সবার মতো আমিও অনুভব করলাম ভূ-কম্পন। সম্ভবত ৩-৫ সেকেন্ড ছিল এর ব্যপ্তি। ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছি। মনে মনে প্রার্থনা করতে লাগলাম যাতে ফের ভূ-কম্পন না হয় এবং হলেও যাতে ক্ষনস্থায়ী হয়। তবে যে ব্যাপারটি লক্ষ্য করলাম, তা জানাতেই এ লেখা।
ভয়ে বাসার গেইটের সামনে দাড়িয়ে আমি। এলাকার অধিকাংশ মানুষই তখনও ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি কী হয়ে গেল। তাই তেমন কোন সাড়া শব্দও পাইনি আমরা। কানে এল কাকের আর্ত চিৎকার। একটি কাক মারা গেলে যতোটা তীব্র চিৎকার, তার চেয়ে একটু কম আর্ত চিৎকার। বোধ করি তাতেই মানুষ নিশ্চিত হয়েছে যে, এটি ছিল ভমিকম্প। ভূমিকম্পের এ প্রাকৃতিক প্রভাব আগে আমি বিশ্বাস করতাম না। মায়ের কাছ থেকে শুধু শুনে এসেছিলাম। আজ বিশ্বাস করতে হল। মা বললেন, প্রকৃতিই নাকি ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। তার মধ্যে মানুষ বুঝতে পারে- এমন একটি পূর্বাভাস হচ্ছে, ভূমিকম্পের কয়েকদিন আগে থেকে ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপেক্ষাকৃত তাপমাত্রা বৃদ্ধি। আরও বেশ কয়েক ধরনের পূর্বাভাস রয়েছে যা অন্য প্রাণীরা বুঝতে পারে যেমন কাক, শকুন, কুকুর ইত্যাদি। মায়ের কাছ থেকে এ সম্পর্কে আরও জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, ভূমিকম্প হওয়ার ঠিক আগে আগে নাকি মাটির নিচে বাস করা কীট-পতঙ্গ ও প্রাণীগুলো বের হয়ে আসতে চায়। যেমন, আরশোলা (তেলাপোকা)। তাছাড়াও ভূমিকম্প চলাকালীন সময়ে নদী, পুকুর ও খাল-বিল'এর পানি গুলো ২ ফুট থেকে মাত্রা অনুযায়ী ১০-১২ ফুট পর্যন্ত উপরে উঠে যায়। অনেকটা জলোচ্ছ্বাসের মতো।
আমি জানি না মায়ের কথাগুলো কতখানি বৈজ্ঞানিক। তবে এগুলো নাকি তাঁর নিজের চোখে দেখা ও অভিজ্ঞতাপ্রসূত। মনে মনে ভাবলাম, কী বৈচিত্র্যে ভরা পৃথিবী! ৪.৬ মাত্রার এ ভূমিকম্প যদি আরেকটু তীব্রতর ও দীর্ঘস্থায়ী হতো তবে হয়তো মরেও যেতে পারতাম! এদেশের উদ্ধার তৎপরতায় ঠিক ভরসা রাখা যায় না। অনেকগুলো প্রাণহানি ঘটলেও তাতে প্রকৃতির কাছে কিছু যেত-আসতো না! বেঁচে থেকেও কতটা নির্মম নিয়তির কথা চিন্তা করতে হলো আমাদের, তাই না?
ভূমিকম্প নিয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে আপনারা এ লিংকে যেতে পারেন।
ভূমিকম্প: পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে
স্যার হাইরু ক্যানামরি ও স্যার এমিলি ই ব্রডস্কাই-এর রচনা ও সম্পাদনায় পুরো টেক্সট আপনি পেতে পারেন এ লিংকে। ওয়েব পেইজের ডানদিকে দেখতে পাবেন ডাউনলোড অপশন।
আর সবার কাছে একটি অনুরোধ, ভূমিকম্প-উত্তর পরিস্থিতি মোকাবেলা তথা একটি আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য(!!) উদ্ধার তৎপরতায় আমরা আমাদের প্রত্যেকের জায়গা থেকে আলাদাভাবে সরকারকে যেন সচেতন করে তুলি। আমরা নিশ্চই ভুলে যাইনি যে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে এদেশে ভূমিকম্প হয়েছে। পরবর্তী ভূমিকম্প এখন থেকে আর কয়েক সেকেন্ড ব্যবধানেই হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চই স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দিতে পারি না, তাই না?
সবাইকে ঈদ মোবারক ও শুভরাত্রি।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


