somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিয়ের আনন্দে মৃত্যুর কান্না > সমকাল থেকে (শেয়ার না করে পারলাম না)

০৪ ঠা জুন, ২০১০ রাত ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত তখন ৯টা। রাজধানীর নিমতলী এলাকার নবাব কাটরায় ৪৩/৩ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলায় চলছে বিয়ের পান-চিনি অনুষ্ঠান। নিচতলা থেকে পাঁচতলার ছাদ পর্যন্ত ভবনজুড়ে বিয়ের আনন্দ-হুল্লোড়। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী এ অনুষ্ঠানে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে শামিল হয়েছেন প্রতিবেশীরা। নারী, পুরুষ ও শিশুদের কলগুঞ্জনে মুখর বাড়ির সামনে হঠাৎ বিকট শব্দ। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের স্ফুলিঙ্গ। এরপরই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করতে থাকে ভবনটিকে। আনন্দঘন পরিবেশ বদলে হয় বিষাদময়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আনন্দের হট্ট যেন রূপ নিল লাশের মিছিলে। একে একে এ বাড়ি থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা বের করে আনে ৩৯টি লাশ। মধ্যরাতে অন্ধকার ঘরে উদ্ধারকর্মীরা খুঁজে ফিরছিলেন আরও লাশ। পার্লারে থাকায় কনে রুনা বেঁচে গেছেন।
মারা গেছেন মা, দুই খালা, খালাতো ভাই ও বোন।
ভবনটির পাঁচতলায় বসবাস করেন বাড়ির মালিক ফারুক গুলজার। সদ্য এএসসি পাস ছেলের কাগজপত্র নিয়ে তিনি বাসার বাইরে ছিলেন। দুই ছেলে, স্ত্রীসহ পরিবারের ১১ সদস্য বাসায়। সবাই দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তিনি জানান, বাইরে থাকা অবস্থায়ই তিনি আগুনের খবর পান। এলাকায় ফিরে দেখতে পান তার বাড়ি দাউ দাউ করে জ্বলছে। পরিবারের কাউকেই তিনি জীবিত পাননি। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা জানান, ফারুক গুলজারের বাড়ির ছাদ থেকে মোট ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভবনে আগুন লাগার পর তারা ছাদে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ফারুক গুলজারের প্রতিবেশীরা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই দলবেঁধে অতিথিরা আসতে থাকেন। সন্ধ্যা থেকেই ওই ভবনের তৃতীয় তলা থেকে গান-বাজনার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। পাশাপাশি ছিল নারী, পুরুষ ও শিশুদের কোলাহল। রাত ৯টার দিকে বিকট শব্দে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ হওয়ার পর ওই বাড়ির নিচতলায় প্রথম আগুন দেখা যায়। ভবনের নিচতলা থেকে দ্রুত উপরের ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই ভবন থেকে বুকফাটা চিৎকার ভেসে আসে। সাহায্যের আশায় চিৎকার করতে করতেই অনেকের কণ্ঠ থেমে যায়। বাঁচার আশায় অনেকেই সিঁড়ির দিকে দৌড়ালেও তারা ভবন থেকে বের হতে পারেননি। ভবনে বসবাসকারী ১০টি পরিবারের অধিকাংশই ভেতরে অগি্নদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জানান, ৪৩/৩ নম্বর ভবনের সিঁড়ি সরু হওয়ার কারণে ভবনের বাসিন্দারা বের হতে পারেননি। অধিকাংশ লোক শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। অধিকাংশ লাশ পাওয়া গেছে ভবনের সিঁড়ি এবং ছাদ
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×