somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আষাঢ়ের বৃষ্টি ভেজা নৌকা

০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সালটা নব্বই এর কাছাকাছি। কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি। একদম মুষলধারে বৃষ্টি। ঘর থেকে বেরোবার কায়দা নেই। বিশেষ কাজে বন্ধু রাজ্জাক আর আমার জামালপুর শহরে যাওয়া জরুরি। কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে পিছিয়েছি কিন্তু আজ না গেলেই নয়। তাই দুপুরের পর দেখলাম আকাশটায় একটু হালকা বৃষ্টি সেই ফাকে ঝটপট ছাতা মাথায় বেরিয়ে পরলাম দু’জন।

লঞ্চ ঘাটটা ছিলো দফাদার বাড়ির কয়েক হাত দক্ষিণে। সেখানে গিয়ে দেখলাম কোন লঞ্চ নেই। যে গুলো যাওয়ার সব চলে গেছে। কিন্তু উপায়? কে একজন বললেন, উক্কুন কানার ডিংগি নৌকা আছে বলে দেখো যেতে পারে। তাকে কোথায় পাবো জানতে চাইলে বললেন, বাজারের ভিতর দিয়ে যাও সোজা খেয়া খাটের সাথেই একটা গাছের সাথে দেখবা নৌকা বাধা আছে আর উক্কুন কানা ছৈ এর ভিতরে ঘুমাচ্ছে।

তো যথারীতি কিছুটা টেনশন দুই বন্ধু বাজারের ভিতর দিয়ে ঘাটের কাছে গেলাম। স্কুল ফিল্ডের দক্ষিন পূর্ব কোনায় বর্তমান ব্রীজটা যেখানে সেখানেই। দেখা হলো আয়না কাকার সাথে। হ্যা আয়না কাকা বর্তমান আমাদের পরপর কয়েকবারের ইউনিয়ন পরিষদের সন্মানিত চেয়ারম্যান। উনারও জরুরি প্রয়োজন জামালপুর যাওয়া। যাহোক কাকার সহিত কথার বিনিময় হলো। বললাম কাকা, আপনি উক্কুন কানাকে যদি একটু বলেন তবে যাওয়াটা মনে হয় আমাদের সহজ হবে।

কাকা আমার কথাটা বিবেচনায় নিলেন এবং নৌকার কাছে গেলেন। ডাক দিলেন কিরে উক্কুন, উক্কুন? ঘুমাস নাকি?

এমনিতেই আমরা জানি উক্কুন কানা উনি কানেও কম শুনেন চোখেও কম দেখেন তার উপর আবার অনবরত বৃষ্টি।

উক্কুন, এই উক্কুন? কিরে ঘুমাস?
আয়না কাকার কয়েক ডাকেও যখন না শুনছিলো তখন আমি রাজ্জাক দু’জনেই নৌকার রসিটা ধরে নৌকাটাকে টেনে পাড়ের কাছে আনলাম। কাকা এবার একটু ধমকের সাথেই বললেন, কিরে উক্কুন শুনশ না?

ধুচমুচ করে ছৈ থেকে উক্কুন বেরিয়ে এলো। গতরে চাদর। দুই চোখ কচলাতে কচলাতে বলে উঠলো ক্যাড়া, ক্যাড়া তুমি?
আয়না কাকা: আমি আয়না
চল, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ি যামু।

সব কথা ফাইনাল। আমরা ছৈ এর ভিতরে ঢুকলাম। কাকাকে আমরা আগে থেকেই যথেষ্ট সমীহ করতাম। এখনো তার কমতি নেই। তো লজ্জা করে বেশ দূরে দুইবন্ধু পেছনে বসলাম আর কাকা সামনের দিকটাতে বসে গায়ে অফ হোয়াইট রংগের একটা চাদর মুড়িয়ে হাতে দেখেছিলাম একটা বই তিনি বইয়ের পাতায় চোখ বুলাতে লাগলেন আর আমরা দুজনে গল্পে গল্পে।

তো যে কারণে গল্পটা লেখা আর গল্পের রোমান্টিকতা। উক্কুন কানা দাড়ের কাছে হাল ধরে আছে। আয়না কাকা মাঝে মাঝে ডাক দিচ্ছে, কিরে উক্কুন?
ঠিকঠাক চলছেতো?
উক্কুন কানা: হহ, সব ঠিক।
আয়না কাকা: নৌকা এখন কই!
উক্কুন কানা:
দক্ষিনপাড়া ঘাটে।

আয়না কাকা ফের বইয়ের পাতায় চোখ বুলিয়ে যায়। আমরা দুই বন্ধু চুপচাপ বসে। ভয়ও পাচ্ছি আবার আনন্দও পাচ্ছি। কিন্তু অন্ধকার প্রকৃতির সাথে বৃষ্টি কিছুই আচ করতে পারছিনা।

এবার বেশক্ষন পর কাকা ফের ডাক দিলেন, উক্কুন?
উক্কুন কানা: কউ?
আয়না কাকা: কইরে এখন?
উক্কুন কানা: এই জাংগাইলের কাছাকাছি হমু।

আকাশটা শেষ বিকেলে একটু আলোকিত হয়েছে। কাকা ছৈ থেকে সামনে বের হলেন। এদিক সেদিক তাকালেন। হঠাৎ শক্ত কন্ঠে গর্জণ দিয়ে উঠলেন।
আয়না কাকা: কিরে?
তোর নৌকা দেখি ঘাটেই বাধা। তুই এতক্ষণ কি কইলি।

হায়! হায়!! দ্রুত ছৈ থেকে বের হলাম আমি রাজ্জাক। সত্যিই দেখি তাই। নৌকা যেখানে বাধা ছিলো সেখানেই রইছে।
উক্কুন কানা: ধ্যুতরি! শালার কি যে কানা বল্লাই ধরছেনা আইজ!!
দেখলাম গাছের সাথে বাধা দড়িটা ফের খুলছে সে। কাকাও তাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলেন। আমারদের দিকে একবার তাকালেন একটু মৃদু হাসি হাসলেন। আমরাও হাসলাম। তারঃপর আর কি। ফের যাত্রা শুরু।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০২১ সকাল ৮:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×