারি ভাবেও দুইটি বাহিনী রয়েছে এ দেশে যারা বছর জুড়েই যুদ্ধ করে থাকেন। দুটি বাহিনী হলো রেমিট্যান্স যোদ্ধা এক, বিদেশে থেকে যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশে টাকা পাঠান। দুই, গারমেন্টস সেক্টর। এখানেও যারা কাজ করেন তারাও মাথার ঘাম প্রতিনিয়ত পায়ে ফেলে আপন সুখ বিসর্জন দিয়ে কাজ করে যান আর এতে দেশে আসে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।
অথচ এই দুইটি সেক্টরে নেই সরকারি ভাবে কোন পদক্ষেপ আজ কেন গারমেন্টস শ্রমিকরা এভাবে ছুটবেন? কেনো তাদের সরকারী পদক্ষেপে বাড়ি পৌছানো হবেনা আবার কেনো তাদের সরকারী পদক্ষেপে কর্মস্থলে আনা হবেনা। যে জনগোষ্ঠী আমাদের দেশকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছে পরিসংখ্যান কি কিছু বলেনা?
বৈদেশিক আক্রমণের প্রতিরোধ বাহিনী আমাদের আছে। দেশ তাদের জন্য কত কিছু করে থাকে আর সে সব যে সব যোদ্ধারা প্রতিদিন দেশকে দিয়ে যাচ্ছেন হায় কপাল তাদের না আছে বাসায় সুখ, না আছে অফিসে, না আছে রাস্তায়। আমি দীর্ঘ ২২ বছর এই গারমেন্টস সেক্টরে এদের সান্যিধ্যে থেকে দেখেছি কি কষ্ট এরা করে। শান্তিমত খাবে সে সুযোগ এদের মাসেও একদিন জোটেনা। চোখের ঘুম যেনো এদের কাছে হারাম। অধিকাংশ শ্রমিক সমাজের নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে আসে গারমেন্টসে। আর এখানে এসে নিমজ্জিত হয় তারোধিক যন্ত্রণা যাতাকলে।
আকাশের দিকে চেয়ে ভাবে, প্রভু আমাকে বাচতে দাও। শহরের পিচঢালা রাজপথ আর কংক্রিটের প্রাচীরে আপন সুখকে এরা গলাটিপে মেরে ফেলে নিজেকে সংগ্রামী করে তোলে। ঝেপে পড়ে যুদ্ধে। জীবন যুদ্ধ। মাসের শেষে বেতন নামের যে টাকাটা আসে তা হাতে পেয়ে সারাটা মাসের কষ্ট মুখে মৃদু হাসি দিয়ে ভুলে যায়। আর এই সময় টুকুতেই আমার ময়ে হয় এরা হাসে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ এই সকল সুবিধা বঞ্চিত যোদ্ধাদের চলার পথকে একটু সুগম করে দিন। মানবিকের দরদ দিয়ে এদের রাষ্ট্রের কাজে লাগান তাতে এরাও হাসবে সাথে সাথে দেশও ঋন মুক্ত থাকবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০২১ রাত ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



